শ্বাসরোধ করা হয়েছে বাংলায় গণতন্ত্রের­: বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে চা-চক্রে সরব রাজ্যপাল

Mysepik Webdesk: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার রাজভবনে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য বিজেপি বিধায়করা। তাঁদের রাজভবনে যাওয়ার কথা আগেই টুইট করে জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এদিন রাজভবনে গিয়ে তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গে চা-চক্রে যোগ দেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গে একপ্রস্থ আলোচনা করেন। জানা গিয়েছে, তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইন-সহ একাধিক অভিযোগ সম্মিলিত একটি মেমোরেন্ডাম রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন: রাজীবকে তৃণমূলে ফেরানোয় আপত্তি, বিক্ষোভ-মিছিল ডোমজুড়ে

‘রুদ্ধদ্বার’ চা-চক্রের পরেই শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যপাল। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সেই চেনা মেজাজে ফের একবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দিকে আঙ্গুল তোলেন তিনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যহত। একাধিক জায়গায় অশান্তি হয়েছে।” এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি প্রশ্ন করেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী সেই জায়গাগুলি পরিদর্শন করতে গেলেন না? ‘বাংলায় গণতন্ত্র নিঃশ্বাস নিতে পারছে না’ বলেও জানান তিনি। এদিন রাজ্যপাল রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আঙ্গুল তোলেন। তিনি বলেন, “উর্দিধারীরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন না। বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বারের জন্য বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গড়েছে। মানুষের রায়ে বাংলা দখল হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন কোনও কাজ করছে না।”

আরও পড়ুন: ‘ঘরে ফেরা’ মুকুলকে তৃণমূলে বড়োসড়ো পদ দিতে চলেছেন মমতা

রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সম্পর্ক যে খুব একটা মধুর নয়, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বহুবার টুইট বার্তায় তিনি রাজ্য সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। বাংলার একুশে নির্বাচনের আগে ও পরে রাজ্যপালের টুইটের সংখ্যা আরও বেড়েছে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের দাবি, বাংলায় তৃণমূল সরকারের আমলে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র শ্বাসরুদ্ধ হয়েছে। একুশে ভোটের পর সেই সন্ত্রাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই দাবি করে এসেছেন তিনি। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে আজকের এই সাংবাদিক বৈঠকের পর রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের মধ্যে সংঘাত আরও চরমে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিকমহল।

আরও পড়ুন: বাংলায় ‘করোনা বিধিনিষেধ’ বাড়ল ১ জুলাই পর্যন্ত

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *