এশিয়ায় প্রথম: ‘গণদর্পণ’-এর প্রাণপুরুষ ব্রজ রায়ের রোগ নির্ণায়ক ময়নাতদন্ত (অটোপ্সি)

Mysepik Webdesk: বাংলায় মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনের জনক তথা কোভিডে মৃত ব্যক্তি, যাঁর দেহে প্রথম অটোপ্সি করা হয়েছিল। সেই ব্রজ রায়ের অটোপ্সি রিপোর্ট কোভিড গবেষণায় নতুন পথের সূচনা করল। উল্লেখ্য যে, এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম করোনায় মৃত রোগী ‘গণদর্পণ’-এর প্রাণপুরুষ ব্রজ রায়ের প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি সম্পন্ন হয়। এই রোগ নির্ণায়ক ময়নাতদন্ত পরিসমাপ্তি ঘটে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মানস ব্যানার্জি, ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টেক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ সোমনাথ দাস এবং অধ্যাপক কে দাসের নেতৃত্বে।

আরও পড়ুন: মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনের প্রাণ ব্রজ রায়

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ১৩ মে প্রয়াত হন ব্রজ রায়। এর ঠিক এক দিন পর কলকাতার আর জি করের ফরেনসিক বিভাগে এই কালজয়ী মানুষটির ময়নাতদন্ত হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। ৯ জুন, বুধবার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল। ছয় পাতার এই রিপোর্টটি পাঠানো হয়েছিল স্বাস্থ্যভবনেও। দৈনিক স্টেটসম্যানের রথীন পালচৌধুরীর রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে যে, প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি ফাইন্ডিং বল রিপোর্ট হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ডাঃ সোমনাথ দাস জানিয়েছেন যে, রিপোর্টটি তাঁদের নতুন তথ্য দিয়েছে।

আরও পড়ুন: স্মৃতিতে সুন্দরলাল

দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ব্রজ রায় কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। হৃদ্‌যন্ত্রেও সমস্যা ছিল তাঁর। আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলার বিষয় হল, এই মানুষটির রোগ নির্ণায়ক ময়নাতদন্তের পরে কিডনিতে পাওয়া গিয়েছে নতুন সমস্যা, যার ছবি দেখা গিয়েছে অটোপ্সির মাধ্যমে। এমনটা করোনাভাইরাসের জন্য হয়েছে বলেই চিকিৎসক মহলের ধারণা। উল্লেখ্য যে, এমন ময়নাতদন্তের মাধ্যমে করোনা রোগীদের কোন কোন অরগ্যান ড্যামেজ হয়, তা বোঝা যাবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এটি একটা অগ্রগতি। ১৯৩৬-এ ব্রিটিশ ভারতে জন্মানো মানুষটি গণদর্পণ-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে মরণোত্তর দেহদানের পক্ষে যে সচেতনতার কাজ নিরন্তরভাবে করে গিয়েছেন, তা ঐতিহাসিক। আর তাঁর দেহখানিতে এই প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সিও যে গোটা এশিয়ায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কোভিড গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন পথের উন্মোচন করল, তা বলাই বাহুল্য।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *