৭৭ বছর পরেও আলোচনার বৃত্তে নেই রানি অফ ঝাঁসি ব্রিগেড

Rani of Jhanshi

শুভ্রাংশু রায়

২৩ অক্টোবর, ১৯৪৩ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজের রানি ঝাঁসি ব্রিগেডের সামরিক প্রশিক্ষণ। সন্ধ্যায় সদ্য গঠিত আজাদ হিন্দ সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল গ্রেট ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। সেদিক থেকে বিচার করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একমাত্র মহিলা রেজিমেন্টের সামরিক প্রশিক্ষণের ৭৭ বছর পূর্তি হল আজ। দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে, লেখাপত্তরও হয়েছে। মানবীচর্চা (জেন্ডার স্ট্যাডির এর থেকে যুৎসই বাংলা মনে এল না এখন ) এখন দেশে বেশ সমৃদ্ধ। কিন্তু কেন জানি না ঝাঁসি রানি রেজিমেন্ট নিয়ে সেরকম বিস্তারিত আলোচনা কোনও সেমিনারে শুনিনি বা খুব বেশি লেখাও পড়িনি। প্রশ্ন জাগে, এদেশে নারী ইতিহাস বা মানবী চর্চার এই অধ্যায়টিকে সেইভাবে গুরুত্ব সহকারে দেখেন না, নাকি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ হওয়ার ভয়ে এড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন? এ প্রশ্ন মনে আসতেই পারে।

আরও পড়ুন: শক্তিময়ী সাহসিনী দুর্গতিনাশিনী, এসো সংকটে কল্যাণকরে

রানি অফ ঝাঁসি রেজিমেন্টের ওপর ‘উইমেন অ্যাট ওয়ার’ গ্রন্থের প্রণেতা জার্মান ঐতিহাসিক ভেরা হিলডেব্র্যান্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ব্রিগেডের প্রধান লক্ষ্মী স্বামীনাথন সায়গল জানিয়েছিলেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র তাঁকে বলেছিলেন কেন এই ব্রিগেডের নাম নেতাজি ঝাঁসির রানির নামানুসারে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন: মেয়েটি আমার হৃদয়জুড়ে শিউলি ফুটিয়েছে

নেতাজির কথায় ক্যাপ্টেন সায়গল কিছুটা অবাক হয়ে যান যখন তিনি শোনেন ১৮৫৭ মহাবিদ্রোহের পরে এক ব্রিটিশ লেখকের লেখা একটি প্রবন্ধ পড়ে নেতাজির মনে এই বিষয়ে চিন্তা ভাবনার উদ্রেক হয়। কী লেখা ছিল সেই প্রবন্ধে? তাতে ওই ব্রিটিশ লেখক লিখেছিলেন রানির মতো যদি হাজার মহিলা থাকতেন, তাহলে ব্রিটিশ পক্ষে ভারত দখল করা অসম্ভব ছিল।

মনে রাখা প্রয়োজন, আজাদ হিন্দ ফৌজের অন্যান্য ব্রিগেডের মতো ঝাঁসি ব্রিগেড কিন্তু কোনও সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং যুদ্ধে অভিজ্ঞতাপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত ছিল না। কারণ কোনও মহিলার এর আগে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুর, মালয় এবং বার্মার কিছু অনাবাসী ভারতীয় পরিবারের সিভিলিয়ন মহিলাদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নেতাজির উৎসাহে এই মহিলাদের পুরোদস্তুর সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এমনকী এরা বার্মা সীমান্ত পেরিয়ে ইম্ফল পথে আজাদ হিন্দ বাহিনীর এগিয়ে আসার সময় সরাসরি মিত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যা ছিল বিরলতম ঘটনা। কিন্তু সত্যিই সেই বিরলতম ঘটনা বা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা কোথায়? ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই যিনি নিজে ছিলেন একজন বিধবা নারী, তাঁর নামে গঠিত কিছু স্বাধীনতাকামী নারীর লড়াই ইতিহাসের পাতায় আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে। ৭৭ বছর পেরিয়েও।

● লেখক সোনারপুর মহাবিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক

Facebook Twitter Email Whatsapp

3 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *