‘ইউরোপ সেরা’ চেলসির ইতিহাস

Chelsea

মিত্রাংশু ব্যানার্জ্জী

সময়টা ঊনবিংশ শতকের একদম শেষের দিক। ব্রিটেনে ফুটবলের মরশুম জোরকদমে চলছে। লন্ডনের পশ্চিম প্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ফুটবল ক্লাব ফুলহ্যাম। ঠিক এই সময় ফুটবলপাগল ব্যবসায়ী হেনরি অগাস্টাস মেয়ার্স এবং তাঁর ভাই জোসেফ মেয়ার্স ফুলহ্যাম এফসি-র মাঠের ঠিক পাশেই প্রথম শ্রেণির ফুটবল ম্যাচে টিম নামানোর লক্ষ্যে কিনে নেন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ অ্যাথলেটিকস গ্রাউন্ড। প্রথমদিকে যদিও তাঁদের আগ্রহ ছিল ফুলহ্যাম ক্লাবের উপরেই, কিন্তু দরদাম সংক্রান্ত জটিলতার জন্য ব্রিটিশ ইগোর বশবর্তী হয়ে একটা সময় তারা নিজেদের গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ে কোম্পানি বিক্রি করে কোম্পানির কয়লা ফেলার মাঠে নিজেদের ফুটবল ক্লাব খোলার প্রচেষ্টা শুরু করেন। ঠিক এই সময়েই মেয়ার্সের সহকর্মী এবং অভিন্ন হৃদয় বন্ধু ফ্রেন্ড পার্কারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা মের্সের মাথায় শুভবুদ্ধি উদ্রেক ঘটায় এবং তিনি নিজের ক্লাব তৈরি করার বদলে ক্লাব কেনার সিদ্ধান্তে উপনীত হন। আর এভাবেই তিনি কিনে নেন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ। ফুটবলপাগল অগাস্টাস ক্লাবের নাম বদল করতে গিয়েও বিপদে পড়েন কারণ ক্লাবের অপর এক মালিক এ সম্পর্কে ঘোরতর প্রতিবাদ জানান। এবং এই টালবাহানার মধ্যেই কেটে যায় ১৮৯৬ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত সময়। অবশেষে ১৯০৪ সালে অপর মালিকের মৃত্যুর পর তাঁর হাতে আসে ফ্রি হোল্ড পাওয়ার। সঠিক নাম খুঁজতে লেগে যায় প্রায় এক বছর। প্রথমে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ এফ.সি তারপরে লন্ডন এফসি এবং কেন্সিংটন এফসি নামের পর অবশেষে ফুলহামের পার্শ্ববর্তী বোরো অঞ্চলের নাম অনুসারে ১৯০৫ সালের ১০ মার্চ ফুটবল দুনিয়ায় আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘নীল দানব’ চেলসি এফসি-র। অবশ্য আজকাল যে রয়েল ব্লু রঙের চেলসি জার্সি আমরা দেখতে পাই, ১৯০৫ সালের জার্সির রং কিন্তু মোটেই এরকম ছিল না। তখন জার্সির রং ছিল টারকুইজ শেডের ‘ইটন ব্লু’। ১৯১২ সালে প্রথমবার ইটন ব্লু-র পরিবর্তে জার্সিতে ওঠে রয়েল ব্লু রং এবং বিশ্ব ফুটবলে তারা পরিচিত হয়ে ওঠে ‘দ্য ব্লুজ’ নামে।

আরও পড়ুন: জয়ী

ফুলহ্যামের রাস্তা থেকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ

শুরুর দিনগুলো অবশ্য চেলসির জন্য মোটেই সুখকর ছিল না। চেলসি প্রথমে সাউদার্ন লিগ জয়েন করার আবেদন জানালেও পার্শ্ববর্তী ক্লাব ফুলহ্যাম এবং টটেনহাম হটস্পারের বিরোধিতায় বাধ্য হয় ‘ফুটবল লিগে’ অংশগ্রহণ করতে। ১৯০৫ সালের ২৯ মে চেলসি এফসি ফুটবল লিগে তাদের নাম নথিভুক্ত করতে সমর্থ হয়। অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ক্লাবটি প্রথম থেকেই তাদের নজরকাড়া মাঠ, গ্যালারি এবং বেশ কিছু মার্কি ফুটবলারের জন্য চর্চার কেন্দ্রে চলে আসে। এদের মধ্যে উল্লেখ্য উইলিয়াম ফল্কে। ২২ বছর বয়সি শেফিল্ড ইউনাইটেডের গোলকিপার ইতিমধ্যেই তখন একটি লিগ এবং দু’টি এফএ কাপ নিজের দস্তানার মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছেন।

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (৩য় অংশ)

কোবহ্যাম অ্যাকাডেমি

নবনির্মিত এই ক্লাবকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ২৮ বছর বয়সি স্কটিশ জন রবার্টসনকে। যিনি একাধারে প্লেয়ার এবং ম্যানেজার দু’জনেরই কাজ চালাতে থাকেন। অবশেষে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দিন। ১৯০৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর, যখন চেলসি লিগের প্রথম ম্যাচে স্টকপোর্ট স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে নামে। যদিও সেই ম্যাচে জয় তাদের কাছে অধরাই থেকে যায়। তারা ০-১ গোলে পরাজিত হয় স্টকপোর্টের কাছে। চেলসির প্রথম হোম ম্যাচ ছিল লিভারপুলের বিপক্ষে একটি ফ্রেন্ডলি। সেই ম্যাচে তারা লিভারপুলের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জয়ী হয় এবং সেই সপ্তাহেই লিগের ম্যাচে ব্ল্যাকপুলের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়ী হয়ে তাদের জয়যাত্রা শুরু করে। প্রথম সিজনেই সম্মানীয় তৃতীয় স্থান দখল করে তারা বছর শেষ করে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশ বৃত্তান্ত: গৌরচন্দ্রিকা

মায়াবী ব্রিজ

এভাবেই চলতে থাকে সময়। প্লেয়ারদের আসা-যাওয়ার মধ্যেই চেলসিতে আগমন জর্জ হিলসডনের। নিজের অভিষেক ম্যাচেই চার গোল এবং গোটা সিজনের ২৭টি গোল করে চেলসিকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করেন। তিনিই ছিলেন চেলসির প্রথম প্লেয়ার যিনি ক্লাবের হয়ে ১০০টি গোল করেছিলেন। ডেভিড ক্যালডারহেডের নাম অবশ্য এ প্রসঙ্গে করা ভীষণ জরুরি, কারণ তিনি হলেন চেলসির দীর্ঘস্থায়ী ফুটবল কোচ, যিনি এই পর্বে একটানা ২৬ বছর এই ক্লাবে কোচিং করিয়ে গিয়েছিলেন। অবশ্য এরই মধ্যে ১৯০৯-১০ সিজনে চেলসি রেলিগেট হয়েছে ১১-১২ সিজনে আবার প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়ে ১৯ নম্বরে শেষ করেছে। এছাড়াও আছে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা যখন ১৯১৪-১৫ সালে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইংল্যান্ড বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে ১৯১৮ পর্যন্ত সমস্ত ধরনের টুর্নামেন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়‌। বিশ্বযুদ্ধের পর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রথম শ্রেণির ফুটবল নিয়ে বেশ কিছু অভিনব সিদ্ধান্ত নেয়। যেখানে তারা প্রথম শ্রেণির জন্য বাইশটি টিম নির্ধারণ করেন এবং চেলসি পুনরায় প্রথম ডিভিশনে উন্নত হয়। চেলসি অবশ্য যোগ্য দাবিদার হিসেবেই এই জায়গা অর্জন করে নেয় কারণ বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে ফুটবল বন্ধ হওয়ার মুহূর্তে তারা প্রথমবারের জন্য এফএ কাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল, যদিও কাপ তাদের অধরাই থেকে যায় কারণ সেই ম্যাচে তারা শেফিল্ড ইউনাইটেডের কাছে ০-৩ গোলে পরাজিত হয়।

আরও পড়ুন: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুর্শিদাবাদ

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ

ট্রফি অধরা থাকলেও তারা শীঘ্রই ব্রিটিশ ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাবগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ১৯০৬ সালের এক শুক্রবার মাঠে ৬৭ হাজার দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়, প্রথম ডিভিশনের কোনও ডার্বি ম্যাচে এর আগে এত দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি।

আবেগ যখন কথা বলে, ২০২১ চ্যাম্পিয়ন

জনপ্রিয়তা এবং আর্থিক স্বচ্ছলতার শিখরে থাকলেও শুরুর পাঁচ দশক চেলসির পক্ষে মোটেই সুখকর ছিল না। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তারা কেবল একবারের জন্যই এফএ কাপের ফাইনালে পৌঁছতে পেরেছিল যেখানেও তারা পরাজিত হয়। কিন্তু ১৯৫৫ ভাগ্যদেবী তাদের জন্য সুপ্রসন্ন হয়ে ওঠেন। এই পাঁচ দশকে বহুবার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে শেষ করলেও কখনোই তারা লিগ জিততে পারেনি উল্টে বেশ কয়েকবার রেলিগেশনেরও শিকার হতে হয়। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে এ বছর তারা লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সমর্থকরাও সম্ভবত এতটা আশা করতে পারেননি, কারণ গতবছর চেলসির ফল মোটেই আশাপ্রদ ছিল না। এরপর অবশ্য চেলসির সফলতার যুগ শুরু হয়। ১৯৭০ এবং ৭১ পরপর দু’বছর তারা এফএ কাপের বিজয়ী ঘোষিত হয়।

আরও পড়ুন: আঁকা-লেখা

অভিশপ্ত ২০০৮, বিতর্কিত পরাজয়

কিন্তু সমস্যা যেন কিছুতেই চেলসির পিছু ছাড়তে চায় না, সত্তরের দশকে দু’টো এফএ কাপ ঘরে ঢুকলেও স্টেডিয়ামের পুনর্নির্মাণ, অর্থনৈতিক টালবাহানা এবং সমর্থকদের গুন্ডামিতে ক্লাবের আবহাওয়া বেশ সংশয়পূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৮২ সালে মেয়ার্স পরিবার বাধ্য হয় ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে চেলসি এফসি-কে কেন বেটসের হাতে তুলে দিতে। শুরু হয় আবার নতুন করে পথ চলা। বেটস ১৯৯৬ সালে রুড গুলিটকে ক্লাবের প্লেয়ার-ম্যানেজার হিসেবে নিয়ে আসার পরই বদলাতে শুরু করে ক্লাবের চিত্র। গুলিটের হাত ধরেই ক্লাবে আসে ইতালীয় তারকা গিয়ানালুকা ভিয়াল্লি এবং গিয়ানফ্রাঙ্কো জোলা। দর্শকরা আবার নতুন উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে আসতে শুরু করে। নতুন প্লেয়ারদের আগমন নিয়ে আসে নতুন সফলতা। ১৯৯৭ এবং ২০০০ সালের কাপ এবং ১৯৯৮-এর লিগ কাপ। এভাবেই নবরূপে চেলসির আগমন ঘটে প্রিমিয়ার লিগে। সফলতায় নতুন পালক এনে দেয় ইউরোপীয় টুর্নামেন্ট ‘ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ’-এর বিজয় মুকুট যখন ১৯৯৮ সালেই তারা ফাইনালে স্টুটগার্টকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।

আরও পড়ুন: নোটস ফ্রম দ্য ডেড হাউস (৩য় অংশ)

জনজোয়ারের অভিবাদন গ্রহণ ২০১২ চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর লন্ডনের রাস্তায়

তবে এই সময় থেকেই চেলসির পরিচালন নীতির পরিবর্তন শুরু হয়। ব্রিটিশ প্লেয়ারদের বদলে দলে আধিক্য পেতে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নামকরা খেলোয়াড়রা। ১৯৯৯ বক্সিং ডে-তে সাউদাম্পটনের বিরুদ্ধে তারা অল ওভারসিজ ইলেভেন নামায়। যা নিয়ে একসময় ব্রিটিশ মিডিয়ায় প্রচুর বাক্-বিতন্ডা চলেছিল।

সেই বিরল মূহূর্ত

এই পরিস্থিতির মধ্যেই শুরু হয় চেলসি স্বর্ণযুগ যখন ২০০৩ সালে রাশিয়ার ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ চেলসির মালিকানা দখল করেন। তবে অর্জুনের যেমন সারথি হিসেবে কৃষ্ণকে প্রয়োজন হয়েছিল ঠিক সেইভাবেই রোমানকে ইপ্সিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য চেলসিতে আসেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো। ইতিপূর্বে পোর্তোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ উপহার দেওয়া হোসে অচিরেই চেলসির দর্শকদের কাছে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ নামে পরিচিত হয়ে যান, যার পেছনে যথেষ্ট কারণও ছিল। ২০০৪-০৫ সালে চেলসি সই করিয়েছিল ৫ বিখ্যাত ফুটবলারকে, যাঁরা পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ফুটবল লিগকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় লিগে পরিণত করে দেয়। এদের মধ্যে রয়েছেন আইভোরিয়ান স্ট্রাইকার দিদিয়ের ড্রগবা, পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রিকার্ডো কার্ভালহো, রাইট ব্যাক পাওলো ফেরেইরা, চেক গোলকিপার পিটার চেক প্রমুখ।

আরও পড়ুন: স্মৃতিতে সুন্দরলাল

১৯৭১-এর কাপ জয়

মোরিনহো আসার পর চেলসি ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে পর পর দু’বার প্রিমিয়ার লিগ, ২০০৫ এবং ‘০৭-এ লিগ কাপ এবং ২০০৭ সালেই এফএ কাপ জয় করে।

মোরিনহো জমানার সূচনা

চেলসি তখন অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটিয়ে দিয়েছে, ট্রফি ছাড়া তারা আর কিছুই ভাবতে চায় না। এর জন্য স্বাভাবিকভাবেই কোপ পড়তে থাকে প্লেয়ার এবং ম্যানেজারদের ওপর। খুব কম প্লেয়ারই পারফরম্যান্স দেওয়ার পর অন্য ক্লাবে গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশানুরূপ খেলা দেখাতে না পারার জন্য নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তাদেরকে ছেঁটে ফেলা শুরু হয়। প্রিমিয়ার লিগের অন্যান্য ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, লিভারপুলসহ বেশকিছু ক্লাব যেখানে একাধিক সিজন ধরে প্লেয়ার এবং ম্যানেজারদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতী সেখানে চেলসির এহেন আচরণে মিডিয়াতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কথায় বলে ‘মানি টকস’ ফলে ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চিত জেনেও বহু ম্যানেজার এবং প্লেয়ার চেলসির প্রতি আকৃষ্ট হন। এককালের ত্রাতা এবং নায়ক মরিনহোকেও ক্লাব ছেঁটে ফেলে। এরপর আব্রাহাম গ্রান্ট, লুই ফিলিপ স্কলারি, গুস হেডিঙ্কের মতো ম্যানেজাররা দুই সিজনের মধ্যেই বদলি হয়ে যান। যদিও হিডিংক এসেছিলেন এক প্রকার ত্রাতার ভূমিকায়। গ্রান্টের বিপর্যস্ত সিজনকে বাঁচাতে আব্রামোভিচ স্বদেশীয় হিডিঙ্কের উপরই ভরসা রাখেন। ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ২০১৩ সালে মরিনহো আবার ক্লাবে ফিরে এসে আরও একটি লিগ কাপ এবং প্রিমিয়ার লিগ উপহার দিলেও পুনরায় ২০১৫ সালে তাঁকে আবার দল ছাড়তে হয়।

আরও পড়ুন: ২৬ মে, ১৯২৮: ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসে একটি না ভোলা দিন

৭০-এর এফএ কাপ

এরই মাঝে আসে সেই বহুকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ২০০৯-২০১১ সিজন কাটানো কার্লো আনচেলত্তিকেও চেলসি ছেঁটে ফেলে। যদিও এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একবার লিগ কাপ এনে দিতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং তাঁরই আমলে প্রথমবার চেলসি এক সিজনে একশোর বেশি গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করেছিল, তবু ২০১১ সেশন শুরু হতেই টেবিলের একদম নিচের দিকের দল এভারটনের কাছে পরাজিত হওয়ার পরেই আব্রামোভিচ তাকে ছেঁটে ফেলেন এবং নিয়ে আসা হয় আরেক পর্তুগিজ কোচ আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াসকে। পোর্তো ফেরত এই কোচের প্রতি অগাধ আস্থা রাখা হলেও তাঁর সময়ের চেলসি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকে। চল্লিশটা ম্যাচে মাত্র ১৯টা জয় পেতে সক্ষম হয় বোয়াসের দল। সকলেই জানত কী হতে চলেছে এবং প্রত্যাশামতোই ম্যানেজমেন্ট তাঁকেও ছেঁটে ফেলে কিন্তু সিজনের মাঝখানে মনের মতো কোচ পাওয়া যখন প্রায় অসাধ্য হয়ে উঠেছে, তখন এক প্রকার ফ্যানেদের চাপে ‘ফ্যান’স ফেভারিট’ বোয়াসের অ্যাসিসটেন্ট রবার্তো ডিম্যাটিওকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ইতালির এই মিডফিল্ডার নিজেও নব্বইয়ের দশকে চেলসির হয়ে খেলে গিয়েছিলেন। তার অ্যাকিউরেট লং ডিস্টেন্স শ্যুটিং এবং পাসিং এবিলিটি ছাড়াও অভিষেক ম্যাচেই মিডলসব্রোর বিপক্ষে ফল নির্ধারক গোলের জন্য সকলেই তাকে পছন্দ করতেন। বলতে গেলে তার হাত ধরেই ১৯৮৯-৯০ সিজনে চেলসি ষষ্ঠ স্থানে শেষ করে যেটা ছিল এ যাবৎ কালে চেলসির সবথেকে ভালো পজিশন।

আরও পড়ুন: ‘এ তুফান ভারী দিতে হবে পাড়ি’, জন্মদিনে ঝোড়ো কবি নজরুল

রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে ১৯৭১-এর কাপ জয়

যাইহোক চেলসিকে ম্যানেজ করবার আগে অবধি রবার্তো এম কে ডন্স এবং ওয়েস্ট ব্রম ক্লাবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফলে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর একেবারে যে ছিল না, তা নয়। দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি চেলসির খেলার গঠনকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দেন। অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দেওয়ার ব্যাপারে তিনি চর্চিত হতে থাকেন। রবার্তো ৪-২-৩-১ ফরম্যাটে খেলা ছকতে শুরু করেন ড্রোগবাকে সামনে রেখে।

১৯৫৫, প্রথম কাপ এলো ঘরে

ইতিপূর্বে দু’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দোরগোড়া থেকে ফিরে এসেছিল চেলসি। দু’বারই তাদের আটকে দেয় তাদের ইংলিশ প্রতিপক্ষ। লিভারপুল (সেমিফাইনাল) এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ফাইনাল)। এবারেও সেমিফাইনালে বার্সেলোনাকে হারানোর পরেও চেলসি যখন ফাইনালে মিউনিখেই বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে খেলতে নামছে তখন অতি বড় চেলসি সমর্থকও চেলসিকে এগিয়ে রাখতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ে ১-১ খেলা শেষ হওয়ার পরে টাইব্রেকারে প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় বিশ্বের দরবারে চেলসিকে এক অনন্য সম্মানের অধিকারী করে তোলে। সে-বছর চেলসি এফএ কাপও জয় করে। কিন্তু এই চরম সাফল্য এনে দেওয়ার পরেও ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জুভেন্টাসের কাছে ০-৩ গোলে পরাজয় রবার্তোর চেলসি কোচিং ক্যারিয়ারের যবনিকা পতন ঘটায়।

আরও পড়ুন: আসবে ঝড়, নাচবে তুফান…

খবরে নতুন ক্লাব চেলসি

এরপর সময় টেমসের জলের মতোই বয়ে যেতে থাকে। ঘরে উঠতে থাকে একের পর এক ট্রফি। এর মধ্যে ১৩ সালে ইউরোপা লিগ, ’১৫-এর লিগ কাপ, প্রিমিয়ার লিগ, ’১৮-র এফএ কাপ এবং ২০১৯-এর ইউরোপা লিগ। এই সময় থেকেই চেলসির ইউথ সেকশন এবং উইমেন সেকশনও দারুণভাবে মেলে ধরে নিজেদেরকে। একাধিক ট্রফি আসতে থাকে তাদের সেকশনেও।

সেই ভয়ংকর ফাইনালের শেষে বিজয় মূহূর্ত

এরই মধ্যে কোচও বদল হতে থাকে প্রতিনিয়ত। রাফা বেনিতেজ, স্টিভ হল্যান্ড, অ্যান্টোনিও কন্তে, মাউরিজিও সারি, ক্লাব লেজেন্ড ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের হাত ঘুরে ২০২১-এর ২৬ জানুয়ারি ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জার্মান কোচ টমাস টুখেল। পারিবারিক কারণে ইউরোপা লিগ জয়ের পরেও যখন ইতালীয় কোচ মাউরিজিও সারি ক্লাব ছেড়ে জুভেন্টাসের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন তখনও ক্লাবের পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল ঠিক ২০১২ সালের মতোই। দীর্ঘদিন বিশ্বস্ততার সঙ্গে ক্লাবকে সেবা করার পর ক্লাব থেকে বিদায় নিয়েছেন টেরি, ল্যাম্পার্ড, ইভানোভিচ, কেহিল এবং ‘দ্য উইজার্ড’ এডেন হ্যাজার্ড সহ আরও অনেকে। অন্যদিকে, সমস্ত প্রতিষ্ঠিত কোচই কোনও না কোনও বড় ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ফলে ডার্বি কাউন্টিকে কোচিং করিয়ে সদ্য কোচিংয় জগতে পা রাখা ক্লাব লেজেন্ড ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের ওপরই আস্থা রাখে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। ল্যাম্পার্ড ক্লাবে আসার পরেই ইউথ রেভ্যুলিউশন শুরু হয়, একাধিক ক্লাবে লোনে খেলা চেলসি ইয়ুথদের ডাক পড়ে চেলসি প্রাক্টিস গ্রাউন্ড কোবহ্যাম অ্যাকাডেমিতে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন মেসন মাউন্ট, রিস গেমস, বিলি গিলমৌর, ফিকাহ তোমারি, ট্যামি আব্রাহাম প্রমুখ। শুরুটা ভালো হলেও অচিরেই মুখ থুবড়ে পরে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড সিস্টেম। লিগ টেবিলের নিচে থাকা একাধিক টিমের কাছে লজ্জাজনক হার ক্রমশ তার জন্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এ বছরের শুরুর দিকে ২৪ জানুয়ারি এফএ কাপের ফোর্থ রাউন্ডে লিউটন এফসি-কে ৩-১’এ হারানোর পরেও ১৯ জানুয়ারি লেস্টার সিটির কাছে ২ গোলে হার তাঁর চেলসি কোচিং ক্যারিয়ারের জন্য চরম নির্নায়ক বিবেচিত হয়। লিগ টেবিলের নবম স্থানে নেমে যাওয়া চেলসি ল্যাম্পার্ডের প্রতি আস্থা হারায় এবং ২৫ জানুয়ারি তাঁকে সরানোর পরের দিনই, অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি চেলসিতে আগমন ঘটে পিএসজিকে গতবছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তোলা টমাস টুখেলের।

আরও পড়ুন: বিশ্ব সাহিত্যে চার চিকিৎসক ও বর্তমান অতিমারি

খেলোয়াড়, জার্সির সঙ্গে বদলেছে লোগোও

বুন্দেসলিগায় ডিফেন্ডার হিসেবে কেরিয়ার শুরু করা টুখেল নিজে একজন সফল খেলোয়াড় হতে না পারলেও তিনি যে একজন অত্যন্ত ট্যাকটিকাল এবং সফল ম্যানেজার হতে চলেছেন, সেটা ২০০৯ সালে তিনি যখন মেইঞ্জের দায়িত্ব নেন তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।তার সময় মেইঞ্জ বুন্দাসলিগার তাবড় তাবড় টিমকে নাকানি-চোবানি খাইয়ে ছেড়েছিল শুধুমাত্র ট্যাক্টিকাল সুপিরিওরিটির জোরে। পরবর্তীকালে ২০১৫ সালের ইউগারেন ক্লপ ডর্টমুন্ডের দায়িত্ব ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দিলে টুখেল ডর্টমুন্ডের দায়িত্ব নেন।

১৯০৫-এর সেই টিম

ডর্টমুন্ডের ৩ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ১৬/১৭ সিজনে বায়ার্নকে হারিয়ে জার্মান কাপ জয় করেন। এরপর ২০১৮-র মে মাসে তিনি পাড়ি জমান ফ্রান্সের প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন ক্লাবের উদ্দেশ্যে। পিএসজিতে থাকাকালীন তিনি দু’বার ফ্রেঞ্চ লিগ চ্যাম্পিয়ন হন সঙ্গে সঙ্গে একবার ফ্রেঞ্চ কাপ এবং একবার ফ্রেঞ্চ লিগ কাপেও দলকে জয়যুক্ত করেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে অপ্রত্যাশিত হার টুখেলকে বাধ্য করে পিএসজি ছাড়তে। চেলসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এক মুহূর্তও দেরি করেনি এহেন ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন কোচের হাতে চেলসির দায়িত্ব তুলে দিতে। বলা বাহুল্য যখন তিনি চেলসির দায়িত্ব নেন, তখন মোটেই তার জন্য সে কাজ সহজ ছিল না। দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই উলভসের বিরুদ্ধে প্রিমিয়র লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ ড্র করা দিয়ে শুরু করেন টুখেল। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে প্রিমিয়ার লিগে বিশেষ কীর্তিমান সৃষ্টি করেন তিনি। অবশ্য এ কাজে তাকে পূর্ণ সহযোগিতা করে গেছে তার চেলসির খেলোয়াড়েরা। তরুণ জার্মান হারভেৎজ, ওয়ার্নার, তুরস্কের জাদুকর হাকিম জিয়েখ এবং গোলকিপারের সমস্যা কাটানোর জন্য নবাগত সেনেগালিজ এডওয়ার্ড মেন্ডির সঙ্গে আগে থেকে দলে থাকা কান্তে, জর্জিনহো, কোভ্যাচিচ পুরিসিচ এবং মেশন মাউন্টকে নিয়ে তিনি এমন এক মাঝমাঠ তৈরি করে ফেলেন, যাকে ভেদ করে বল এগিয়ে নিয়ে যেতে পৃথিবীর যেকোনও ক্লাবকে বেগ পেতে হয়। প্রত্যেক কোচেরই কিছু নিজস্ব পছন্দ এবং অপছন্দ থেকে থাকে, সেই পছন্দের তালিকা থেকেই তিনি পিএসজি থেকে তুলে নিয়ে আসেন বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভাকে। তাঁর আগমন চেলসির ভাঙাচোরা ডিফেন্সকে দারুণভাবে স্থিরতা দেয়। পাশে বিশ্বমানের এরকম এক বর্ষীয়ান ডিফেন্ডারকে পেয়ে ক্রিশ্চেনশন, জুমা, রুডিগার্ড, জেমসরা নতুনভাবে জেগে ওঠে। ঠিক তেমনভাবেই ল্যাম্পার্ডের সময় দলের পাকাপাকি মেম্বার হয়ে ওঠা আব্রাহাম এবং হাডসন ওডয় দল থেকে ক্রমশ হারিয়ে যেতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চেলসি নিজের পুরনো শক্তি ফিরে পেলেও সিজনের প্রথম দিকের হারগুলো লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠে। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় এফএ কাপও। টুখেল খুব ভালোই বুঝে গিয়েছিলেন যে হাতে থাকা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালই চেলসিতে তার টিকে থাকার শেষ অস্ত্র। এই অল্প সময়ে যে প্রশংসা তিনি পেয়েছেন এক লহমাও লাগবে না সে-সব ভুলে গিয়ে কে দল থেকে ছেঁটে ফেলতে যদি না তিনি চেলসিকে কোনও ট্রফি দিতে পারেন। তাই গতকাল রাতে যখন চেলসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলতে নামছে প্লেয়ারদের সঙ্গে সঙ্গে টুখেলও যেন মাঠে নেমে পড়েছিলেন নিজের অজান্তেই। শুধু প্লেয়ার নয় তাঁর কাছেও এই ম্যাচ ছিল জীবন মরণের। নিজের সর্বস্ব বুদ্ধিটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন তার ছাত্রদের প্রতি। বলতে দ্বিধা নেই ছাত্ররা তাদের দ্রোণাচার্যকে নিরাশ করেনি। প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে মাউন্টের বাড়ানো নিখুঁত থ্রু বল ধরে ডিফেন্ডার এর মাঝখান থেকে ধনুক থেকে বেরোনোর তিরের মতো গতিতে ছোট্ট ডজে গোলকিপারকে কাটিয়ে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির জালে বল ঢুকিয়ে দেন তরুণ জার্মান কাই হারভেৎজ। শুরু থেকেই অপর জার্মান ওয়ার্নারের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারা সিটি ডিফেন্স বরাবরের মতোই ওয়ার্নারের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাকে অসাধারণভাবে কাজে লাগিয়ে গোলটি করে যান তার স্বদেশীয় হারভেৎজ।

সেদিনের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ

এরপরই শুরু হয় আসল খেলা। ম্যাঞ্চেস্টার সিটি এই বছরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন। তাদের দু’দিকের উইং মাহরেজ এবং স্টারলিংকে গোটা সিজন জুড়ে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছে ব্রিটিশ তরুণ রক্ত ফিল ফডেন। অন্যদিকে, মিডফিল্ডের গভীরতা থাকলেও চেলসির অ্যাটাকিং হাফ মোটেই ভালো নয়। অনেক আশা নিয়ে টিমো ওয়ার্নারকে দলে নেওয়া হলেও ভাগ্যের পরিহাস এবং কিছুটা তার নিজের দোষের জন্যও একাধিক ম্যাচে সহজ সুযোগ পেয়েও গোলের মুখ খুলতে পারেননি তিনি। ফলে দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় যে নিখুঁত ডিফেন্স করতে হবে তা টুখেল ভালোই বুঝে গিয়েছিলেন। তাঁকে নিরাশ করেনি এ বছরই লেস্টার সিটি থেকে দলে আসা লেফট ব্যাক চিলওয়েল বা চেলসি অ্যাকাডেমির তরুণ ব্রিটিশ রিস জেমস। সিটি-র দু’টো উইংকে নির্বিষ সাপে পরিণত করে দিয়েছিল এই দুই জন। বাকি কাজটা করার জন্য অন্যান্য ম্যাচের মতোই চেলসির পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন বিশ্বজয়ী ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। অসাধারণ হোল্ডিং এবং স্ন্যাচিংয়ের পাশাপাশি অবিশ্বাস্য স্পিডে বল কন্ট্রোল তাঁকে যেন ফুটবলের অন্য জগতে নিয়ে চলে গেছে। “বর্তমান ফুটবল বিশ্বে কান্তের মতো এত ভালো টোটাল মিডফিল্ডার আর কেউ আছে কিনা সন্দেহ”— চেলসির কাছে সেমিফাইনালে পরাজিত হওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ কোচ স্বয়ং জিনেদিন জিদান এই মন্তব্য করেছিলেন।

সেই বিখ্যাত উক্তি:ইফ আই ফল, পিক আপ দ্য ফ্ল্যাগ, কিস ইট, অ্যান্ড কিপ অন গোইং

দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটের দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই চেলসিকে এনে দিয়েছে তাঁর দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ১১৬ বছরের পুরনো এই ফুটবল ক্লাব এখন শুধু ইংল্যান্ড নয় গোটা বিশ্বে সবথেকে বেশি জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর মধ্যে একটা। প্লেয়ার এবং কোচ সংক্রান্ত বিতর্ক থাকলেও অস্বীকারের জায়গা নেই একবিংশ শতকে ব্রিটেনের সবথেকে সফল ক্লাব টেমস নদীর উত্তর পাড়ে অবস্থিত ফুলহাম স্ট্রিটের চেলসি এফসি, যার প্রাণকেন্দ্র স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ। যার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে একটাই জিনিস শুনতে পাবেন—
“ব্লু ইজ দ্য কালার
ফুটবল ইজ দ্য গেম
উই আর অল টুগেদার
অ্যান্ড উইনিং ইজ আওয়ার এইম”।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *