জিমনাস্টিকে প্রণতির ব্যর্থতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মিনারা বেগমের

Mysepik Webdesk: মাত্র ৮০ দিনের প্রস্তুতিতে অলিম্পিকে গিয়েছিল মেদিনীপুরের পিংলার মেয়ে প্রণতি নায়েক। তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু অলিম্পিকে মহিলাদের আর্টিস্টিক জিমনাস্টিকে ব্যর্থ হয়েছেন প্রণতি। যোগ্যতা অর্জন পর্বে নেমে অলরাউন্ড পর্বে তাঁর স্কোর ৪২.৫৬৫। প্রণতি সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়েছেন ভল্টে (১৩.৪৬৬)। ফ্লোরে ১০.৬৩৩ স্কোর করেছেন তিনি। তাঁর আনইভেন বারে এবং ব্যালান্স বিমে পয়েন্ট যথাক্রমে ৯.০৩৩ এবং ৯.৪৩৩। যে প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল বা অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্সের জন্য যে ধরনের ট্রেনিং দরকার, তা পাননি বলেই ব্যর্থ হয়েছেন প্রণতি বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। তবে প্রণতির ব্যর্থতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন তাঁরই কোচ মিনারা বেগম। তিনি একপ্রকার হতাশ এবং আশাহত।

আর পড়ুন: রুপো জয়ের পুরস্কার: মীরাবাঈ চানুকে ১ কোটি টাকা দেবে মণিপুর সরকার

মিনারা বেগম লেখেন, “আজ আমি প্রণতির পারফরম্যান্স দেখে কেঁদে ফেলেছিলাম। বিশেষ করে যখন ভল্ট টেবিলটিতে দেখলাম। যখন ও দ্বিতীয় ভল্টের জন্য চেষ্টা না করে হ্যান্ড স্প্রিং ফ্রন্ট সালটো ৩৬০ ডিগ্রি টার্ন করল। আমি জানি না কেন দ্বিতীয় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এই ভল্টটি সে করল না। তবে আমার মনে হয় এই ভল্টটি করলে অনায়াসেই প্রণতি ফাইনালে পৌঁছে যেতে পারত। আমি জানি না যে এটি কার সিদ্ধান্ত যে, দ্বিতীয় ভল্টটি করানোই বা হল না কেন? তবে এই সিদ্ধান্তটার জন্য ভারত পিছিয়ে গেল। ভারত তার একটা সুযোগ হারিয়ে ফেলল।”

আর পড়ুন: প্রিয়া মালিক বুদাপেস্টে স্বর্ণপদক জিতে অভিনন্দিত হলেন অলিম্পিক সোনাজয়ী হিসেবে!

তিনি আরও লিখেছেন যে, “গত ১৮ বছর ধরে এটা আমার কাছে একটি স্বপ্ন যে, ভারতকে একটি মেডেল এনে দেওয়া। তবে আজ একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সেই স্বপ্নটা একদম চুরমার হয়ে গেল। সাধারণত একজন কোচ ঠিক করেন খেলোয়াড় কী সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু একজন অনভিজ্ঞ কোচকে অলিম্পিক পোডিয়ামে পাঠানো হলে এর চেয়ে আর কি-ই বা ভালো ফল আশা করা যায়! আমরা দু’টো ভল্ট করাব। এমনই প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু প্রণতিকে মাত্র একটা ভল্ট করতে বলা হল। আমি জানি না এতে প্রণতির কোচ দেশ এবং প্রণতির প্রতি ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারলেন কিনা। ফলস্বরূপ হেরে গেল ভারত। এবং আমি যেভাবে প্রণতিকে তৈরি করেছিলাম, তারও আর প্রয়োজন পড়ল না। প্রণতি খুব সহজেই ফাইনালে পৌঁছতে পারত। ভেবে দেখুন, সিনিয়র এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯-এ প্রণতি মেডেল জিতেছে। আর আজকে সে অলিম্পিকে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগটিও পেল না। অলিম্পিক কোনও মজার জায়গা নয়। এটা এমন একটা জায়গা, যেখানে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমার ছাত্রী প্রণতি নায়েককে এটা করতে দেওয়া হল না। প্রণতি একজন লড়াকু জিমনাসিয়ান। আজকে লড়তে পারল না। এতদিন সে যা পারফরম্যান্স করেছিল আজকে তার সামান্যটুকুও করতে পারেনি প্রণতি। কেন এমন হল, সেই কারণও আমার কাছে ভীষণভাবেই অজানা।” শেষ মুহূর্তে মিনারা বেগমকে বাদ দিয়ে প্রণতির কোচ হিসাবে পাঠানো হয় লখন সাইকে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *