অন্ধকার সময় (২য় অংশ)

জয় ভদ্র

গোপাল ব্যানার্জি লেনের একমাত্র দিদির বাড়িতে আজ খুব সাতসকালেই জেসাসকে আসতে হল। ডোর বেল টিপতে তারকনাথবাবু দরজা খুলে দিলেন, ‘এস এস শাড়ুবাবু কি খবর’— বলার সঙ্গে সঙ্গে গিন্নিকে হাঁক পেড়ে হুকুম দিলেন, ‘এই যে আমার  শাড়ুবাবু এসেছেন, শিগগির দু’কাপ চা দিয়ে যাও। ওটি না-হলে আমাদের মধ্যে কথা চালানো যাবে না। যাগ্গে বল কাল গিয়েছিলিস?’
   ভেতরের ঘরে ঢুকে সোফায় বসতে বসতে জেসাস বলল, ‘হ্যাঁ, দেখা করে এলাম। কিছু অ্যাডভান্সও করে দিলেন।’
   ‘অ্যাডভান্স করে দিল, বলিস কী!’
   ‘হ্যাঁ, যা পাগলা লোক, বললাম ৭২ ঘণ্টা সময় দিন, কিন্তু শুনলেন না, একেবারে নাছোড়বান্দা। বলতে গেলে জোর করে কুড়ি হাজার টাকা চেকে অ্যাডভান্স করে দিলেন।
   তারকনাথবাবু আশ্চর্য হয়ে জেসাসের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তারপর বললেন, ‘তুমি তো দেখছি কামাল করে দিয়েছো শাড়ুবাবু! তো যাই বলো এককথায় ‘স্পেশাল জেন্টলম্যান’ বলতে পারিস কী বল!’
   সুনন্দা এই সময়ে চা নিয়ে ঘরে ঢুকে ভাইকে হুকুম দিল, ‘ঘরের সব জানলা খুলে দিবি। চায়ের পড়েই তো দু’জনে ছাইপাশ টানবি। ঘরটা ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ভর্তি হয়ে যাবে।’ এরপর স্বামীর উদ্দেশ্যে বলে, ‘এই সাতসকালে দয়া করে একটু কম খেও।’
   তাই শুনে তারকনাথবাবু বলে, ‘ওসব বললে হবে না। প্রথম দিনই ক্লায়েন্টের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আমার শাড়ুবাবু অ্যাডভান্স নিয়ে এসেছেন। আনন্দে আজ বেশি করে খাব।’
   সুনন্দা চলে যেতে তারকনাথ এবার সিরিয়াস। কাপের চায়ে  দু’চুমুক মারার পর  জেসাসকে একটা সিগারেট দিয়ে নিজেও একটা আঙুলের ফাঁকে খুঁজলেন, ‘বল, ব্যাপারটা এবার খোলসা করে বল তো।’
   ‘কেন তোমায় কিছু বলেনি?’
   ‘হ্যাঁ, বলেছে বলতে কি একটা বই চুরির ব্যাপারে। ধু-র, খুব একটা ইম্পরট্যান্ট দিনই। নেহাত বন্ধুর বন্ধু বলে কেসটা তোর উপর হ্যান্ডওভার করলাম।’
   ‘হ্যাঁ, দেখলাম তো লোকাল থানাও ব্যাপারটা খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না।’
   ‘কেন দেবে? নিত্যদিন পলিটিকাল সমস্যা, চোর-ছ্যাচ্চোর সামলাতেই অফিসারদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে তার ওপর তোর বই চুরি। যত্তসব ফালতু।’
   জেসাস মুহূর্তকাল চুপ করে থেকে বলে, ‘ঠিক বই চুরি নয় জামাইবাবু।’
   ‘তবে কী?’ তারকনাথবাবু সিগারেটটা ধরিয়ে একটা লম্বা টান দেয়।
   ‘বই নয়, বই নয়’, জেসাস কেটে কেটে কথাগুলো বলে, ‘মহামূল্যবান এক পুঁথি।’
   ‘পুথি! কবেকার?’
   ‘সেটা ওনার কথায় স্পষ্ট নয়।’
   ‘নাম?’
   ‘তাও নয়। সেটা কোয়্যারি করতে শুধু বললেন রিসার্চ চলছিল। এখনো সেটা উদ্ধার করতে পারেননি।’
   সিগারেটে একটা টান দিয়ে এক গভীর চিন্তা নিয়ে কথাগুলো ধীরে ধীরে বলতে বলতে সোফায় পেটটা এলিয়ে দেয় জেসাস। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘তোমার কাছে কাল সন্ধ্যাতেই আসবো বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু অফিস থেকে বেরোবার পর আর ইচ্ছে হলো না। সারা রাত ভাবলাম প্রজেক্টটা নেব কি-না। কিন্তু মুশকিল হল উনি তো এক প্রকার জোর করে অ্যাডভান্স করে দিলেন চিন্তাটা ওখানেই।’
   ‘মুখ দেখে, তোর মুখ দেখে বুঝলি শাড়ুভাই। হবে না তুই আমাদের সেই সময়কার হিরো অমিতাভের মতো লম্বা তুই। জেসচারে একটু রাগি রাগি ইমেজ অনেকটা আনন্দের ডক্টর ভাস্কর ব্যানার্জির মতো। পারবি পারবি সব পারবি… পারবি বলেই তো তোকে কাজটা দিয়েছি। আরে তুমি নিজে পড়াশোনায় এত ব্রিলিয়ান্ট ছিলে… আমি বলে দিলুম এই প্রফেশনে তুমি একদিন নাম করবে। আরে তোর চিন্তা কি তোর পেছনে তো আমি আছি। গো ফরওয়ার্ড। আইবি পুলিশ প্রটেকশন যা লাগে সব জোগাড় করে দেব। আফটার অল এই লাইনে কাজ করতে গেলে তোকে এদেরকে নিয়েই চলতে হবে।’
   ‘বলছ জামাইবাবু পারব?’
   ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট। যাগগে, আর কি কি ইনফরমেশন কালেক্ট করলি ওনার কাছ থেকে?’
   ‘ওর করা এফআইআরের কপি, আর ২৫শে নভেম্বর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর এই ক’দিন ওর বাড়িতে যারা যারা এসেছেন তাদের কল লিস্ট। বাট ইটস্ আর নট এনাফ, ওয়ান্ট মোর ইনফর্মেশন। অথচ সময়ও বেশি নেই। আজ সেকেন্ড ফেব্রুয়ারি।’
   ইতিমধ্যে সুনন্দা আবার ঘরে ঢুকে জেসাসকে বলে, ঢুকুন, তোর কথা শেষ হলে আমার সঙ্গে একটু দেখা করে যাস। রান্না ঘরে আছি আমি।’

আরও পড়ুন: অন্ধকার সময়


   তারকনাথ এখন বেশ গম্ভীর। সিগারেটের শেষটায় লম্বা একটা টান দিয়ে ধোঁয়ার রিং ছাড়তে ছাড়তে বলে, ‘আজকালের মধ্যে ওকে ফোন করার কথা তোর?’
   ‘হ্যাঁ, কাল ওনার মিসেসের কাছ থেকে বাকি গেস্টদের কললিস্ট আমাকে দেওয়ার কথা। কারণ উনি মাঝে আউটস্টেশন ছিলেন… আপাতত যা ইনফরমেশন পেয়েছি তাতে বেশিদূর খুব একটা এগোনো সম্ভব নয়।’
   এখন সকাল পৌনে নটা। এই সকালেই ধোঁয়ায় ভরা ঘরটা যেন রহস্যের অজানা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। সবে সবে বসন্ত পড়েছে। বাইরের কৃষ্ণচূড়া গাছের মধ্যে থেকে ভেসে আসছে কোকিলের কাতর ডাক। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তারকনাথ মজুমদার হঠাৎই সিরিয়াস। অতি সম্প্রতি সে রিটায়ার করেছে। বহু রহস্য তদন্তের পোড় খাওয়া লোক তিনি। নিঃসন্তান তারকবাবু তাই সন্তানসম তৈরি করার চেষ্টা করছে এই লাইনে। প্রায় কিশোরবেলা থেকে জেসাস তাকে দেখছে জামাইবাবু তার আইডল। দেশের আর ফরেনের নানা ডিটেকটিভ গল্প-উপন্যাস তার কাছ থেকে উপহার পেয়ে আসছে। দেখিয়েছে বিদেশের নানা থ্রিলার ফিল্ম। সেই ছোটো থেকেই জেসাস দেখে আসছে জামাইবাবু যখন তদন্তের কাজে সিরিয়াস তখন চুপ হয়ে যায় আর ঘন ঘন সিগারেট টানে। এখনো তার ব্যতিক্রম হল না। আরও একটা সিগারেট ধরিয়ে সে তারপর বলে, ‘বুকুন ওকে আর ফোন করিস না।’
   ‘করব না, কেন?’
   ‘প্রয়োজনে ওই তোকে ফোন করে নেবে। প্রথম দিন ছাড়া আর ফোন ধরিস না ওর যতক্ষণ না আমি বলব। হ্যাঁ, তুই ইনফরমেশন চাই ছিলিস না? বছর ১৫ আগে আমার এক ওসি বন্ধু পার্ক স্ট্রিট থানার বদলির আগের দিন আমায় গল্প করেছিল। হঠাৎ মনে পড়ে গেল সে-কথাটা। এইরকমই একটা কেসের এফআইআর হয়েছিল। একটু ডিটেলস নিতে হবে বুঝলি। আর তাছাড়া কম্পিউটারে তো এখন পুরনো রেকর্ড থাকেই। এখন যে আছে সে-ও খুব ভালো ছেলে। আমারই একসময়ের ছাত্র সে। হতে পারে হতে পারে বিষয়টা কো-ইনসিডেন্স আবার কোনো রিলেশন নাও থাকতে পারে। রেকর্ডটা যদি উদ্ধার করা যায় নেগেটিভ বা পজেটিভ যাই হোক না কেন একটু কনফার্ম হয়ে যা। আর শোন তোর দিদি কী বলছে, শুনে আয় এখন। আর সারাদিন তোর যাই কাজ থাকুক না কেন রাতে আজ এখানে বডি ফেলে দিবি। সারারাত ধরে প্ল্যান কোষে নেব।’

গোপাল ব্যানার্জি লেনের একমাত্র দিদির বাড়িতে আজ খুব সাতসকালেই জেসাসকে আসতে হল। ডোর বেল টিপতে তারকনাথবাবু দরজা খুলে দিলেন, ‘এস এস শাড়ুবাবু কি খবর’— বলার সঙ্গে সঙ্গে গিন্নিকে হাঁক পেড়ে হুকুম দিলেন, ‘এই যে আমার  শাড়ুবাবু এসেছেন, শিগগির দু’কাপ চা দিয়ে যাও। ওটি না-হলে আমাদের মধ্যে কথা চালানো যাবে না। যাগ্গে বল কাল গিয়েছিলিস?’
   ভেতরের ঘরে ঢুকে সোফায় বসতে বসতে জেসাস বলল, ‘হ্যাঁ, দেখা করে এলাম। কিছু অ্যাডভান্সও করে দিলেন।’
   ‘অ্যাডভান্স করে দিল, বলিস কী!’
   ‘হ্যাঁ, যা পাগলা লোক, বললাম ৭২ ঘণ্টা সময় দিন, কিন্তু শুনলেন না, একেবারে নাছোড়বান্দা। বলতে গেলে জোর করে কুড়ি হাজার টাকা চেকে অ্যাডভান্স করে দিলেন।
   তারকনাথবাবু আশ্চর্য হয়ে জেসাসের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তারপর বললেন, ‘তুমি তো দেখছি কামাল করে দিয়েছো শাড়ুবাবু! তো যাই বলো এককথায় ‘স্পেশাল জেন্টলম্যান’ বলতে পারিস কী বল!’
   সুনন্দা এই সময়ে চা নিয়ে ঘরে ঢুকে ভাইকে হুকুম দিল, ‘ঘরের সব জানলা খুলে দিবি। চায়ের পড়েই তো দু’জনে ছাইপাশ টানবি। ঘরটা ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় ভর্তি হয়ে যাবে।’ এরপর স্বামীর উদ্দেশ্যে বলে, ‘এই সাতসকালে দয়া করে একটু কম খেও।’
   তাই শুনে তারকনাথবাবু বলে, ‘ওসব বললে হবে না। প্রথম দিনই ক্লায়েন্টের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আমার শাড়ুবাবু অ্যাডভান্স নিয়ে এসেছেন। আনন্দে আজ বেশি করে খাব।’
   সুনন্দা চলে যেতে তারকনাথ এবার সিরিয়াস। কাপের চায়ে  দু’চুমুক মারার পর  জেসাসকে একটা সিগারেট দিয়ে নিজেও একটা আঙুলের ফাঁকে খুঁজলেন, ‘বল, ব্যাপারটা এবার খোলসা করে বল তো।’

আরও পড়ুন: এক আলোর পৃথিবী (২)

This image has an empty alt attribute; its file name is a-brief-affair-ranjith-kk.jpg

‘কেন তোমায় কিছু বলেনি?’
   ‘হ্যাঁ, বলেছে বলতে কি একটা বই চুরির ব্যাপারে। ধু-র, খুব একটা ইম্পরট্যান্ট দিনই। নেহাত বন্ধুর বন্ধু বলে কেসটা তোর উপর হ্যান্ডওভার করলাম।’
   ‘হ্যাঁ, দেখলাম তো লোকাল থানাও ব্যাপারটা খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না।’
   ‘কেন দেবে? নিত্যদিন পলিটিকাল সমস্যা, চোর-ছ্যাচ্চোর সামলাতেই অফিসারদের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে তার ওপর তোর বই চুরি। যত্তসব ফালতু।’
   জেসাস মুহূর্তকাল চুপ করে থেকে বলে, ‘ঠিক বই চুরি নয় জামাইবাবু।’
   ‘তবে কী?’ তারকনাথবাবু সিগারেটটা ধরিয়ে একটা লম্বা টান দেয়।
   ‘বই নয়, বই নয়’, জেসাস কেটে কেটে কথাগুলো বলে, ‘মহামূল্যবান এক পুঁথি।’
   ‘পুথি! কবেকার?’
   ‘সেটা ওনার কথায় স্পষ্ট নয়।’
   ‘নাম?’
   ‘তাও নয়। সেটা কোয়্যারি করতে শুধু বললেন রিসার্চ চলছিল। এখনো সেটা উদ্ধার করতে পারেননি।’
   সিগারেটে একটা টান দিয়ে এক গভীর চিন্তা নিয়ে কথাগুলো ধীরে ধীরে বলতে বলতে সোফায় পেটটা এলিয়ে দেয় জেসাস। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘তোমার কাছে কাল সন্ধ্যাতেই আসবো বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু অফিস থেকে বেরোবার পর আর ইচ্ছে হলো না। সারা রাত ভাবলাম প্রজেক্টটা নেব কি-না। কিন্তু মুশকিল হল উনি তো এক প্রকার জোর করে অ্যাডভান্স করে দিলেন চিন্তাটা ওখানেই।’
   ‘মুখ দেখে, তোর মুখ দেখে বুঝলি শাড়ুভাই। হবে না তুই আমাদের সেই সময়কার হিরো অমিতাভের মতো লম্বা তুই। জেসচারে একটু রাগি রাগি ইমেজ অনেকটা আনন্দের ডক্টর ভাস্কর ব্যানার্জির মতো। পারবি পারবি সব পারবি… পারবি বলেই তো তোকে কাজটা দিয়েছি। আরে তুমি নিজে পড়াশোনায় এত ব্রিলিয়ান্ট ছিলে… আমি বলে দিলুম এই প্রফেশনে তুমি একদিন নাম করবে। আরে তোর চিন্তা কি তোর পেছনে তো আমি আছি। গো ফরওয়ার্ড। আইবি পুলিশ প্রটেকশন যা লাগে সব জোগাড় করে দেব। আফটার অল এই লাইনে কাজ করতে গেলে তোকে এদেরকে নিয়েই চলতে হবে।’
   ‘বলছ জামাইবাবু পারব?’
   ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট। যাগগে, আর কি কি ইনফরমেশন কালেক্ট করলি ওনার কাছ থেকে?’
   ‘ওর করা এফআইআরের কপি, আর ২৫শে নভেম্বর থেকে ১৬ই ডিসেম্বর এই ক’দিন ওর বাড়িতে যারা যারা এসেছেন তাদের কল লিস্ট। বাট ইটস্ আর নট এনাফ, ওয়ান্ট মোর ইনফর্মেশন। অথচ সময়ও বেশি নেই। আজ সেকেন্ড ফেব্রুয়ারি।’
   ইতিমধ্যে সুনন্দা আবার ঘরে ঢুকে জেসাসকে বলে, ঢুকুন, তোর কথা শেষ হলে আমার সঙ্গে একটু দেখা করে যাস। রান্না ঘরে আছি আমি।’
   তারকনাথ এখন বেশ গম্ভীর। সিগারেটের শেষটায় লম্বা একটা টান দিয়ে ধোঁয়ার রিং ছাড়তে ছাড়তে বলে, ‘আজকালের মধ্যে ওকে ফোন করার কথা তোর?’
   ‘হ্যাঁ, কাল ওনার মিসেসের কাছ থেকে বাকি গেস্টদের কললিস্ট আমাকে দেওয়ার কথা। কারণ উনি মাঝে আউটস্টেশন ছিলেন… আপাতত যা ইনফরমেশন পেয়েছি তাতে বেশিদূর খুব একটা এগোনো সম্ভব নয়।’
   এখন সকাল পৌনে নটা। এই সকালেই ধোঁয়ায় ভরা ঘরটা যেন রহস্যের অজানা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। সবে সবে বসন্ত পড়েছে। বাইরের কৃষ্ণচূড়া গাছের মধ্যে থেকে ভেসে আসছে কোকিলের কাতর ডাক। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তারকনাথ মজুমদার হঠাৎই সিরিয়াস। অতি সম্প্রতি সে রিটায়ার করেছে। বহু রহস্য তদন্তের পোড় খাওয়া লোক তিনি। নিঃসন্তান তারকবাবু তাই সন্তানসম তৈরি করার চেষ্টা করছে এই লাইনে। প্রায় কিশোরবেলা থেকে জেসাস তাকে দেখছে জামাইবাবু তার আইডল। দেশের আর ফরেনের নানা ডিটেকটিভ গল্প-উপন্যাস তার কাছ থেকে উপহার পেয়ে আসছে। দেখিয়েছে বিদেশের নানা থ্রিলার ফিল্ম। সেই ছোটো থেকেই জেসাস দেখে আসছে জামাইবাবু যখন তদন্তের কাজে সিরিয়াস তখন চুপ হয়ে যায় আর ঘন ঘন সিগারেট টানে। এখনো তার ব্যতিক্রম হল না। আরও একটা সিগারেট ধরিয়ে সে তারপর বলে, ‘বুকুন ওকে আর ফোন করিস না।’
   ‘করব না, কেন?’
   ‘প্রয়োজনে ওই তোকে ফোন করে নেবে। প্রথম দিন ছাড়া আর ফোন ধরিস না ওর যতক্ষণ না আমি বলব। হ্যাঁ, তুই ইনফরমেশন চাই ছিলিস না? বছর ১৫ আগে আমার এক ওসি বন্ধু পার্ক স্ট্রিট থানার বদলির আগের দিন আমায় গল্প করেছিল। হঠাৎ মনে পড়ে গেল সে-কথাটা। এইরকমই একটা কেসের এফআইআর হয়েছিল। একটু ডিটেলস নিতে হবে বুঝলি। আর তাছাড়া কম্পিউটারে তো এখন পুরনো রেকর্ড থাকেই। এখন যে আছে সে-ও খুব ভালো ছেলে। আমারই একসময়ের ছাত্র সে। হতে পারে হতে পারে বিষয়টা কো-ইনসিডেন্স আবার কোনো রিলেশন নাও থাকতে পারে। রেকর্ডটা যদি উদ্ধার করা যায় নেগেটিভ বা পজেটিভ যাই হোক না কেন একটু কনফার্ম হয়ে যা। আর শোন তোর দিদি কী বলছে, শুনে আয় এখন। আর সারাদিন তোর যাই কাজ থাকুক না কেন রাতে আজ এখানে বডি ফেলে দিবি। সারারাত ধরে প্ল্যান কোষে নেব।’

পরবর্তী পর্ব আগামীকাল…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *