হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে সুপার ওভারে জয় দিল্লির

Mysepik Webdesk: আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখা গেল সুপার ওভার। সেই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল দিল্লি ক্যাপিটালস। বলা যায়, প্রায় হারতে বসা ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল শ্রেয়স আইয়ারের দল। সুপার ওভারে তাদের জিততে গেলে দরকার ছিল ৬ বলে মাত্র ৩ রান।

আরও পড়ুন: সরাসরি নয়, ঢাকায় পৌঁছিয়ে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা যাবেন ভেট্টরি ও ম্যাকমিলন

আইপিএলের ১৩তম আসরে আজ ছিল দ্বিতীয় দিন। এদিন মুখোমুখি হয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। এই ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালস তাদের প্রথম ম্যাচে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকে সুপার ওভারে হারিয়ে দেয়। দিল্লির এই জয়ের নায়ক দক্ষিণ আফ্রিকা ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা। তিনি সুপার ওভারে মাত্র দু’রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন। এ পর্যন্ত সুপার ওভারের সর্বনিম্ন ৩ রানের টার্গেট পায় দিল্লি। যা খুব সহজেই তুলে নেন দিল্লির ক্রিকেটাররা।

আরও পড়ুন: রাসেল হয়তো টপ অর্ডারে, ইঙ্গিত কেকেআর কোচের

এর আগে সুপার ওভারে সর্বনিম্ন রান দেওয়ার রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলীয় দ্রুতগতির বোলার মিচেল জনসন এবং ভারতীয় স্পিডস্টার জসপ্রীত বুমরাহের দখলে। জনসন এই রেকর্ডটি ২০১৫ সালে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে করেছিলেন। অন্যদিকে, বুমরাহ গুজরাত লায়ন্সের বিপক্ষে এই রেকর্ডটি অর্জন করেছিলেন। ১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্জাবের শুরুটা খুব খারাপ হয়েছিল। টিমের অর্ধেক ব্যাটসম্যানরা ৫৫ রানের মধ্যেই প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছিলেন। ওপেনার ময়াঙ্ক আগারওয়াল এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। তবে তাঁর ৬০ বলে অসামান্য ৮৯ ইনিংসও দলের পরাজয় এড়াতে পারেনি। ম্যাচের শেষ তিন বলে পঞ্জাবের জেতার জন্য দরকার ছিল মাত্র একটা রান। এই অবস্থায় ১৯ ওভারের চতুর্থ বল ডট হয়ে যায়। ওভারটি করছিলেন মার্কাস স্টইনিস।

এরপরে অফসাইডের বল উড়িয়ে খেলতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনেন ময়াঙ্ক। বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়ানো শিমরন হেটমেয়ারের হাতে ধরা পড়েন আগারওয়াল। এরপর ম্যাচের শেষ বলে অনিল কুম্বলের ছেলেদের দরকার ছিল ১ রান। স্টইনিসের লেগ সাইটের লো লেন্থের বল ফ্লিক করতে যান ক্রিস জর্ডান। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাগিসো রাবাদা। তিনিই তালুবন্দি করেন জর্ডানের ক্যাচ। ম্যাচটি শেষমেশ টাই হয়ে সুপার ওভারের দিকে গড়ায়।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে দিল্লির শুরু খুবই খারাপ হয়। তারা ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। এরপরে ঋষভ পন্থ ৩১ এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ৩৯ রান করে চতুর্থ উইকেটের জন্য ৭৩ রানের জুটি গড়েন। লোয়ার অর্ডারে নেমে মার্কাস স্টইনিস ২১ বলে ৫৩ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে দিল্লির স্কোর ৮ উইকেটে ১৫৭ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।

ক্রিস জর্ডান পঞ্জাবের হয় শেষ ওভার করেছিলেন। খুব তাড়াতাড়ি তিনি তাঁর জীবন থেকে আজকের করা শেষ ওভারটি মুছে ফেলতে চাইবেন। কারণ শেষ ওভারে তিনি দেন ৩০ রান। স্টইনিস শেষবারের প্রথম বলেই একটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। পরের বল ওয়াইড হয়। এর পরের তিনটি বলে তিনটি চার মারেন অস্ট্রেলিয়ান এই অলরাউন্ডার। ওভারের পঞ্চম বলে দুর্দান্ত আরও একটি ছক্কা মারেন এই অজি ব্যাটসম্যান। জর্ডান শেষ বলে নো বল করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে যান স্টইনিস। ওভারের শেষ বলে নর্থজে করেন ৩ রান।

প্রথম ইনিংসে সর্বাধিক তিন উইকেট নিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। তিনি শিমরন হেটমায়ার (৭), পৃথ্বী শ (৫) শ্রেয়স আইয়ার (৩৯)-কে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান। পঞ্জাবের হয়ে আইপিএলে অভিষেক ম্যাচ খেলেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে অনবদ্য পারফরম্যান্স করা রবি বিষ্ণোই। তিনি নেন ১টি উইকেট। তাছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার শেল্ডন কর্টেল পান ২টি উইকেট। অন্যদিকে, দিল্লি ক্যাপিটালস এর জার্সি গায়ে অভিষেক ঘটে এনরিক নর্থজে-র।

আইপিএলে প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্লে-তে শামি একাধিক উইকেট নেন। পাওয়ার প্লে-তে তিনি তিন ওভারে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। শেষমেশ চার ওভারে ১৫ রানের বিনিময়ে তিনি ৩ উইকেট শিকার করেন। গত মরশুম পর্যন্ত এই পেসার ৪২ ইনিংসে পাওয়ার প্লে-র ৮০ ওভারে মাত্র ৭টি উইকেট নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, শামি তাঁর আইপিএল কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত ৫৩ ম্যাচে ৪৫ ওইকেট নিয়েছেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *