গোলের খাতা না খুললেও পয়েন্টের খাতা খুলল ইস্টবেঙ্গল

Mysepik Webdesk: চার ম্যাচের পরেও হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সপ্তম আসরে তাদের জয়ের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেনি কলকাতার জায়ান্ট এসসি ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার জামশেদপুর এফসির বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হল লাল হলুদ ব্রিগেডকে। তবে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে এই ড্রকে অনেকেই নৈতিক জয় বলছেন। কারণ ম্যাচের ২৫ মিনিটে লিংডো লাল কার্ড দেখে উঠে যাওয়ায় ফাওলারের দল ১০ জনে হয়ে যায়। এরপর দশজনের ইস্টবেঙ্গল বিপক্ষের জালে বল জড়াতে না পারলেও বিপক্ষকেও নিজেদের জালে বল জড়াতে দেয়নি। যার সুবাদে এই ম্যাচের পরে তাদের অ্যাকাউন্টে একটি পয়েন্ট যুক্ত করেছে ইস্টবেঙ্গল। যদিও তারা এখনও ১১ টিমের পয়েন্ট টেবিলে চূড়ান্ত স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, জামশেদপুর পাঁচটি ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট পেয়েছে। এটি এই মরশুমের তৃতীয় ড্র জামশেদপুরের। তারা রয়েছে পঞ্চম স্থানে।

আরও পড়ুন: বছরের সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান বজরং পুনিয়া, এলাভেনিল ভালারিভানকে

প্রথমার্ধ গোলহীন অবস্থায় শেষ হয়েছিল। এই অর্ধে জামশেদপুর বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ করলেও তা সফল হয়নি। অন্যদিকে, এই অর্ধ ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে ভালো যায়নি। লাল হলুদ বাহিনীর লিংডোকে ২১ মিনিটে একটি হলুদ কার্ড এবং ২৫তম মিনিটে ফাউলের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়, যা লাল কার্ডে রূপান্তরিত হয়। এই কার্ডের পরে ইস্টবেঙ্গল কিছুটা ছন্দ ফিরে পেয়েছিল এবং তাদের পোস্টকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি কিছু আক্রমণ করেছিল। তবে সফলতা আসেনি। জামশেদপুরের তারকা নেরিজাস ভ্যালাসাকিস ২৯ মিনিটে গোল করার দুর্দান্ত এক সুযোগ হাতছাড়া করেন। ভ্যালাসাকিসের ভলি পোস্ট থেকে কয়েক ইঞ্চি বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৩৮তম মিনিটে অ্যাটোর মনরো একটি কর্নার কিক নিয়েছিলেন। কর্নার থেকে ভাসানো বলে স্টেফান ইজে হেড দেন। সেই হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ৪১ মিনিটে জামশেদপুর আরও একটি দুর্দান্ত আক্রমণ হানে। ফ্রিকিক পায় জামশেদপুর। মনরো ফ্রিকিক নিয়েছিলেন। ভাসানো বলটিকে ভ্যালাসাকিস হেডারের মাধ্যমে জালে রাখার চেষ্টাও করেছিলেন। তবে গোলরক্ষক শঙ্কর রায় সতর্ক ছিলেন।

আরও পড়ুন: করোনার ভয়ে ফাঁকা ভারতীয় হকি দলের হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর পদ

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দু’টি দলই একটি করে করে পরিবর্তন করেছিল। জামশেদপুর অনিকেত যাদবের জায়গায় ইসাক ভ্যানমালসাওমাকে নামায়। ইস্টবেঙ্গল জেজে লালপেখলুয়ার জায়গায় নামায় ওয়াহেংবাউম অ্যাঙ্গুসানাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর ১৫ মিনিট উভয় দলের জন্য হতাশাব্যঞ্জক ছিল। ৫৮ মিনিটে জামশেদপুরের লালদিনলিনা রেন্থলেই হলুদ কার্ড দেখেন। ৬১ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ের টানের কারণে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক শঙ্কর রায় মাঠের বাইরে যান। তাঁর জায়গায় দস্তানা হাতে নামেন দেবজিৎ মজুমদার। জামশেদপুর ৬৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে একটি ফ্রিকিক পায়। ফ্রিকিক থেকে ফিরতি বল আসে আলেকজান্ডার লিমার কাছে। লিমা হার্ডকিক করে গোল করার চেষ্টা করলেও বল ক্রসবারে আঘাত করে বাইরে চলে যায়। ৭৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের মহম্মদ রফিক একটি হলুদ কার্ড দেখেন। ৮৩ মিনিটে বক্সে পৌঁছে গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু জামশেদপুরের অধিনায়ক পিটার হার্টলির প্রচেষ্টায় তা ব্যর্থ হয়। রেন্থলেই ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান। খেলা শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *