অনন্য মানুষ: অনন্য জীবন

প্রণব বিশ্বাস

দোরগোড়ায় বাইশে সেপ্টেম্বর। ক‍্যালেন্ডারে বিশেষ কোনও দিবসে চিহ্নিত নয় তারিখটি। তবু স্মৃতির অনুষঙ্গে দিনটি বড়ই আনন্দের আবার ঘোর বিষাদেরও। এই বাইশে জলিমোহন কলের একশো বছরে পা রাখার কথা ছিল। তিনি নিজেও ছিলেন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু জীবন ক্রিকেটের মতোই গভীর অনিশ্চয়তার যাত্রা। কত বাঘা ব‍্যাটসম‍্যান সারাটাক্ষণ ক্রিজে চরম আত্মবিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকেও নিরানব্বইয়ের বাধা আর শেষপর্যন্ত টপকাতে পারেন না। ক্রিকেট অনুরাগী জলিমোহনেরও হল তাই, ২৯ জুন অকস্মাৎ তাঁর চলা থেমে গেল। দু’দিনের সামান্য অসুস্থতা, চিকিৎসকের সঙ্গে হাসিঠাট্টার মধ্যেই জীবনদীপ নির্বাপিত।

আত্মীয়, বন্ধু, অনুরাগী সবাই আশায় ছিলেন তাঁর শতবর্ষে পদার্পণের দিনটি একটু অন‍্যরকমভাবে উদ্‌যাপনে। উদ্‌যাপন শুনলে তিনি খুশি হতেন না, সকলকে নিয়ে একটু আড্ডা, একটু চা-চক্র এতেই তিনি খুশি। স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল, জন্মদিনে জলিমোহন উজ্জ্বল রঙের টি-শার্ট পরে নিজের চেয়ারে তাঁর সেই স্মিত হাসির উজ্জ্বলতায় সবাইকে আপন করে নিচ্ছেন, তাঁর আদর বা আপ‍্যায়নে কোনও শ্রেণিভেদ নেই।

বিচিত্র কর্মবহুল জীবনের সূত্রপাত, সেপ্টেম্বরের বাইশে, ১৯২১ সালে। কাশ্মীরের পণ্ডিত বংশের ছেলে। কিন্তু রেলের চাকুরে বাবার ছিল বদলির চাকরি। ফলে বালক বয়সে পৌঁছনোর আগে থেকেই আমাদের এই একান্ত ভালোবাসার আর ভালো না-লাগার শহরের তিনি বাসিন্দা‌।

বাবা শ‍্যামমোহন কলের ছয় ছেলের মধ্যে তিনিই কনিষ্ঠ। জন্মের অব‍্যবহিত পরেই মায়ের মানসিক অসুস্থতা ধরা পড়ায় তিনি একান্তভাবেই বাবারই সন্তান, পাশাপাশি ছিল দাদাদের প্রশ্রয় আর প্রেরণা।

পণ্ডিত বংশের উত্তরাধিকারের কৌলীন‍্য বজায় রেখেও শ‍্যামমোহন পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে আত্মীকরণ করতে পেরেছিলেন। ফলে পারিবারিক পরিবেশে বরাবরই বজায় ছিল উদারতার মুক্ত ছন্দ।

ছোটবেলা থেকেই জলিমোহন সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র। এই স্কুলের ছাত্র হবার সুবাদে তাঁর মেলামেশার গণ্ডিটা ছিল বহুধা বিস্তৃত, ফলে কম বয়স থেকেই অভিজ্ঞতার ঝুলি নানা স্বাদে-গন্ধে-বর্ণে পরিপূর্ণ। ভালো ছাত্র হওয়ার সুবাদে শিক্ষকদেরও নেকনজরে ছোটখাটো চেহারার, মেধাবী সুদর্শন ছাত্রটি।

স্কুলপর্বের শেষে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজেই ভর্তি হলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি এবারে যুক্ত হল প্রবন্ধ লেখা, পত্রিকা সম্পাদনা করা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ আর বিতর্ক প্রতিযোগিতার অন‍্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠা। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন‍্যতম প্রতিনিধি। ১৯৩৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রস্তাব ছিল, “ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনের একমাত্র উপায় গান্ধীজির সত‍্য ও অহিংসার পথ।” প্রস্তাবের পক্ষে সওয়াল করে জলিমোহন সেবার হলেন তৃতীয়। অনেক পরে এই বিতর্কসভার স্মৃতিতে তাঁর আত্মজীবনীতে তাঁকে লিখতে হল, “… দু-তিন বছরের মধ্যেই কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিলে গান্ধীপন্থায় আমার আর বিশ্বাস রইল না। মেনে নিলাম… রজনীপাম দত্তের সেই ইতিহাস বিচার ‘ভারতের বিপ্লবের বাধাস্বরূপ এক ঘোর দুর্দৈব এই গান্ধী।’ অদৃষ্টের এমনি পরিহাস যে জীবনের অন্তিম পর্বে আবার গান্ধীজির ধ‍্যানধারণায় আশ্রয় খুঁজে চলেছি।”

কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হয়ে ওঠার আগে তাঁর এক আলোকপর্ব কেটেছে ইয়ুথ কালচারাল ইনস্টিটিউটে। বিতার্কিক বা ডিবেটিয়ান হিসেবে তিনি তখন অতিপরিচিত এক নাম, এর ওপর রোয়িং বা বাইচেও তখন তাঁর যথেষ্ট নামডাক। ফলে চল্লিশের ছাত্র- জ‍্যোতিষ্কদের সঙ্গে তাঁর পরিচিত হতে সময় লাগল না। সুব্রত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, সুব্রত সেনগুপ্ত, কমল বসু, সুনীল সেনগুপ্ত, নিখিল চক্রবর্তী, রেণু রায়— কত নাম আর করা যায়। এঁরা সকলে সমবেত হয়ে তৈরি করলেন YCI. ফ‍্যাসিস্ট বিরোধী লেখক শিল্পী সংঘের পূর্ববর্তী অধ‍্যায় YCI। সংগঠনটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি, কিন্তু স্থায়ী প্রভাব রেখেছে বাংলার বহুমুখী সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। শাহেদ সুরাবর্দিকে সভাপতি, নীহাররঞ্জন রায়কে সহসভাপতি করে তৈরি হওয়া এই সংগঠনের সম্পাদক নিযুক্ত হলেন জলি কল। এই সংগঠনের জন্য তিনি একটি প্রহসন লিখলেন, ‘পলিটিশিয়ান টেক টু রোয়িং’। এই প্রহসনের চরিত্রাবলি হলেন হিটলার, মুসোলিনি, চার্চিল, চেম্বারলিন, গান্ধি রাজাজি, সুভাষ বোস আর জিন্না। জলি শুধু যে লিখলেন তা নয়, হিটলারের ভূমিকায় অভিনয় করে যথেষ্ট বাহবা পেলেন। YCI সংস্কৃতির নানা শাখায় কাজ শুরু করেছিল, সাহিত্য আলোচনা, বিতর্ক, নাটক, সমবেত গান, প্রদর্শনী ইত্যাদি। ‘ক্রাইসিস ইন কালচার’ নামে একটি পোস্টার প্রদর্শনীও হয়েছিল জলি কল আর জগদীশচন্দ্র বসুর ভাগ্নে দেবব্রত বসু বা বাবলুর ব‍্যবস্থাপনায়। সত‍্যজিৎ রায় এই প্রদর্শনীর জন‍্য বেশ কিছু পোস্টার এঁকে দিয়েছিলেন।

পরবর্তী সময়ে জলিমোহন শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেলেন। আন্দোলন সংগঠিত করা, নেতৃত্ব দেওয়ার কাজেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেন না, আন্দোলনের জন্য গানও লিখলেন। তাঁর লেখা একটি গান ‘মজদুর হ‍্যায় হম্’ আজও বিভিন্ন সভা সমিতিতে গাওয়া হয়ে থাকে। একসময় এ-গানে গলা দিয়েছেন পাহাড়ী সান‍্যালও। রসিক জলিমোহন সহাস্যে অনেকবারই বলতেন, আমাকে বেসুরো বললেও বেশি বলা হয়ে যায় অথচ আমি কেমন গানও লিখে ফেললাম।

১৯৪৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টি বে-আইনি হয়ে গেলে জলিমোহনও গ্রেপ্তার হয়ে তিনবছরেরও বেশি সময় কারান্তরালে রইলেন। প্রেসিডেন্সি জেল, দমদম জেলের নানান অভিজ্ঞতা শোনা যেত তাঁর মুখে। জেলেই তাঁর সঙ্গে পূর্বপরিচিত সুভাষ মুখোপাধ‍্যায়ের অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সুভাষ মুখোপাধ‍্যায় তাঁর ‘হাংরাস’ উপন‍্যাসে যে বংশী চরিত্র চিত্রণ করেছেন, তা অনেকটাই জলি কলের আদলে। জেলে ৪৯ দিনের অনশনে মুজফফর আহমদ, আবদুল রেজ্জাক খান, চিন্মোহন সেহানবীশ, চারু মজুমদার, সুভাষ মুখোপাধ‍্যায়, জলিমোহন কলের মতো প্রমুখের সঙ্গে শামিল হয়েছিলেন সারাদেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি কমিউনিস্ট নেতা ও কর্মীরা।

“দাঁতে দাঁত দিয়ে সব বসে থাকা
কিছুতে না-খাওয়া,
সারা সিঁড়ি ব‍্যারিকেড, বারান্দায় জল ঢেলে রাখা
টিয়ার গ‍্যাসের জন্যে, সারা রাত ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি—
তবু কী আনন্দে, ভাবো,
কেটেছিল জীবনের সেই দিনগুলি।
বলতে বলতে জল আসে আমাদের দুজনেরই চোখে।
মুখগুলো ভেসে ওঠে; মনে পড়ে
প্রভাত-মুকুল-সুমথকে।”

(জেলখানার গল্প, সুভাষ মুখোপাধ‍্যায়)

সুভাষ মুখোপাধ‍্যায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার অব‍্যবহিত পরে প্রকাশিত তাঁর প্রথম গদ‍্যগ্রন্থ ‘আমার বাংলা’র উৎসর্গপত্রে লিখলেন, ‘বাংলার জেলে বন্দি কাশ্মীরের ছেলে জলিমোহন কলকে’। প্রথম সংস্করণের পরে অবশ‍্য ‘বাংলার জেলে বন্দি’ কথাটি আর থাকল না, কেন-না ততদিনে তিনি কারামুক্ত। এখনও যেন স্পষ্ট দেখতে পাই বন্ধুর মৃত‍্যুর খবর পেয়ে তিনিই প্রথম গিয়েছিলেন হাসপাতালে আর নিঃশব্দে ছুঁয়ে বসেছিলেন সেই প্রাণহীন দেহ।

জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জলিমোহন আবার পার্টির কাজে মনপ্রাণ সমর্পণ করলেন। কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি বা জাতীয় পরিষদেরও সদস্য হন। কিন্তু মনের গভীরে কোথাও বোধহয় প্রশ্নের তাড়না ছিল। ১৯৬৩, সরে গেলেন পার্টি থেকে। মিথ্যে অপবাদে কলঙ্কিত হবার ঝুঁকি তো থাকেই। কিন্তু নিজের বিশ্বাসে নির্ভরতা থাকলে ওইটুকু মেনে নিতে হয়। চরম অনিশ্চয়তার জীবন শুরু হল। বিয়ে করেছিলেন তাঁর চেয়ে বয়েসে অনেকটা বড় কমিউনিস্ট নেত্রী মণিকুন্তলা সেনকে। তিনি তখনও পার্টিতে। মণিকুন্তলা সেনের ভাবনাতেও বদল এল একসময়। কিন্তু এটা বলার কথা নয়, যেটা বলার সেটা হল আশ্চর্য সুন্দর এক দাম্পত্য জীবন যাপন করলেন ওঁরা, যা হয়তো বা একরকমের উদাহরণ।

‘ক‍্যাপিটাল’ পত্রিকার সম্পাদনা বা ‘ইন্ডিয়ান অক্সিজেন’-এর জনসংযোগ বিভাগের কর্তা হিসেবে বস্তুত তাঁর ব‍্যক্তিগত আচরণ যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, তার অনুসরণ করতে পারলে হয়তো আমাদের কর্মসংস্কৃতি অন্য এক মাত্রায় পৌঁছতে পারত। এসবই তাঁর সহজাত উত্তরাধিকার।

তাঁর পরিবার ছিল নানা ভাবের ভারসাম‍্যে সুবিন্যস্ত। বড় ভাই বিলেত গেলেন চিকিৎসাবিদ‍্যার অধ‍্যয়নে। সেখান থেকে লেখা তাঁর চিঠি তাঁকে উৎসাহিত করেছে অচেনাকে চিনে চিনে জীবনকে ভরে তুলতে। তাঁর সূত্রেই পাশ্চাত্য সংগীতে আগ্রহ, শুধু ধ্রুপদি নয়, পপ, জ‍্যাজ সবেতেই তাঁর উৎসাহ। মেজদার কাছ থেকে পেয়েছিলেন ভারতীয় দর্শনে অনুরাগ। আর তাঁর ঠিক ওপরের ভাইয়ের প্রেরণায় তিনি পুষ্ট হয়েছিলেন ইংরেজি সাহিত্য সংযোগে। বিশেষ করে গল্প-কবিতা আর উপন্যাসের বৈচিত্র‍্যে তিনি নিজেকে একটু একটু করে সমৃদ্ধ করেছেন। জীবনের শেষ প্রহরে যখন চলাফেরা সীমায়িত, চোখের দৃষ্টি অসহযোগী তখন কম্পিউটারে বসে নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, বিশেষ করে তাঁর শ্রমিক আন্দোলন পর্বে দেখা নামগোত্রহীন ৬৭ক বা ৪৯ঙ-র জীবন অবলম্বনে গল্প লিখতে শুরু করেছিলেন, ৫০টির মতো গল্প লিখেওছিলেন।

তাঁর জীবনের আর এক আশ্রয় ছিল পাহাড়। যৌবনকাল থেকেই হিমালয়ের অমোঘ টানে তিনি ধরা পড়েছিলেন, বছরে অন্তত একমাস পাহাড়ে থাকার অভ‍্যেস তিনি ৯৩/৯৪ বছর পর্যন্ত বজায় রেখেছেন।

শেষজীবনে আশ্রয় খুঁজেছেন রবীন্দ্রনাথের গানে, বিশেষ করে সমর্পণের গানে তাঁর মন সাড়া দিত ভীষণভাবে। আধ‍্যাত্মিক উপলব্ধির একটা খোলা বারান্দা যেন এই গান। হেমন্ত মুখোপাধ‍্যায়ের কণ্ঠ তাঁকে অনেকটাই স্থিতি দিত।

পরিবেশ ভাবনা তাঁর শেষজীবনের পরম আশ্রয়। লেখালেখি, সভা-সমিতিতে উপস্থিত থেকে বিপন্ন পরিবেশের বিপদ যে কত মারাত্মক সে-বিষয়ে সচেতন করা নিজের কর্তব্য বিবেচনা করেছেন। এক্ষেত্রেও রবীন্দ্রনাথ আর গান্ধি তাঁর অবলম্বন। নিজেকে আর মার্কসবাদী ভাবতেন না, কিন্তু মার্কসচর্চায় তাঁর আগ্রহ চির অমলিন। দেশে দেশে মার্কসচর্চার নতুন নিরিখে তাঁর জাগ্রত অন্বেষা ছিল। মার্কস রচনার যে নতুন সংকলন বেরোচ্ছে সে-বিষয়ে তিনি পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। তাঁর মনে হত মার্কসের ব‍্যাখ‍্যায় আমাদের কোথাও বড় ভুল হয়েছে, তাই মার্কসকেও আমরা সঠিকভাবে বুঝতে পারিনি। আরও খোলা মনে ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মার্কসের অনুশীলন আধুনিক পৃথিবীর পক্ষে অপরিহার্য, যতটাই অপরিহার্য গান্ধি ভাবনার উৎসমূল খোঁজা, গভীর মননে রবীন্দ্রনাথকে দেখা।

সুন্দর এক পৃথিবী ছিল তাঁর অন্বিষ্ট। তাই বোধহয় তাঁর আত্মজীবনীর নাম, ‘ইন সার্চ অফ এ বেটার ওয়ার্ল্ড’।

জীবনের অন্তিমলগ্নে যখনি তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি, বুঝতে পেরেছি এক দুর্দৈবের আশঙ্কায় তিনি সদা পীড়িত। কতবার যে বলেছেন, ‘আই হ‍্যাভ সিন দি আগলি ফেস অফ ফ‍্যাসিজম্ অ্যান্ড হোয়াট ইজ হ‍্যাপিনিং ইন দি কানট্রি ফিলস মি উইথ ফিয়ার।’

সব হারানোর গল্পেও এক প্রাপ্তির সংবাদ থাকে। আমাদের এই ভালোবাসার শহরেও আড়াল খুঁজে নিয়ে থাকেন বা থাকতেন কোনও কোনও মানুষ। তাঁরা চিন্তা-চর্চা আর মননে আধুনিক, যাপনে সাবেকি, সহমর্মিতা ও আত্মীয়তাবোধে তাঁদের পরম পরিতৃপ্তি, উন্নয়ন আর তথাকথিত সভ‍্যতার বে-আব্রু দখলদারিতে উদ্বেলিত, ম্রিয়মাণ, তবু উত্তরণের পথ খোঁজার মধ্যেই তাঁদের আনন্দ। কিন্তু সংবাদমাধ‍্যমের আলো তাঁদের যেমন খোঁজে না, তাঁরাও তেমনি সংবাদমাধ্যমের আলোক উজ্জ্বলতায় ধরা না-দেওয়াকেই নিজেদের নৈতিকতা বিবেচনা করেন।

এই শহরেই একজন মানুষ নিরানব্বই বছর ন’মাস সটান, সপ্রতিভ, বিনয়াবনত, জিজ্ঞাসাকীর্ণ জীবন কাটিয়ে গেলেন। তাঁর এই দীর্ঘ পথ চলা আসলে পথ খোঁজা। তাঁকে আরেকটু বেশি করে চিনলে, আরও আগ্রহে জানতে চাইলে শহরেরই মুখ গৌরবে উজ্জ্বল হতে পারত। হতে যে পারল না, সে বোধহয় পোড়া শহরের পোড়া কপালেরই নিয়তি।

শততম জন্মদিনে প্রণাম আপনাকে জলিদা।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: দীপঙ্কর সেনগুপ্ত, সুমিতা চক্রবর্তী, মালতী পণ্ডা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *