মেডিক্যল কলেজে ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত চিকিৎসক দেবাংশী সাহা

Mysepik Webdesk: অবশেষে কলকাতা মেডিক্যল কলেজে ইঞ্জেকশন চুরির ঘটনার তদন্তের অবসান ঘটল। এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হাসপাতালেরই চিকিৎসক দেবাংশী সাহা। কমিটির দেওয়া রিপোর্টেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে দেবাংশী ২৬ টি টোসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন নিয়েছিলেন। সাধারণত নিয়মানুযায়ী কোনও হাউস স্টাফ বা মেডিক্যাল অফিসার এই ইঞ্জেকশান নিতে পারে না, কারণ করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই জীবনদায়ী ইঞ্জেকশনগুলি শুধুমাত্র সিনিয়র রেসিডেন্ট পদের চিকিৎসকরাই নিতে পারেন। তাছাড়া কাকে, কেন এই ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে, কতটা ডোজ দেওয়া হচ্ছে, তার সমস্ত বিবরণ রেকর্ড রাখতে হয়। সেই নিয়ম মানেননি চিকিৎসক দেবাংশী সাহা।

আরও পড়ুন: ‘রাজ্যপাল একজন অতৃপ্ত আত্মা, টুইট না করে ওনার ঘুম আসে না’, জগদীপ ধনকড়কে বেনজির আক্রমণ কুণাল ঘোষের

গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতা মেডিকেল কলেজে ইঞ্জেকশন চুরি নিয়ে হই হই কান্ড ঘটে গিয়েছে। মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ইতিমধ্যেই ইঞ্জেকশন চুরির বিষয়ে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পাশাপাশি হাসপাতালের পক্ষ থেকে গোটা বিষয়টির তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিই ছিল তদন্তের দায়িত্বে। ওই কমিটিতে ফার্মাকোলজি ফরেনসিক-সহ নানা বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সিং বিভাগের কয়েকজন আধিকারিক ছিলেন। এই ঘটনার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানেও গিয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, এই বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ। সুতরাং এই বিষয়ে তিনি কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবেন না। স্বাস্থ্য দফতর যা ভাল বোঝে তাই করবে। কারণ, মেডিকেল কলেজের হাতেই আইনত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাড়িতে লালবাতি লাগানো নিয়ে কড়া নির্দেশ দিলেন মমতা

জেনে রাখা ভাল যে টোসিলিজুম্যাব ইঞ্জেকশন হলো এমনি একটি ইঞ্জেকশন যেটি করোনা রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। রোগীর শরীরে সাইটোকাইনিনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে এই ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ বলা যায় যে রোগীর শরীরে যখন ইনফ্ল্যমেশান বা প্রদাহ তৈরি হয় তখন কোষে কোষে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার বার্তা পৌঁছে দেয় এই টোসিলিজুম্যাব ওষুধ। এই ইঞ্জেকশনের একেকটির বাজারমূল্য ৫০-৫৬ হাজার টাকার কাছাকাছি। কালোবাজারে এই ইঞ্জেকশান প্রায় দুই আড়াই লক্ষ টাকাতেও বিক্রি হয়। অনুমান করা হচ্ছে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি যাওয়া ওই ইঞ্জেকশনের বাজারমূল্য কম করে ১০ লক্ষ টাকা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *