অমল আলোয় ফুটবলার অমল গুপ্ত: কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

অসিত কুমার বসু রায় চৌধুরী

১৯৯৮-এর ১৫ ডিসেম্বর বিস্মৃতপ্রায় এই ফুটবলারের মৃত্যুদিন। কিছু স্মৃতি ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিতেই অমলকুমার গুপ্তের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাঁর খেলোয়াড় জীবনের বিবরণ দিতে প্রয়াসী হয়েছেন লেখক।

যে-সব দক্ষ ও গুণী খেলোয়াড়দের অনবদ্য খেলায় ও অধিনায়কদের অধিনায়কত্বে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কলকাতা তথা সারা ভারতে খ্যাতি অর্জন করে ক্লাবের সাফল্যের মুকুটে নিত্যনতুন পালক সংযোজন করতে সমর্থ হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন বিস্মৃতপ্রায় খেলোয়াড় তথা ১৯৫৮ সালের টিম অধিনায়ক অমল কুমার গুপ্ত। তাঁর সম্বন্ধে খুব একটা তথ্য সংরক্ষিত আছে বলে মনে হয় না। সেই কারণে তাঁর সম্পর্কে বিস্তৃত জানার চেষ্টা করেও প্রথমদিকে আমি খুব একটা সফল হয়নি। সৌভাগ্যক্রমে হঠাৎ একদিন সকালবেলা একটি খেলার ম্যাগাজিন পড়তে গিয়ে এক সাংবাদিক বন্ধুর একটি লেখা দেখতে পাই। সেই লেখার ওপরে দিক্‌পাল খেলোয়াড় কিট্টুর সঙ্গে একজন মহিলা ফুটবলারের ছবি ছিল, তাঁর নাম স্বাতী গুপ্ত। সেই লেখাটি পড়ে জানতে পারি যে, স্বাতী গুপ্ত অমল কুমার গুপ্তের আত্মীয় এবং তাঁদের বসবাস কুদঘাটের পশ্চিম পুটিয়ারিতে। আমি বিলম্ব না করে কুদঘাটের সেই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে উপস্থিত হলাম আকাঙ্ক্ষিত বাড়িতে। যেখানে স্বাতী গুপ্তের সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে সমাদর করে তাঁর ঘরে বসালেন এবং কাকার সম্বন্ধে কিছু তথ্য আমাকে জানালেন। তারপর উনি আরও তথ্য পাওয়ার জন্য বাঁশদ্রোণীতে অবস্থিত অমল গুপ্তের নিজের বাড়িতে যাওয়ার জন্য আমাকে পরামর্শ দিলেন। যথারীতি আমি ওখান থেকে তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হলাম। ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাইপোর স্ত্রী, তিনি আমাকে ভাইপোর সঙ্গে কথা বলার জন্য রাতে আসতে অনুরোধ করলে আমি সেইমতো রাতেই সেখানে পৌঁছে গেলাম এবং ভাইপোর সঙ্গে তাঁর কাকা অমলকুমার গুপ্তের সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করে অনেককিছু তথ্য সংগ্রহ করলাম। তারপর ফিরে আসার সময় ভাইপো পার্থসারথি গুপ্ত নিজের থেকে কাকার কয়েকটি ছবি আমাকে উপহার দেন। মূলত, এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে আমি অমলকুমার গুপ্তের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী ও তাঁর খেলোয়াড় জীবনের বিবরণ দিতে প্রয়াসী হয়েছি।

আরও পড়ুন: সত্যজিৎ ঘোষ: ফ্ল্যাশব্যাকে আশির দশকের কলকাতা ফুটবল দুনিয়া

স্বাধীনতা পূর্ব অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন অমল কুমার গুপ্ত ১৯২৮ সালের ৮ ডিসেম্বর। তাঁর পিতা শচীন্দ্রনাথ গুপ্ত ও মাতা সুধারানি গুপ্ত। অমল গুপ্তরা ছিলেন চার ভাই, উনি ছিলেন তৃতীয় ভাই। ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলো করতেন, বিশেষ করে ফুটবলের প্রতি ছিল তাঁর অসীম আগ্রহ। পাড়ার সমবয়সি বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে রবারের বল দিয়ে অনুশীলন করতেন। পরবর্তীকালে বাড়ির অভিভাবকরা তাঁকে এই ফুটবল খেলার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছেন, আর তিনিও লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল খেলাটা মনপ্রাণ দিয়ে চর্চা করে গেছেন। তিনি ঢাকা থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর পর দেশভাগের কারণে তাঁর পিতা শচীন্দ্রবাবু সপরিবারে ফরিদপুর থেকে কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলে চলে আসেন, যদিও সেখানে বেশি দিন বসবাস করেননি। সেখান থেকে ওনারা বাঁশদ্রোণী অঞ্চলে পাকাপাকিভাবে বসবাস করতে থাকেন। এত বাধা-বিঘ্নের মধ্যেও অমল গুপ্ত নিয়মিত ফুটবল খেলা অনুশীলন করে গেছেন। ছিন্নমূল হয়ে এ-দেশে আসার কারণে প্রাথমিক যে সংকট ও কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তা অতিক্রম করে এই গুপ্ত পরিবার ধীরে ধীরে স্থিত অবস্থায় ফিরে আসে। এর পর ফুটবল খেলার সুবাদে অমল গুপ্ত ১৯৫১ সালে বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়েতে চাকরি পান। সেখানে চাকরি করার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবল খেলাকেও মনোযোগ সহকারে চর্চা করে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে থাকেন। সেই সময় গড়ের মাঠের অনেক ক্লাবেরই কোনও কোচ বা প্রশিক্ষক ছিল না, তাদের খেলা নিজেদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে পরিমার্জিত করে তুলতে হত। ওই সময় গড়ের মাঠে যে-সব খেলোয়াড় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই খেলার প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন, এর সঙ্গে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করত ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহের জোয়ার।

অমল গুপ্ত তাঁর খেলোয়াড় জীবন শুরু করেন বিএনআর ক্লাবে, ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি এই ক্লাবে খেলেন। এর পর ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তৃপক্ষের আহ্বানে ১৯৫৪ সালে এই ক্লাবে যোগদান করেন এবং একাদিক্রমে পাঁচ বছর অর্থাৎ ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে খেলেন। ১৯৫৮ সালে এই ক্লাবের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। তাঁর এই দীর্ঘ পাঁচ বছরের খেলোয়াড় জীবনে ক্লাব ৩ বার লিগ রানার্সআপ (একবার যুগ্মভাবে), ১ বার ডুরান্ড কাপ, ১ বার ডিসিএম ট্রফি এবং ১ বার আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়। তাঁর সময় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব দক্ষ খেলোয়াড়দের দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল, যেমন গোলে– মণিলাল ঘটক, ব্যাকে– ব্যোমকেশ বোস, হাফে– হাসান এবং ফরওয়ার্ড লাইনে– আমেদ খান, আপ্পারাও, ফকরি প্রমুখ দিক্‌পাল খেলোয়াড়েরা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অমল গুপ্ত ছিলেন লেফট হাফের খেলোয়াড়। এই হাফ-ব্যাক পজিশনে যাঁরাই খেলতেন, তাঁদের প্রত্যেককেই প্রচুর পরিশ্রম করে খেলতে হত। কারণ হাফ-ব্যাকের খেলোয়াড়রাই মূলত খেলাটিকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁদের ভালো খেলার ওপর টিমের জয়-পরাজয় অনেকটাই নির্ভর করত। তখনকার সময় ফুটবল বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই বলতেন— যে টিমের হাফ লাইন ভালো, সেই টিমের খেলার মান উন্নত হতে বাধ্য। কারণ ফরওয়ার্ড লাইনের খেলোয়াড়দের সব সময় সাহায্য করে যেত হাফ লাইনের খেলোয়াড়রা।

আরও পড়ুন: গোষ্ঠ পালের ইন্টারভিউ: স্মৃতিমেদুর রূপক সাহা

আমেদ খানের সঙ্গে অমল গুপ্ত

অমল কুমার গুপ্ত বিএন রেলওয়েতে চাকরি করতেন। ১৯৫৯ সালে তিনি আবার পুরনো ক্লাবে ফিরে যান। সেখানে খেলোয়াড় জীবনের বাকি সময়টা কাটিয়ে দেন। শোনা যায়, তিনি বিএনআর ক্লাবেও অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর সময় বিএনআর ক্লাবও অত্যন্ত শক্তিশালী দল ছিল। অমল গুপ্ত খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরেও নিয়মিত গড়ের মাঠে যাতায়াত করতেন। ওই সময়ের একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ আমাকে দারুণভাবে আনন্দ দিয়ে থাকে। সেটি হল— ওনার হাতে লেখা একটি অটোগ্রাফ আমি সংগ্রহ করেছিলাম, যদিও সালটা আমার ঠিক মনে পড়ছে না। আমি হঠাৎ রেড রোডে ওনার সাক্ষাৎ পাই ও উৎফুল্ল হয়ে ওনার সই সংগ্রহ করি। সেই সময় মাঠে সব সময় যাওয়া সম্ভব হত না বলে ও দূরদর্শন না থাকার কারণে আমরা অনেকেই অনেক দিক্‌পাল খেলোয়াড়দের খেলা দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। শুধু কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমের দৌলতে তাঁদের খেলা সম্বন্ধে খানিকটা অবহিত হয়েছি। তবুও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ও ফুটবল খেলার প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা তাঁরা কীভাবে পালন করেছেন তা আমাদের কাছে অজানাই রয়ে যায়। তাই চেষ্টা করতে থাকি তাঁদের সময়ের যে কয়েকজন মুষ্টিমেয় ব্যক্তি জীবিত আছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার। সৌভাগ্যক্রমে এমন একজন খেলোয়াড়ের সন্ধানও আমি পেয়ে যাই। তিনি হলেন ১৯৬৩ সালে ইস্টবেঙ্গল দলের খেলোয়াড় শ্রদ্ধেয় রঞ্জন গুহ। এখানে একটু বলে নেওয়া দরকার, শ্রদ্ধেয় রঞ্জন গুহ হলেন আমাদের নাকতলা-বাঁশদ্রোণী অঞ্চলের অধিবাসী। ওনার কাছ থেকে অমল গুপ্তের সম্বন্ধে অনেক তথ্য জানতে পারি। রঞ্জন গুহ ওনার সঙ্গে পাড়ার নানা প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন।

১৯৫৮-এর ইস্টবেঙ্গল টিম লিস্ট। সৌজন্য পরেশ নন্দী - ইস্টবেঙ্গল ক্লাব (১৯২০-৭০): ৫০ বছরের সংগ্রাম ও সাফল্য

অমল গুপ্ত এতদঞ্চলে কালুদা নামে পরিচিত ছিলেন। বাঁশদ্রোণী ও তার আশপাশের পল্লিগুলিতে ফুটবল খেলার প্রসারের জন্য ওনারা কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী মানুষ মিলে একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৫১ সালে। সেই ক্লাবটির নাম দেন বাঁশদ্রোণী স্পোর্টস ক্লাব। এই ক্লাবে সব খেলার মধ্যে ফুটবল খেলাটিকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হত। ফুটবল খেলার ব্যাপারে অমল গুপ্ত ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহী মানুষ। ওই সব অঞ্চলে যে-সমস্ত ছেলে ভালো ফুটবল খেলত, তাদের তিনি সংগ্রহ করে এনে স্থানীয় ক্লাবগুলোতে যে-সব ফুটবল প্রতিযোগিতা হত সেখানে খেলাতেন। রঞ্জন গুহ ছিলেন সেই দলেরই একজন খেলোয়াড়। বিশেষ করে নাকতলার মাঠ, ঊষার মাঠ এবং গড়িয়ার মিতালী সংঘের মাঠে যে-সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলার আসর বসত, তাতে তাঁরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন ও নিজেদের ফুটবল খেলার উন্নতি সাধনের চেষ্টা করতেন। এই সব জুনিয়র খেলোয়াড়ের দিকে সব সময় অমল গুপ্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, যার ফলস্বরূপ ওই সময় অনেক ভালো ভালো ফুটবলার গড়ের মাঠে বড় ক্লাবগুলিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেতেন।

অবশেষে আবার তার ভাইপোকে দু’টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলাম, প্রথমটি হল— কাকার খেলোয়াড় জীবন কেমন ছিল? আর দ্বিতীয়টি— মানুষ হিসেবে অমল গুপ্ত কেমন ছিলেন? প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বললেন, কাকা অমল গুপ্তের খেলা উনি দেখেননি, কারণ তখন উনি খুব ছোট ছিলেন। পরবর্তীকালে উনি বড় হওয়ার পর কাকার কাছে খেলার অনেক গল্প শুনেছেন। যেমন— কোচ হিসেবে বাঘা সোমকে অমল গুপ্ত অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন, তাঁর আদর্শ খেলোয়াড় ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আপ্পারাও। অমল গুপ্তের খেলোয়াড় জীবনে অনেক দিক্‌পাল খেলোয়াড় ওনাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। যেমন— সাহু মেওলাল, অমল দত্ত, শুভাশিস গুহ ও আমেদ খান প্রমুখ। তাঁর খেলোয়াড় জীবন ছিল বৈচিত্র্যময়, যখনই যে ক্লাবের হয়ে তিনি খেলেছেন, আনন্দের সঙ্গে খেলাটাকে উপভোগ করে খেলেছেন। ভারতবর্ষের নানা স্থানে তিনি খেলেছেন, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের কোনও খামতি তাঁর মধ্যে ছিল না। তিনি ছোটদেরও ফুটবল খেলার প্রতি উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন। ফুটবল খেলাই ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। প্রসঙ্গক্রমে ভাইপো জানায় যে, ফুটবলের পরেই তাঁর আকর্ষণ ছিল গিটার বাজানোর প্রতি, অবসর পেলেই গিটার নিয়ে বসে পড়তেন।

আরও পড়ুন: পানুদা আর গীতানাথবাবু

সস্ত্রীক অমল গুপ্ত

ভাইপো দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রথমেই যে কথাটি তাঁর সম্বন্ধে উল্লেখ করেন সেটি হল, অমল গুপ্ত অত্যন্ত মাতৃভক্ত ছিলেন, কোনও কাজ মায়ের অনুমতি ছাড়া করতেন না। বাড়ির গুরুজনদের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ শ্রদ্ধা, আর বাড়ির ছোটদের প্রতি ছিল অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও স্নেহ। অমল গুপ্ত একটু বেশি বয়সেই বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন, অপর্ণাদেবীর সঙ্গে ১৯৭৩ সালে। অপর্ণাদেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। ওনাদের কোনও সন্তান হয়নি। বাড়ির আত্মীয়-পরিজন ও অসংখ্য ফুটবল ক্রীড়াপ্রেমী বেষ্টিত হয়ে তিনি সারাটা জীবন কাটিয়েছেন আনন্দের মধ্যে দিয়ে। অমল কুমার গুপ্ত ১৯৯৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইহজগতের মায়া কাটিয়ে পরলোক গমন করেন, রেখে গেছেন তাঁর সোনায় বাঁধানো খেলার কিছু স্মৃতি ক্রীড়াপ্রেমীদের অন্তরে।  

৭৩ ঊর্ধ্ব অসিত বসু রায় চৌধুরী একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি কর্মচারী। কমার্সের ছাত্র হয়েও ফোটোগ্রাফির হাতছানি এড়াতে পারেননি কৈশোর থেকেই। কলকাতার মাঠে ময়দানে ক্যামেরা হাতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন; বহুসময় স্নেহধন্য হয়েছেন বিশিষ্ট ফুটবল তারকাদের। চাকরি জীবনে অবসর গ্রহণের আগেই সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। প্রবীণ এই নাগরিকের আন্তরিক ইচ্ছা বাংলার বিস্মৃত খেলোয়াড়দের তাঁর লেখনীর মাধ্যমে জনসমক্ষে নিয়ে আসা।

Facebook Twitter Email Whatsapp

7 comments

  • রুমা প্রধান

    খুবই ভালো লাগল লেখাটি পড়ে, অনেক অজানা তথ্য জানতে পারলাম। আপনার লেখা আগেও পড়েছি। গল্পের মতো অথচ তথ্য সমৃদ্ধ, এমন একটি লেখা আমাদের পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। পরবর্তি লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

  • HIRANYA ROYCHAUDHURI

    অসাধারন।।।অনেক অজানা তথ্য জানলাম।।। আগামীতে অনেক এইরকম লেখার অপেক্ষায় রইলাম।।

  • ঈপ্সিতা রায়

    অসাধারণ। খুবই তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। দুর্লভ ছবি এবং সুন্দর লেখনীর অনবদ্য যুগলবন্দী।

    • Hirak Roychaudhuri

      অনবদ্য অতীত যা বর্তমানের চেয়ে কোনো অংশেই
      কম উজ্জ্বল নয়।এরকম অতীতের অল্পশ্রুত বা অজানা অধ্যায়ের কথা আরো জানতে চাই।লেখককে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই,তার উদ্যমকেও শ্রদ্ধা জানাই।বয়স যে শুধুমাত্র সংখ্যা তা তিনি এই বয়সের আবেগমথিত পরিশ্রম ও তার ফলস্বরূপ এই দুর্দান্ত রচনার মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন।

  • অনবদ্য অতীত যা বর্তমানের চেয়ে কোনো অংশেই
    কম উজ্জ্বল নয়।এরকম অতীতের অল্পশ্রুত বা অজানা অধ্যায়ের কথা আরো জানতে চাই।লেখককে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই,তার উদ্যমকেও শ্রদ্ধা জানাই।বয়স যে শুধুমাত্র সংখ্যা তা তিনি এই বয়সের আবেগমথিত পরিশ্রম ও তার ফলস্বরূপ এই দুর্দান্ত রচনার মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন।

  • অনবদ্য অতীত যা বর্তমানের থেকে কোনো অংশেই কম উজ্জ্বল নয়।লেখক বয়সকে উপেক্ষা করে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এইরকম দুর্দান্ত রচনা করে চলেছেন তার জন্য অভিনন্দন জানাই লেখককে।অতীতের একটি অল্পশ্রুত অধ্যায় সম্পর্কেও অনেক কিছুই জানতে পারলাম।

  • Punyajit Gupta

    খুবই তথ্যসমৃদ্ধ তবুও সহজভাবে লেখা। পড়ে খুব ভালো লাগল। আশা করব আগামী দিনগুলোতে এরকম লেখা আরও দেখতে পাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *