বসিরহাটের দুর্গাপুজো: থিম আর সাবেকিয়ানার যুগলবন্দি

অতনু বসু

‘শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে ভোরের আগমনী’। শরৎ আকাশে সাদা পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর বাতাসে শিউলি আর কাশফুলের গন্ধ জানান দেয় বাঙালির ঘরের মেয়ে উমা আসছে। উমার আগমনে মেতে ওঠে আপামর বাঙালি। ইছামতীর তীরের বসিরহাট শহরের সকল মানুষ ও নিজেদের ভাসিয়ে দেয়।

বসিরহাটের ম্যাডক্স প্রান্তিক

দুর্গাপুজো বলতেই বেশিরভাগ বাঙালির মনে ভেসে উত্তর কলকাতার হাতিবাগান, নলীন সরকার স্ট্রিট, মহম্মদ আলি পার্ক, আহিরীটোলা, বাগবাজার কিংবা দক্ষিণ কলকাতার মুদিয়ালি, বোসপুকুর, যোধপুর পার্ক, ম্যাডক্স স্কোয়ার ইত্যাদি। তবে ছোট্ট বসিরহাট শহরও থেমে থাকে না। তারাও কলকাতার পুজোর সঙ্গে টক্কর দিতে হাজির হয় নতুন নতুন থিম নিয়ে। তবে কলকাতার পুজোর সঙ্গে এর পার্থক্য হল, কলকাতার পুজোর খরচ আসে বিভিন্ন সংস্থা প্রদত্ত স্পনসর থেকে আর বসিরহাটের পুজোর অর্থের বেশিরভাগ আসে স্থানীয় লোকজন-প্রদত্ত চাঁদা থেকে।

বসিরহাটের অন্যতম সেরা পুজো বাজারপাড়া

এখানকার পুজোর শুরু হয় মহালয়া থেকে। বিভিন্ন পুজো কমিটির সদস্যরা এ পাড়া থেকে ও পাড়া ঘোরাঘুরি করেন চাঁদা সংগ্রহ করার জন্য। মহালয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত চলে চাঁদা সংগ্রহ। যে যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী চাঁদা দেন।

অন্যতম সেরা ব্রিকফিল্ড অ্যাসোসিয়েশন

এ তো গেল অর্থের কথা। এবার আসা যাক প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জার কথায়। বসিরহাটের পুজোকে আমরা বলতেই পারি থিম আর সাবেকিয়ানার যুগলবন্দি। মণ্ডপসজ্জায় যেমন থাকে থিমের অভিনবত্ব, ঠিক তেমনই প্রতিমাতে থাকে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। এ বিষয়ে উই দি গ্রিন, বাজারপাড়া, প্রগতি সংঘ, অগ্রগামী, জাতীয় পাঠাগার, তরুণ সংঘের নাম অগ্রগণ্য।

থিমপুজোয় অগ্রগণ্য প্রগতি

আবার দেবদূত, যুবক সংঘ, বড় কালীবাড়ি তাদের অনিন্দ্যসুন্দর প্রতিমা দিয়ে মানুষের হৃদয় জিতে নেয়। মহুয়া সংঘ, বিবেকানন্দ ব্যায়াম সমিতির পুজো মানুষের মন জিতে নেয় তুলো, পয়সা, গাছের পাতা ও ছাল, মশলা ও বিভিন্ন জিনিস দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে। সারা বসিরহাট ভরে ওঠে আলোকমালায়।

বসিরহাটের পুজো নিয়ে বলতে গেলে প্রান্তিক-এর কথা না বললেই নয়। এটি হল বসিরহাটের ম্যাডক্স স্কোয়ার। এখানে বসে আড্ডা মারা, ফুচকা, আইসক্রিম খাওয়া না হলে পুজোর আনন্দ সম্পূর্ণ হয় না।

বসিরহাটের সেরা উই দি গ্রিন

এরপর আসে বিজয়া। বসিরহাটের পুজোর সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ, বসিরহাটের ঐতিহ্য ইছামতীতে বিসর্জন। এর মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে বাঙালির প্রাণের উৎসবের।

অন্যতম সেরা প্রতিমা জামরুলতলা

তবে এ বছর পরিস্থিতি ঠিক নয়। করোনাসুরের আক্রমণে আমরা দিশেহারা। তাই মায়ের কাছে নিবেদন, মাগো করোনাসুর বধ করে বিশ্বে হাসি-আনন্দ ফিরিয়ে দাও।

বিঃদ্রঃ ছবিগুলি বিগত বছরগুলির
কভার ছবি অগ্রগামীর সাবেকী প্রতিমার
চিত্রঋণ লেখক

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *