প্রাক্তন আফগান ফুটবল অধিনায়ক খালেদা পোপলের আতঙ্কিত আর্জি: ‘মুছে ফেলুন যাবতীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট, পুড়িয়ে দিন নিজেদের কিট’

Mysepik Webdesk: আফগানিস্তানে এখন তালিবানরাজ চলছে। তারা প্রাচ্যের এই দেশটির ক্ষমতা দখল করেছে। এই বিষয়ে আফগানিস্তানের প্রাক্তন মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক খালিদা পোপল দেশের খেলোয়াড়দের জীবন বাঁচানোর জন্য তাঁদের কিট পুড়িয়ে ফেলার এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তাঁদের ছবি মুছে ফেলার আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার কোপেনহেগেনে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক ভিডিয়ো সাক্ষাৎকারে খালিদা পোপল বলেন, “তালিবান গোষ্ঠী তাদের প্রথম শাসনামলে (১৯৯৬ থেকে ২০০১) মহিলাদের হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে। তারা ঘর থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পাথর ছুড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মহিলা ফুটবলাররা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত।”

আফগান মহিলা ফুটবল লিগের সহ-প্রতিষ্ঠাতা খালিদা বলেন, “আমি সব সময় তরুণ খেলোয়াড়দের দৃঢ় হতে অনুপ্রাণিত করেছি। আমি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। অনুপ্রাণিত করেছি। কিন্তু এখন আমার বার্তা ভিন্ন।” খালিদা আরও বলেন— “আজ আমি তাঁদের বলছি যে, মহিলা ক্রীড়াবিদদের নাম পরিবর্তন করা উচিত। আপনাদের নিরাপত্তার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নিজের পরিচয় মুছে ফেলুন। আমি তাঁদের জাতীয় দলের জার্সি পোড়ানোর জন্যও বলছি। এটা খুবই বেদনাদায়ক। একসময় আমরা দেশের হয়ে খেলার জন্য গর্বিত ছিলাম, ব্যাজ লাগিয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেশ আবার তালিবানদের কবলে পড়েছে।”

তালিবানরাজ কায়েম হওয়ার পর তারা তাদের প্রথম শাসনামলে (১৯৯৬ থেকে ২০০১) মহিলাদের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বোরকা পরা বাধ্যতামূলক ছিল। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া তাঁরা ঘর থেকে বের হতে পারতেন না। কোনও কারণে নিয়ম লঙ্ঘিত হলে প্রকাশ্য স্থানে মহিলাদের ওপর বেত্রাঘাত বা পাথর ছুড়ে মারার মতো ঘটনা ঘটতেও দেখা গিয়েছিল।

তালিবান ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি সম্পর্কে খালিদা বলেন, “মহিলা খেলোয়াড়দের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে এমন কেউ নেই যার কাছ থেকে নারীরা সুরক্ষা বা সাহায্য চাইতে পারে। সবাই আতঙ্কে রয়েছে এই ভেবে, যে কেউ যেকোনও সময় দরজায় কড়া নাড়তে পারে। আমরা চোখের সামনে দেখছি যে, আমাদের নিজের দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গর্ব, সুখ, নারীর ক্ষমতায়ন, সবই বৃথা গেল।”

প্রসঙ্গত, ফিফার একজন মুখপাত্রও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আফগানিস্তানের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা তাদের সব ধরনের সাহায্য করবার চেষ্টা করব।”

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *