কেন মঙ্গলে প্রাণ সঞ্চার হয়নি, কেনই বা পৃথিবীতে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে, জানুন

রেয়ান্স

পৃথিবীতে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব। অথচ পৃথিবী ছাড়া বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র থাকা সত্ত্বেও আমরা এতদিন পর্যন্ত কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি। অনেকেরই এ কথা জানা যে, গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আকারের তুলনায় পৃথিবী গ্রহটি একটি কণাসম। তবে বেশ কিছু বিতর্কিত তথ্য দাবি করে, পৃথিবী ছাড়াও কোথাও না কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে প্রতিনিয়ত যেমন প্রাণের জন্ম হচ্ছে, তেমনি প্রাণের ধ্বংসও হচ্ছে। আজকে আলোচনার বিষয়, কীভাবে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে আর কেনই বা মঙ্গলগ্রহে প্রাণের সঞ্চার হয়নি?

আরও পড়ুন: চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে করতে এক বছর পূর্ণ করল চন্দ্রযান-২

The red planet has a green glow : Research Highlights

আমরা অনেকেই জানি, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যত গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে, তা সবই কোনও না কোনও নক্ষত্রের থেকেই সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পৃথিবী-সহ সৌরজগতের সবক’টি গ্রহেরই সৃষ্টি হয়েছে সূর্য থেকে। পৃথিবী সৃষ্টির অন্তত ৩০ কোটি বছর পরেও পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাণসঞ্চারণের পক্ষে আদর্শ ছিল না। অন্যদিকে, মঙ্গলগ্রহটি পৃথিবী থেকে সূর্যের যা দূরত্ব, সূর্য থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব তার থেকেও বেশি হওয়ায় আগে থেকেই মঙ্গলগ্রহে প্রাণ সঞ্চার হওয়ার মতো পরিবেশ পৃথিবীর আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহে জলের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে। বিশ্বের একাধিক মার্স মিশনগুলি তারই প্রমাণ দিয়েছে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর মতো মঙ্গলে প্রাণ সঞ্চারের সুযোগ সেভাবে গড়ে ওঠেনি। একটি বড় গ্রহাণুর আঘাতে হাজার হাজার পরমাণু বোমার শক্তি উৎপন্ন হয়, যার ফলে মঙ্গলগ্রহের একটি বিস্তীর্ণ অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: পৃথিবী রক্ষাকারী আবরণীতে বড়োসড়ো গর্তের খোঁজ, বিপদের মুখে পৃথিবী!

Earth Planet Space - Free image on Pixabay

২০০৪ সালে মঙ্গলগ্রহের বুকে পাঠানো নাসার ‘কিউরিওসিটি’ রোভার মঙ্গলগ্রহের বহু ছবি আমাদের সামনে আনে, যে ছবিতে আমরা দেখতে পাই অনেক গোল গোল পাথরের টুকরো ইতস্তত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মঙ্গলের বুকে। যা দেখে ধারণা করা হয়েছে, জলের স্রোতের ফলে ওই পাথরগুলি এইরূপ গোলাকার আকৃতি ধারণ করেছে। পাশাপাশি আরও কিছু কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন, কোনও না কোনও সময় সমুদ্র কিংবা নদীর অস্তিত্ব ছিল মঙ্গলগ্রহ জুড়ে, পরবর্তী সময়ে যার জল আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলে জলীয়বাষ্প তৈরি হয়ে যায়। এর ফলে আরও একবার মঙ্গলে প্রাণের সঞ্চার ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও সূর্য থেকে গ্রহটি অনেক দূরে অবস্থান করার কারণে ততদিনে মঙ্গলগ্রহে নদী সমুদ্রগুলির জল বরফে পরিণত হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে হয়তো ব্যাক্টেরিয়ার মতো ছোট ছোট জীবগুলিও চিরতরে শেষ হয়ে যায় মঙ্গলের বুক থেকে।

আরও পড়ুন: নকল অক্সিমিটারের হাত থেকে সাবধান, খোয়াতে পারেন সর্বস্ব!

Mars InSight Lander Yields a Year of Surprising Discoveries Above ...

এ দিকে পৃথিবীর সঙ্গে আরেকটি গ্রহাণুর ধাক্কায় সৃষ্টি হয়েছে চাঁদের। অন্যদিকে, পৃথিবী সূর্য থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকায় পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। আবার চাঁদের আকর্ষণের ফলে পৃথিবী একটা পরিপূর্ণ ভারসাম্য লাভ করে। এর ফলে পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়। তবে এই ধরনের সাম্যাবস্থা মঙ্গলগ্রহে ছিল না। কারণ মঙ্গলগ্রহের দু’টি উপগ্রহ ‘ফোবস’ এবং ‘ডিমোস’ গ্রহটির তুলনায় অনেক ছোট। সেই কারণে সেগুলি মঙ্গল গ্রহকে সঠিক ভারসাম্য দেওয়ায় অক্ষম ছিল। এদিকে মঙ্গল গ্রহের দু’টি উপগ্রহের তুলনায় চাঁদের আকার অনেক বড় থাকায় চাঁদের আকর্ষণ বল পৃথিবীকে একদিকে কিছুটা ঝুকিয়ে রাখে এর ফলে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষার মতো ঋতুর প্রকারভেদ লক্ষ করা যায়।

আরও পড়ুন: করোনামুক্ত মহাদেশের ভবিষ্যৎ

Our Planet Earth From Space: View From The Sun

মঙ্গলের তুলনায় পৃথিবীর অবস্থান তুলনামূলক সূর্যের কাছে থাকায় পৃথিবীর তাপমাত্রার একটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। যার ফলে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার শুধুমাত্র ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাক্টেরিয়াতেই থেমে থাকেনি, আরও বিভিন্ন জটিল জীবের সৃষ্টি হয় পৃথিবীর বুকে। তবে সেই সময় পৃথিবীর ওপরে ওজন স্তর তৈরি না হওয়ায় অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে পৃথিবীর স্থলভাগে কোনও জীবের অস্তিত্ব তৈরি হওয়া সম্ভব ছিল না। তবে জলভাগে তৈরি হওয়া বহু প্রজাতির ব্যাক্টেরিয়া সূর্যের তাপমাত্রাকে গ্রহণ করে তাঁকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে থাকে। আর সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো জীবন তৈরি হওয়ার জন্য মূল উপাদান সৃষ্টি করতে থাকে যাকে আমরা বলে থাকি অক্সিজেন। আর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ফলে সেই অক্সিজেনের অণু ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয় ওজন গ্যাস যা পরবর্তীকালে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে একটি নির্দিষ্ট স্তর হিসেবে আরও বর্তমান। যে স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিকে শোষণ করে নিয়ে পৃথিবীর পরিবেশকে করে তোলে প্রাণ সঞ্চারের জন্য আরও উপযুক্ত। এর ফলে পৃথিবীতে ধীরে ধীরে জলভাগের থেকে প্রাণ সঞ্চার হয় স্থলভাগেও।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *