মূল্যস্ফীতিতে লেবাননের বেশিরভাগ পরিবার নিজেদের ইফতার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে

Lebanon

Mysepik Webdesk: এশিয়া মহাদেশের পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত মুসলিমপ্রধান দেশ লেবানন। ১৯৪৩ সালে এই দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। ২০১৮ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশটির মোট জনসংখ্যা ৬৮ লক্ষ্য ৬০ হাজারের কাছাকাছি। তবে এই দেশটি বিভিন্ন কারণে অর্থনৈতিকভাবে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। বর্তমানে দেশটির এমন অবস্থা যে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

আরও পড়ুন: জাপানে সাইবার হামলার জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে চীনের নিরাপত্তা বাহিনীকে!

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পবিত্র রমযান মাস। এবারে রমযান মাসে লেবাননের বেশিরভাগ পরিবার প্রতিদিন নিজেদের ইফতারের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির অর্থনৈতিক সঙ্কট ও খাবারের দ্রুত দাম বাড়ায় এ পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। লেবাননের সঙ্কট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা দ্য লেবানন ক্রাইসিস অবজারভেটরির সম্প্রতি তাঁদের এক গবেষণায় এমনই এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

ওই সংস্থার গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, যে পাঁচ সদস্যের এক পরিবারকে এক মাসের ইফতারের জন্য চলতি বাজারে নূন্যতম মজুরির আড়াই গুণ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এদিকে লেবাননে নূন্যতম মজুরির পরিমাণ ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার পাউন্ড। কিন্তু কালোবাজারে বর্তমানে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার লেবানিজ পাউন্ড মাত্র এক ডলারে বিনিময় হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে লেবাননে এক মাসের ইফতারে জন্য খরচ হচ্ছে ১৮ লক্ষ লেবানিজ পাউন্ড, যেখানে ২০১৮ সালে লাগতো চার লক্ষ ৪৪ হাজার পাউন্ড। তবে এই হোসেন করার সময়ে দেশটির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন বা শরবত এর মধ্যে যোগ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে

ওই সংস্থার গবেষণা পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ও বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাসের ইয়াসিন মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এই বিশাল মূল্য বৃদ্ধি লেবাননের গরিব পরিবারগুলোর জন্য মৌলিক খাবার ও তাদের জন্য রমযানের ইফতার জোগাতেও অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করবে।

২০২০ শেষ হতেই আন্তর্জাতিক বাজারে লেবাননের পাউন্ডের দাম হু হু করে পড়তে শুরু করে। আর এই মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে লেবাননের প্রতিটি পণ্য ও সেবায়। এদিকে লেবাননে ৮০ ভাগ পণ্যই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয় ফলে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব আরো বেশি করে দেখা দিয়েছে।

ইয়াসিন আরও বলেন, ‘বিদেশ থেকে আপদানি করা তেল, মাংস ও অন্য পণ্যের দাম প্রকৃতই অনেক বেশি। তবে স্থানীয় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদনের প্রাথমিক সরঞ্জাম যেমন বীজ, কীটনাশক ও কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পণ্যের খরচের সঙ্গেই এটি জড়িত। এটিই পুরো ব্যয়কে প্রভাবিত করছে।’

চলতি বছর একটি রুচিসম্মত ব্যয়বহুল ইফতার বেশিরভাগ লেবানিজ পরিবারের ক্ষেত্রে জোগাড় করার সামর্থ্য নেই। দেশটিতে বর্তমানে আনুমানিক অর্ধেক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *