তৎকালীন বিহারের সর্খেলডিহির সর্খেল বাড়ির দুর্গাপুজো

দীপান্বিতা হাজরা

আজ একটু অন্য রাজ্যের পুজো নিয়ে গপ্পো করি। তৎকালীন বিহারের (এখন ঝাড়খণ্ড) সর্খেলডিহির সর্খেল বাড়ির বিখ্যাত দুর্গাপুজো। সর্খেল পদবি উপাধি পাওয়া, আসল পদবি গাঙ্গুলি। গাঙ্গুলি পরিবার কী করে সর্খেল উপাধি পেল, তা জানতে আমাদের ইতিহাসের পথে হেঁটে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকশো বছর। গাঙ্গুলি পরিবারের আদত ভিটে মুর্শিদাবাদ। আওরঙ্গজেব তখন মসনদে। রাজস্ব আদায়ে যথেষ্ট মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন গাঙ্গুলি পরিবারেরই এক পূর্বজ। আওরঙ্গজেব খুশি হয়ে গাঙ্গুলি পরিবারকে সর্খেল উপাধি উপহার দিয়েছিলেন। সেই সর্খেল পরিবারের ৩০০ বছর ধরে বাস সর্খেলডিহিতে।

কিন্তু পুজো কী করে শুরু হল? সে আর এক কাহিনি। পরিবারের সদস্য সূত্রেই কাহিনি জানা গেল। সর্খেল পরিবারের সাতটি শরিক। তার মধ্যেই এক শরিক, নাম রাখালচন্দ্র সর্খেল, ঘোড়ায় চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন রাতে। হঠাৎ একটি মেয়ে রাস্তায় ঘোড়া থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুই কি আমার পুজো করবি না?” তারপরই মেয়েটি অদৃশ্য হয়ে যায়। সরখেল পরিবারে সর্খেলডিহিতে শুরু হয় মাতৃ আরাধনা।

পরবর্তীকালে এই পুজো ঝাড়খণ্ডের দক্ষিণবহাল স্থানান্তরিত হয়, যা এখনও বর্তমান। আর সব দুর্গামূর্তির থেকে এই মূর্তি একটু আলাদা। গণেশ বামদিকে এবং কার্তিক ডানদিকে থাকেন এই পুজোয়। এবং দেবীর কাঠামো বিসর্জনের পর তুলে আনা হয়ে থাকে। সারাবছর মন্দিরে নিত্যপুজো হয় সেই কাঠামো। পুজোর আগে নতুন মাটি দেওয়া হয় কাঠামোতে।

পরিবারের এক সদস্যা নন্দিনী জানালেন— দেবী খুবই জাগ্রত, দেবীর কাছে যা চাওয়া হয়, দেবী সেই ইচ্ছে পূরণ করেন। বত্রিশ বছর আগেও বেশ কয়েকটি কালো কারা (মহিষ) বলি দেওয়া হত। এখন অবশ্য নবমীতে পাঁঠা বলি এবং অষ্টমীতে প্রায় তিনশো কুমড়ো বলি এবং আখ বলি দেওয়া হয়। আগে বন্দুকে ফাঁকা কার্তুজের আওয়াজ করার রেওয়াজ ছিল। এই পরিবারের পুজোর আরেকটি নিয়ম হল দশমীর দিন কুমারী ভোজন। অবিবাহিত মেয়েদের এই দিন ফলাহার করেই থাকতে হয়। এই কয়েকটা দিন সাত শরিকের একসঙ্গে মিলে একছাদের তলায় খাওয়াদাওয়া, থাকা, আড্ডা, গল্প, ভিনরাজ্যেও নিটোল বাঙালি আমেজই এনে দেয়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *