নাম্বিয়ার স্যারের প্রয়াণ: ছেদ ঘটল গুরু-শিষ্যার এক দীর্ঘ পরম্পরার

Mysepik Webdesk: গুরু তিনিই, যিনি আলোর পথ দেখান। তেমনই একজন মানুষ ছিলেন ওথাইওথু মাধবন নাম্বিয়ার। প্রবাদপ্রতিম এই কোচ প্রয়াত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তারকা তৈরির এই কারিগর নাম্বিয়ার রেখে গিয়েছেন স্ত্রী লীলা, তিন পুত্র এবং এক কন্যাকে। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে তিনি ভারতকে বেশ কিছু তারকা অ্যাথলেট উপহার দিয়েছেন, তারমধ্যে পি টি ঊষার নাম উল্লেখযোগ্য। এহেন কিংবদন্তি কোচ কোঝিকোড় জেলার ভাদাকারায় তাঁর বাসভবনে অন্তিম শ্বাস নেন। ১৯৮৫ দ্রোণাচার্য পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কোচ পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছিলেন চলতি বছরে। ১০ দিন আগে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর অবশ্য তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নাম্বিয়ার পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন।

আরও পড়ুন: বিমান থেকে পড়ে মৃত্যু আফগানিস্তানের জাতীয় দলের ফুটবলারের

নাম্বিয়ার একজন প্রাক্তন বায়ুসেনা। তিনি কোচ থাকাকালীন পি টি ঊষা-সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ তৈরি করেছিলেন। ১৯৮৪-তে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে সামান্য সময়ের ব্যবধানে ব্রোঞ্জ পদক ফসকে যায় ঊষার। ‘উড়ান পরী’ ঊষা ১৯৮৬-র সিওল এশিয়ান গেমসে চারটি সোনা এবং একটি রুপো জিতে আলোড়ন ফেলেছিলেন পি টি ঊষা। ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা না জেতার আক্ষেপ অবশ্য ঊষার রয়েই যাবে, কারণ সেক্ষেত্রে তিনিই হতেন এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে একমাত্র অ্যাথলেট যিনি একটি গেমসেই পাঁচটি সোনার মালিক হতে পারতেন। গত সপ্তাহেই তাঁর প্রিয় কোচ নাম্বিয়ারকে টোকিও অলিম্পিকে নীরজ চোপড়ার সোনার পদক পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ঊষা। পি টি ঊষা তাঁর কোচের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: শনিবার আইপিএল খেলতে দুবাই উড়ে যাবে দিল্লি ক্যাপিটালস

ঊষা বলেন, “দশ দিন আগে তাঁর তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। এটা আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি। তিনি আমার কাছে পিতার মতো ছিলেন। তিনি না থাকলে আমি এতকিছু অর্জন করতে পারতাম না। নীরজ চোপড়া অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতার পর গত সপ্তাহেই আমি কোচের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন আমি কী বলছি, কিন্তু তিনি কথা বলতে পারছিলেন না।”

পি টি ঊষা ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্তরে তিনি যেসব তারকা তৈরি করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আরও এক উল্লেখযোগ্য নাম শাইনি উইলসন। শাইনি চারবারের অলিম্পিয়ান এবং ১৯৮৫-তে ৮০০ মিটারের দৌড়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। তাছাড়াও তিনি তৈরি করেছেন বন্দনা রাওয়ের মতো অ্যাথলেটকেও। ১৯৩২ সালে কান্নুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নাম্বিয়ার। পরবর্তীতে তিনি বিমানবাহিনীতে যোগদান করেন। সেখানে তিনি ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সার্জেন্ট হিসেবে তিনি ১৯৭০ সালে অবসর গ্রহণ করেন। নাম্বিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস পাতিয়ালা থেকে কোচিংয়ের ডিপ্লোমা নেন এবং সেনাবাহিনীর ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: এনসিএ প্রধানের জন্য কোনও নতুন প্রার্থী নেই, আবেদনের শেষ তারিখ বাড়াল বিসিসিআই

যে-সময় পদ্মশ্রীর জন্য তাঁর নাম নির্বাচিত হয়েছিল, তখন কোঝিকোড়ে তাঁর বাসভবনে তিনি বলেছিলেন— “আমি এই পুরস্কার পেয়ে খুশি। যদিও আমার অনেক আগেই এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। তবে আমি এখনও খুশি। কাভি নেহি সে দের ভলি।” ১৯৮৫-তে পি টি ঊষা পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছিলেন, সে-বছর নাম্বিয়ার দ্রোণাচার্য পুরস্কার পান। তবে, কিংবদন্তি এই কোচকে দেশের চতুর্থ নাগরিক সম্মান পাওয়ার জন্য ৩৬ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। পি টি ঊষা যখন অলিম্পিকে পদক হাতছাড়া করেন, তখন চোখে জল চলে এসেছিল কোচ নাম্বিয়ারের। তিনি ১৯৬৮ সালে কোচিং ডিপ্লোমা নেন এবং ১৯৭১-এ কেরালা স্পোর্টস কাউন্সিলে যোগদান করেন। পি টি ঊষা ১৯৭৭-এ একটি ট্রায়াল রেস জিতেছিলেন। এরপর থেকে নাম্বিয়ার ট্রেনিং দিতে শুরু করেছিলেন পি টি ঊষাকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *