ম্যাচ হারলেও কেকেআরের লড়াই প্রশংসনীয়

Mysepik Webdesk: মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আইপিএল ২০২১-এর ১৫তম ম্যাচটিতে আজ মুখোমুখি হল চেন্নাই সুপার কিংস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে চেন্নাই স্কোরবোর্ডে বিশাল রান তোলে। ২২১ রানের লক্ষ্য দিয় কলকাতাকে। জবাবে কেকেআর ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। কলকাতা প্রথম ওভারেই একটি উইকেট হারিয়ে ফেলে। ওপেনার শুভমান গিল প্রথম বলেই রানের কোনও খাতা না খুলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। দীপক চাহারের বলে তিনি এনগিডির হাতে ধরা পড়েন।

আরও পড়ুন: নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম জয়ের মুখ দেখল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

চেন্নাই সুপার কিংস ৩ উইকেট হারিয়ে পাহাড়প্রমাণ ২২০ রান তোলে। ওপেনার ঋতুরাজ গায়কওয়াড় আইপিএলে চতুর্থ এবং ফাফ ডুপ্লেসিস ১৭তম অর্ধশতরান পূরণ করেন। ডুপলেসিস ৬০ বলে অপরাজিত ৯৫ এবং ঋতুরাজ ৪২ বলে ৬৪ রান করেছিলেন। উভয় ব্যাটসম্যানের এই মরশুমে এটি প্রথম অর্ধশতক। তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসা মঈন আলি ১২ বলে ২৫ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন।

আরও পড়ুন: বক্সার সিমরনজিৎ কৌরের করোনা, স্থগিত করা হল মহিলাদের জাতীয় শিবির

তবে, চেন্নাইয়ের দেওয়া পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্যের জবাবে কেকেআরের প্রথমসারির পাঁচ ব্যাটসম্যান অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। নীতীশ রানা ৯, শুভমান গিল ০, রাহুল ত্রিপাঠী ৮, অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান ৭, সুনীল নারিন ৪ রান করে সাজঘরের পথ দেখেন। কিন্তু এরপর থেকে কাউন্টার অ্যাটাক করতে থাকে আন্দ্রে রাসেল এবং দীনেশ কার্তিক। রাসেল তাঁর অর্ধশতক পূরণ করেন মাত্র ২১ বলে। এই আইপিএল মরশুমে এটাই ছিল এই ক্যারিরিয়ন ক্রিকেটারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি। রাসেলের অফ ফর্ম দেখে অনেকেই সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন। তাঁর পেশিশক্তি আগের মতো নেই বলে অনেকে কটাক্ষ করেছিলেন। আর আজ তিনি তাঁর পেশিশক্তি প্রদর্শন করে ৩টি চার এবং ৬টি ছক্কা মেরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত সমালোচনার জবাব দিলেন। তবে স্যাম কারেনের বল বুঝতে না পেরে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বোল্ড আউট হয়ে যান তিনি। তিনি আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেকেআরের জয়ের আশাও ক্ষীণ হয়ে যায়। কার্তিক এবং রাসেল মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়েন।

আরও পড়ুন: টি-২০ বিশ্বকাপের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকা

এরপর দীনেশ কার্তিক ব্যক্তিগত ৪০ রানের মাথায় আউট হন। তিনি ২৪ বলে এই ইনিংস উপহার দেন। ৪টি চার এবং ২টি ছয় দিয়ে সাজানো ছিল কার্তিকের ইনিংস। তবে প্যাট কামিন্স ধোঁয়াদার ব্যাটিং করে কলকাতার জয়ের আশা জিইয়ে রাখে। কামিন্স ৫০ পূরণ করেন ২৩ বল খেলে। অর্ধশতক পূরণ করতে তিনি ৩টি চার এবং ৫টি ছয় হাঁকান। একা কুম্ভ হয়ে লড়তে থাকেন কামিন্স। উল্লেখ্য, বল হাতে তিনি এই ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ১৪.৫০ ইকোনমি রেটে ৫৮ রান দিয়েছিলেন। তাই তাঁর কাছে শাপমোচনের একমাত্র জায়গা ছিল ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে কিছু করা।

আরও পড়ুন: কলকাতায় চিকিৎসা করাতে আসা বাংলাদেশি ফুটবলারের দায়িত্ব নিয়ে মন জিতে নিলেন সবুজ মেরুন ব্রিগেডের প্রীতম কোটাল

কামিন্সের প্রচেষ্টায় ১৮ ওভারে কেকেআরেরে রান গিয়ে দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৯৩। অর্থাৎ জেতার জন্য তখনও বাকি ১২ বলে ২৮ রান। ১৯তম ওভারে চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি বল তুলে দেন স্যাম কারেনের হাতে। প্রথম বল ডট হওয়ার পর দ্বিতীয় বলে অনসাইডে ফ্লিক করে ছক্কা হাঁকান কামিন্স। তৃতীয় বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যান বরুণ চক্রবর্তী। এরপর যাবতীয় প্রয়াস চাপা পড়ে যায়। ২০২ রানে শেষ হয়ে যায় কলকাতার ইনিংস। ১৮ রানে জেতে চেন্নাই। তবে, শুরুতে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও কলকাতার এই লড়াই প্রশংসার দাবি রাখে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *