সেদিন কলাইকুন্ডায় বৈঠকে ঠিক কী হয়েছিল, মুখ খুললেন মমতা

Mysepik Webdesk: কলাইকুন্ডায় বৈঠক বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, মোটেই তিনি ঐদিন অসৌজন্য দেখাননি, বরং প্রধানমন্ত্রীর থেকে তিন বার অনুমতি নিয়েই কলাইকুন্ডা ছাড়েন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সম্মান রক্ষার্থেই তিনি কলাইকুন্ডায় গিয়েছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব নির্ধারিত বৈঠককে কার্যত বিজেপির দলীয় বৈঠকে পরিণত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর ওই ঘটনাকে সামনে রেখে ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাঁর এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যে অভিযোগ করে একের পর এক টুইট করে চলেছেন বিজেপি নেতারা।

আরও পড়ুন: নোংরা খেলা বন্ধ করুন: আলাপন-ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব মমতা

এদিন নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলাইকুন্ডায় ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল, তার বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী একটা রাজ্যে অবতরণ করেছেন, সেখান থেকে দিল্লি যেতে হবে বলে আমরা সেখানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আমরা তখন ভেবেছিলাম বিষয়টা সেখানেই মিটে যাবে। কিন্তু বিষয়টা সেখানে থামলই না, বরং রাজনীতির পর্যায়ে গিয়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন কী ঘটেছিল সেটা সবার জানা দরকার।” এরপরেই মমতা জানান, পরশু দিন তিনি দুর্যোগ কবলিত এলাকায় যাওয়ার কথা আগে ঘোষণা করেছিলেন। তারপরই প্রধানমন্ত্রীর সফরের কথা জানানো হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের কথা মাথায় রেখেই হিঙ্গলগঞ্জ এবং সাগরের নিজের কর্মসূচি কাঁটছাঁট করে কলাইকুন্ডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরও পড়ুন: অবশেষে উদ্ধার হল সোদপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের দেহ

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে থেকে তাঁর এবং প্রধানমন্ত্রীর সূচি ঠিক থাকলেও শুক্রবার সাগর থেকে কলাইকুন্ডা রওনা হওয়ার সময়ই তাঁকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়। কলাইকুন্ডায় পৌঁছানোর পর তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের আগেও তাঁকে কুড়ি মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়। বাধ্য হয়েই তাঁর হেলিকপ্টার আকাশে আরও ২০ মিনিট চক্কর কাটে। এরপর তাঁর হেলিকপ্টার বিমানঘাঁটিতে নামার পরেও একটি ঘরে আরও ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এর পরেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মিনিটের জন্য দেখা করার কথা বলা হলেও তাঁকে এসপিজি থেকে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলা হয়। এসপিজি জানায় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে, ফলে সেই বৈঠক শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন: আলাপনকে ছাড়া যাবে না, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে নবান্ন

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিঘায় যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি মুখ্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঢোকেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তাঁরা ঘরে ঢোকেন বলে জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয় যে তাঁরা দিঘায় যাবেন। আবহওয়াও খুব একটা ভালো নয়। ঝুঁকি নিয়েই সাগর থেকে তাঁরা কলাইকুন্ডায় এসেছেন। তারপরেই তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, শুধু ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট দিতেই তাঁরা কলাইকুন্ডায় এসেছেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তাঁরা রিপোর্ট দিয়ে বেরনোর আগে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *