অনুমোদনের পর কেটে গেছে আঠারো বছর: শিক্ষক সংকটে বোলপুরের বিদ্যালয়

Birbhum School

বোলপুর, ৩০ আগস্ট: মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়েছে সেই ২০০২ সকালে। তারপর কেটে গেছে ১৭টা বছর। এখনও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ হয়নি কোনও শিক্ষক। ফলে এক রকম জোড়াতালি দিয়েই চলছে পঠন-পাঠন। শিক্ষক সংকটে ভূগছে বোলপুরের শান্তিনিকেতন থানার বিনুড়িয়া নীরদ বরনী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানশিক্ষক চাকরিরত অবস্থায় বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করে যান। শিক্ষক নিয়োগের জন্য অনেক দরবারও করেন। বৈদ্যনাথবাবু অবসর নেওয়ার পর এখন প্রয়াত হয়েছেন। তারপরও প্রধানশিক্ষক বদল হয়েছেন অনেকে। বিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক স্তরে প্রায় দু’শো জন ছাত্রছাত্রী। বাংলা, ইংরেজী, ভূগোল, সংস্কৃত, ইতিহাস, দর্শন, অর্থনীতি ও শিক্ষা বিষয় পড়ানো হয়। অনুমোদনের পর রাষ্ট্র বিজ্ঞান পড়ানো হলেও এখন শিক্ষকের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বিষয়টি।

আরও পড়ুন: গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে বড়বাজারে পুড়ে ছাই বহুতল

মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক কৌশিক সরকার, সমীরণ পাল, ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মানিক চন্দ্র ঘোষরাই উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নেন। বিদ্যালয়ে নেই প্রধানশিক্ষকও। সহকারী প্রধান শিক্ষক মানিক চন্দ্র ঘোষ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তিনি জানান, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে অর্থনীতি ও শিক্ষা বিষয় পড়ানোর জন্য চুক্তিভিত্তিক দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। দর্শন বিষয় পড়ানোর জন্য পার্টটাইম একজনকে নেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়গুলি পড়ানোর জন্য শিক্ষক নেই। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের দিয়েই পঠন-পাঠন চালাতে হয়। শিক্ষক নিয়োগের জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে কলকাতার বিকাশ ভবন পর্যন্ত বহুবার আনাগোনা করা হয়েছে। ট্রেনে কলকাতার বিকাশ ভবনে গিয়ে ঘুরে আসা ছাড়া কোনও সুরাহা হয়নি বলে জানান বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মানিক চন্দ্র ঘোষ।

আরও পড়ুন: বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিসভা আউসগ্রামে

বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের সংগঠনের আহ্বায়ক সেখ এহিয়া, প্রাক্তনী সংগঠনের সম্পাদক সহদেব মণ্ডল, প্রাক্তন ছাত্র নজিবুর রহমানরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পড়ানো হলেও শিক্ষক সংকটে ভুগছে। প্রাক্তন ছাত্রদের তরফে প্রায় শ’তিনেক প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক মিলে গণ-স্বাক্ষর করে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে জমা দিয়ে এলেও কোনও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এক সময় এই বিদ্যালয়ে আরবি ভাষা শিক্ষাও পড়ানো হত। শিক্ষকের অভাবে তাও বন্ধ। এখন উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সব বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে আরবি ভাষা শিক্ষক ও সঙ্গে এনসিসি চালু করার আবেদন জানান ছাত্রছাত্রীরা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *