ব্রজ রায়ের মৃত্যু: বিজ্ঞান আন্দোলনের এক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি

Mysepik Webdesk: গণদর্পণের কাণ্ডারি ব্রজ রায় আজ সকাল ১০.৪০ মিনিটে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে প্রয়াত হলেন। পশ্চিমবাংলায় মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত তিনি। যদিও পরিস্থিতি এবং রোগজনিত কারণে আজীবন যার জন্য লড়াই করে গেলেন ব্রজবাবু, সেই মানুষটির নিজের দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণার কাজে ব্যবহার করা সম্ভবপর হল না।

মানুষটি জন্মেছিলেন ব্রিটিশ ভারতে, ১৯৩৬ সালে। বঙ্গবাসী কলেজে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ব্রজ রায় যুক্ত হয়ে পড়েন নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে। পুলিশের হাতে তিনি ধরাও পড়েন এবং এইজন্য দীর্ঘ সাত বছর তিনি কারার অন্তরালে কাটান। এই পর্বে তিনি যুক্তিবাদী সমাজ দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হন। বিশেষ করে তাঁর ওপর প্রভাব পড়ে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। জেবি এস হলডেনের যিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়ে এদেশে এসে ভারতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করেন। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে হলডেন ১৯৬৪ সালে মারা যান। তার আগেই তিনি মরণোত্তর দেহদান করে যান। এই ঘটনা জেলে ব্রজ রায়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ১৯৭৭ কারা মুক্তির পরে ব্রজ রায় আর কিছু সমমনস্ক মানুষকে নিয়ে গণদর্পণ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এই গণদর্পণের মাধ্যমেই ব্রজ রায়রা পশ্চিমবঙ্গে মরণোত্তর দেহদানের পক্ষে সচেতনতার কাজ নিরন্তরভাবে করে গেছেন।

দেশ এবং রাজ্যে শবদান এবং অঙ্গদান সম্পকে নানাবিধ আইন প্রণয়ন প্রভৃতিতে ব্রজ রায় এবং তাঁর গণদর্পণের অবদান অনস্বীকার্য। ব্রজ রায়ের মৃত্যু নিঃসন্দেহে রাজ্য এবং দেশের বিজ্ঞান আন্দোলনের পক্ষে বড় ধাক্কা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *