বিদেশে প্রথম বাংলাদেশ মিশনঃ “একুশে উৎসব ২০২১”

ekushe

পারমিতা দাস

সল্টলেকের ডিসি পার্কে পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকার, বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন, কলকাতা এবং ইস্পাত (ইনিশিয়েটিভ ফর সায়েন্টিফিক ও পাবলিক অ্যাাওয়ারনেস) এর উদ্যোগে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় – আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস পালন অনুষ্ঠান যা ছিল বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম মিশনঃ “একুশে উৎসব ২০২১”।

আরও পড়ুন: মাতৃভাষা দিবসে ‘ভাইরাল’ উত্তম-কিশোর স্মৃতিমাখা গানের দৃশ্য প্রসঙ্গে

শিল্পী শ্রবণা ভট্টাচার্জের কন্ঠে “মোদের গরব মোদের আশা” পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর মাননীয়া নেত্রী শ্রীমতী তুলসী সিনহা রায় প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলন করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক উৎপল ঝা। প্রধান অতিথির স্থান অলংকৃত করেছিলেন রাজ্য অগ্নি নির্বাপন ও জরুরী পরিসেবা এবং বনদপ্তরের মন্ত্রী মাননীয় শ্রী সুজিত বসু। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন এস এ আহমেদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন শিশু প্রথম যে ভাষায় কথা বলে সেটাই তাঁর মাতৃভাষা। এই মাতৃ ভাষার উপর ভিত্তি করেই সারা বিশ্বের বেশীরভাগ দেশগুলি গড়ে উঠেছে। এই মাতৃ ভাষার জন্যই রক্ত ঝরেছে ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন যে নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন মাতৃ ভাষার গুরুত্ব কি এবং তার জন্য কত রক্ত ঝরেছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে বাংলা ভাষার কার্যত বিকৃতি ঘটেছে। যে ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় যে বাংলা সাহিত্য গড়ে তুলেছে। এখনকার বাংলা সাহিত্যে নতুন আঙ্গিকতা ঢুকেছে। কিন্তু এর মধ্যে দিয়েই আমাদের ভাষা বেঁচে থাকবে। বিকৃতির কথা বললেও তিনি আশাবাদী যে আমাদের বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও আন্তরিকতা তা কখনো মুছে যাবে না।

আরও পড়ুন: ভাষার মাস কেন নয় ফাল্গুন

তিনি বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা করে বলেন বাংলাদেশে যেভাবে সরকারী কাজ থেকে শুরু করে রাস্তার বড় বড় বিজ্ঞাপন বোর্ডে বাংলা ভাষার ব্যবহার দেখা যায় তা পশ্চিমবঙ্গে সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ যেভাবে পালন হয় সেভাবে আমরা এখানে পালন করতে পারি না। এই রাজ্যে মিশ্র জনসংখ্যা হওয়ায় বাংলাদেশের মতো একাত্ম হয়ে অতটা প্রাধান্য দিতে পারি না। মাননীয় মন্ত্রী বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা সংলিপ্ত ও সুন্দর ভাষণে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্য উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক গৌরী বসু, বিশিষ্ট স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ গৌতম খাস্তগীর, কিংস কলেজের ভাষার গবেষক ডাঃ অপর্না খাস্তগীর এবং ডেপুটি হাই কমিশন ,বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন বি. এম. জামাল হোসেন ও আরো অনেক বিশিষ্ট মানুষজন।

সকাল এগারোটা থেকে বিকেল চারটে নাগাদ গান, নাচ ও কবিতার মধ্যে দিয়ে মহা সমারোহে পালিত হয় এই দিবস। সল্টলেকের সিডি ব্লক আবাসিক বৃন্দ ছাড়াও কলকাতার বিভিন্ন স্থান পূর্ব সিঁথির জাহ্নবী, গীতায়ন সঙ্গীত অ্যাকাডেমি, ঋতুরঙ্গম, আহিমোহিনী সঙ্গীত সংস্থা, হাওড়া গানভাসি, নৃত্যাবৃত্তি কেন্দ্র, ধ্রুপদী কলাকেন্দ্র, শ্রেয়সী ডান্স সেন্টার ইত্যাদি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। নাচের মধ্যে “ধন্য ধান্যে পুষ্পে ভরা” এবং “তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব” নৃত্যানুষ্ঠান খুব আকর্ষণীয় ছিল। সিডি ব্লকের শ্রীযুক্ত সুব্রত নায়েক একমাত্র ব্যক্তি যিনি ভাষা দিবসের ইতিহাস সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেন নতুন প্রজন্মের কাছে। বিশিষ্ট অতিথি শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন সংযুক্তা দাস, সুপর্ণা চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া রায় প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দর করে সঞ্চালনা করেন মৌ গুহ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ইস্পাতের সম্পাদক ঋতেশ বসাকের দক্ষ পরিচালনায় সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ শ্রীমতী মহুয়া পালিত

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *