কাটোয়ার মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজো

পার্থ কর

শতাধিক বছরের পুরনো কাটোয়ার মল্লিক বাড়ির দুর্গাপুজো। পঞ্চাননতলায় প্রধান রাস্তার একেবারে গায়েই এই প্রাচীন মল্লিক বাড়ি। সারাবছরই দরজা বন্ধ থাকে, কেবল পুজোর চারদিন সাধারণের জন্য খোলা থাকে। পরিবারের এই পুজো পূর্বপুরুষ রাধিকা প্রসাদ মল্লিক সূচনা করেছিলেন স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে। তাঁর তৈরি করা নিয়ম অনুযায়ী, এ বাড়ির পুজোর সমস্ত আয়োজন করেন ব্রাহ্মণেরা। বাড়ির সদস্য-সদস্যারা কেউ সরাসরি পুজোর আয়োজনে হাত লাগান না। দেবীর জন্য ভোগ রান্না বা প্রসাদের ব্যবস্থা— সবই সেই ব্রাহ্মণেরাই করেন।

আরও পড়ুন: মন্দির বানিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় রেল, দেড়শতাধিক বছর ধরে সেখানেই আরাধ্য দুর্গাপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গা

প্রথমে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে রাধিকাবাবু আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেই কেবল ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে পুজোর সূচনা করেন। শোনা যায়, এর পরেই পারিবারিক ব্যবসায় অভাবনীয় উন্নতি লাভ করেন তাঁরা। তারপর আস্তে আস্তে পুজোর জন্য আলাদা গৃহ নির্মাণ করা হয়।

এরপর বছরে বছরে বৈভবে, আয়োজনে বাড়তে থাকে মায়ের আরাধনার জমক। তবে অধুনা ব্যস্ততার জীবনে সে আয়োজনে কিছুটা যেন ভাটার টান। বিশেষ করে এ বছর করোনার কারণে সে আয়োজন আরও হ্রাস পাবে।

আরও পড়ুন: নারায়ণপুরের সরকার বাড়ির দুর্গার চালচিত্রে আঁকা থাকে গ্রামের বিদ্যালয়ের ছবি

বন্ধ বাড়ির দরজার সামনে এক প্রতিবেশিণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবছরের দেবীর মাটির মূর্তি ছোট আকারের হবে এবং হয়তো নবমীর দরিদ্রভোজনও করানো হবে না। সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হবে কিনা, তাও ঠিকঠাক জানা যাচ্ছে না।

এ বাড়ির পুজোর সময় পুজোর গৃহ সাজানো হয়, ঝাড়বাতি জ্বলে। প্রতিটি জানালায় বাঁধা থেকে বাতাসা ও নারকেল— যাকে বলা হয় ‘রচনা’। এর সঠিক ব্যাখ্যা জানা যায়নি। প্রতিমা বিসর্জন হয় গঙ্গার ঘাটে। ঐতিহ্য ও পারিবারিক বনেদিয়ানা মিশে কাটোয়াতে এই পুজোর মর্যাদাই আলাদা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *