‘বন্ধুত্ব’, পোকেমন যাত্রার এক অনন্য শব্দ

অনিন্দ্য বর্মন

টিম রকেট শুরু করে ‘প্রিপেয়ার ফর ট্রাবল…’ দিয়ে এবং শেষ করে ‘উই আর ব্লাস্টিং অফ এগেইন’ দিয়ে। আমরা প্রায় প্রত্যেক এপিসোডেই এই লাইনগুলো শুনেছি। তবে জেসি, জেমস এবং মিয়াওথ কিন্তু পোকেমন এপিসোডের এক অভিন্ন সত্তা যাদের ছাড়া হয়তো গল্পকাহিনি অথবা স্টোরিলাইন জমত না। টিম রকেটে আরও অনেক সদস্য আছে, কিন্তু আমরা অপেক্ষা করি কখন পিকাচুর থান্ডারবোল্টের (ইলেকট্রিক আক্রমণ) ধাক্কায় জেসি, জেমস এবং মিয়াওথ পরাজিত হবে। তবে আগেই বলেছি যে পোকেমন কার্টুন হল বন্ধুত্বের উদাহরণ। খলনায়কদের বিষয়ে যাওয়ার আগে নায়কদের একঝলক দেখে নেওয়া যাক? অ্যাশের জীবনে ব্রক এবং মিস্টির স্থান কতটা সেটা আগেই বলা হয়েছে। একঝলক দেখে নেওয়া যাক অ্যাশের অন্যান্য বন্ধুকে।

আরও পড়ুন: পোকেমনের দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগত

পিকাচুর থান্ডারবোল্টে পরাজিত টিম রকেট

পোকেমন ইন্ডিগো লিগে (ক্যান্টো প্রদেশ) অ্যাশের সঙ্গী ছিল ব্রক এবং মিস্টি। কিন্তু অরেঞ্জ লিগে (অরেঞ্জ দ্বীপ) ব্রক ব্যক্তিগত কারণে অ্যাশের সঙ্গে ছিল না। এই সময়ে ব্রকের পরিপূরক ছিল ট্রেসি। সমস্ত অরেঞ্জ আইল্যান্ড এপিসোডে আমরা অ্যাশ এবং মিস্টির সঙ্গে ট্রেসিকে দেখতে পাই। ট্রেসিকে আমরা প্রথম দেখি ‘দ্য লস্ট ল্যাপ্রিস’ এপিসোডে। ট্রেসি একজন পোকেমন ওয়াচার। তার কাজ হল, যেকোনও পোকেমনকে খুঁটিয়ে দেখা এবং তার স্কেচ বানানো। ব্রকের মতোই ট্রেসিও অ্যাশ এবং মিস্টিকে আগলে রাখে। তবে ব্রকের মতো সব কাজে পারদর্শী না হলেও ট্রেসি পোকেমনদের ভালোবাসে এবং তাদের বিষয়ে অনেক খোঁজখবর রাখে। সে পোকেমনদের প্রাথমিক পরিচর্যা করতেও সক্ষম। প্রফেসর ওক, যিনি নিজেও একজন বিশ্ববন্দিত পোকেমন গবেষক, তিনিও ট্রেসির পোকেমন স্কেচের তারিফ বহুবার করেছেন। অ্যাশ প্রফেসর ওককে চেনে, এটা জানার পর ট্রেসি অভিভূত হয়ে গিয়েছিল। তার কাছে প্রফেসর ওক এক কিংবদন্তি, তার জীবনের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষা। অরেঞ্জ লিগ এপিসোডের পর ট্রেসি প্রফেসর ওকের ব্যক্তিগত সহায়ক হিসেবে যোগ দেয় এবং পাকাপাকিভাবে ক্যান্টো প্রদেশে চলে যায়। ট্রেসির সেভাবে কোনও প্রিয় পোকেমন নেই, তবে বিপদে থাকা পোকেমনকে সে সাহায্য করে এবং সেই পোকেমন রাজি হলে সে তাদের পোকেবলে ধরে। এভাবেই ট্রেসি সাইথার-কে (গ্রাস) পেয়েছিল। এছাড়াও সে ব্যবহার করে ভেনোন্যাট (বাগ) এবং মেরিল-কে (ওয়াটার)।

আরও পড়ুন: অভিন্ন হৃদয় বন্ধু: অ্যাশ, ব্রক, মিস্টি এবং পোকেমন

ট্রেসির সঙ্গে সাইথার, ভেনোন্যাট মেরিল এবং সাইডাক

যোহটো লিগে আবার অ্যাশের সঙ্গী হয় মিস্টি এবং ব্রক। তবে হোয়েন লিগে অ্যাশের সঙ্গী হয় মে। হোয়েন লিগে আমরা মিস্টিকে দেখতে পাইনি। তবে ব্রক ছিল। মে-র প্রথম পোকেমন ছিল টর্চিক (ফায়ার)। মে মিস্টির মতো না হলেও অ্যাশের ভীষণ প্রিয় বন্ধু। মে একজন পোকেমন কোঅর্ডিনেটর হতে চায়। একজন পোকেমন কোঅর্ডিনেটর বিভিন্নভাবে তাদের পোকেমনের সৌন্দর্য এবং শক্তির মিশেলকে মঞ্চে উপস্থাপিত করে। তারা পোকেমন জিম ব্যাটেল লড়ে না অথবা পোকেমন লিগে অংশগ্রহণ করে না। তাদের জন্য আছে পোকেমন কন্টেস্ট এবং কন্টেস্ট রিবন। ৫টি রিবন জিততে পারলে তারা পোকেমন গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে পারে। মে একজন দক্ষ পোকেমন কোঅর্ডিনেটর। অ্যাশ যেমন আটটি জিম ব্যাজ জিতে হোয়েন লিগে অংশ নেয়, মে-ও পাঁচটি কন্টেস্ট রিবন জিতে হোয়েন পোকেমন গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যালে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন: বিপণন ও পোকেমন: কার্ড ও গেমিং

মে-র সঙ্গে তার কমবাস্কিন এবং স্কিটি

ম্যাক্স হল মে-র ভাই। ম্যাক্সের দশ বছর বয়স হয়নি, তাই তার কোনও নিজস্ব পোকেমন নেই। কিন্তু ম্যাক্স সবরকম পোকেমন ভালোবাসে এবং পোকেমন সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান। এমনকী ব্রকও ম্যাক্সের পোকেমন সম্পর্কে জ্ঞানকে সম্মান করে তাকে লিটল জিনিয়াস বলে অভিহিত করেছিল। বেশ কয়েকটি পোকেমন ব্যাটেলের সময় ম্যাক্স অ্যাশকে স্ট্র্যাটেজি বলে দিয়েছিল। মে এবং ম্যাক্সের বাবা নর্মান পেটেলবার্গ শহরের জিম লিডার। তার অনুমতিতেই ম্যাক্সও অ্যাশ, মে এবং ব্রকের সঙ্গে সফরে বেরিয়ে পড়ে। তবে অ্যাশ যখন নর্মানকে জিম ব্যাটেলে চ্যালেঞ্জ করে (এপিসোড: ‘ব্যালেন্স অফ পাওয়ার’), ম্যাক্স অ্যাশের জয় এবং নিজের বাবার হার মেনে নিতে পারেনি। অ্যাশ ম্যাক্সের এক কথায় কষ্ট করে জেতা জিম ব্যাজ ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়। কিন্তু নর্মান ম্যাক্সকে বোঝায় যে, সেটা ঠিক নয়। জয় ও পরাজয় জীবন এবং পোকেমন ব্যাটেলের একটা অংশ। ম্যাক্স নিজের ভুল বুঝতে পারে। পুরো হোয়েন প্রদেশের এপিসোডে অ্যাশ এবং ব্রক ম্যাক্সকে নিজের ছোট ভাই হিসেবে দেখেছে।

আরও পড়ুন: পোকেমন মুভির অ্যাশ, পিকাচু এবং টিম রকেট

ম্যাক্স উদ্বিগ্নভাবে দেখছে নর্মানের সঙ্গে অ্যাশের জিম ব্যাটেল

সিনো প্রদেশে অ্যাশ এবং ব্রকের সঙ্গী হয় ডন। বলা যেতেই পারে ডন-এর চরিত্র বানানো হয়েছে একদমই মে-র আদলে। ডন এবং অ্যাশের সাক্ষাৎ বেশ মজাদার। অ্যাশ পিকাচুকে হারিয়ে পাগলপ্রায়, অন্যদিকে ডন আহত পিকাচুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। প্রাণাধিক প্রিয় পিকাচুকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অ্যাশ সবসময়েই ডনের কাছে কৃতজ্ঞ থেকেছে। ডনও মে-র মতোই পোকেমন কোঅর্ডিনেটর হতে চায়। একটি এপিসোডে (‘এ ফুল কোর্স ট্যাগ ব্যাটেল’) মে-র সঙ্গে ডনের দেখাও হয়। ডন সিনো প্রদেশে ৫টি কন্টেস্ট রিবন জেতে এবং সিনো গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যালে অংশ নেয়। ডনের প্রিয় পোকেমন পিপ্লাপ (ওয়াটার), বানেরি (নর্মাল) এবং পাচিরিসু (ইলেকট্রিক)। আরেকটি বিষয় এক্ষেত্রে জানানো প্রয়োজন। সিনো প্রদেশে অ্যাশ একটি এপম (নর্মাল) ধরেছিল। আর ডন ধরেছিল বুইসেল (ওয়াটার)। অদ্ভুত বিষয় হল এপম ডনের পোকেমন কন্টেস্ট দেখে পোকেমন ব্যাটেল লড়তে চায় না। অ্যাশ নিজেও একটি পোকেমন কন্টেস্টে এপম-এর সঙ্গে অংশ নেয়। অন্যদিকে, বুইসেল পোকেমন ব্যাটেলে বেশি আগ্রহী। এই দেখে ব্রক অ্যাশ এবং ডনকে নিজেদের পোকেমন ট্রেড করে নিতে পরামর্শ দেয়। অর্থাৎ পোকেমন বদলে নেওয়া। অ্যাশ ডনকে তার এপম দিয়ে দেয় এবং পরিবর্তে ডনও তাকে বুইসেল দেয়। দুই পোকেমনই এতে ভীষণ খুশি হয়। একদিকে এপম ডনের হয়ে কন্টেস্ট রিবন জেতে, অন্যদিকে বুইসেল অ্যাশের হয়ে জেতে জিম ব্যাজ।

আরও পড়ুন: ছোট ছোট দুঃখকথা

পোকেমন গ্রান্ড ফেস্টিভালে অ্যাশ, পিকাচু এবং ব্রকের সঙ্গে ডন

উনোভা প্রদেশে অ্যাশের সঙ্গী হয় আইরিস এবং সিলান। আইরিস একজন ড্রাগন পোকেমন মাস্টার হতে চায়। তার প্রিয় পোকেমন এক্সিউ পিকাচুর মতোই তার কাঁধে চেপে ঘুরে বেড়ায়। আইরিস একটু একগুঁয়ে। তবে সে অ্যাশের ক্ষেত্রে মে এবং ডনের পরিপূরক। আইরিসের আরেকটা গুণ হল যে, সে কখনোই অ্যাশকে কোনও বিষয়ে জোর করে না। সে চায় অ্যাশ স্বতন্ত্রভাবেই নিজের সিদ্ধান্ত নিক। সে আসলেই অ্যাশকে সাধারণ বাচ্চার মতো দেখে। তবে আইরিস জানে অ্যাশ কতটা পারদর্শী। অন্যদিকে সিলান এবং তার দুই ভাই, চিলি এবং ক্রেস হল স্ট্রাইটন জিমের জিম লিডার। সিলান একজন পোকেমন কনয়েসিয়ার হতে চায়। অর্থাৎ পোকেমনের সৌন্দর্য নিয়ে পড়াশোনা এবং ব্যাখ্যাই তার কাজ। সিলান অ্যাশের জীবনে ব্রক এবং ট্রেসির পরিপূরক। ব্রকের মতো না হলেও সিলান পোকেমন সম্পর্কে অনেক কিছু জানে। প্রথম দর্শনেই সিলান অ্যাশকে জানিয়েছিল যে তার সঙ্গে পিকাচুর মন ভীষণই মেলে। মিস্টির মতোই এই তিন ভাই জিম লিডার। তাদের বলা হয় ট্রিপ্লেট ব্রাদার্স। এবং অ্যাশ উনোভা প্রদেশের প্রথম জিম ব্যাজ এখানেই জেতে। সিলানের প্রিয় পোকেমন হল তার প্যানসেজ (গ্রাস)।

আরও পড়ুন: সম্বুদ্ধজাতিকা (অংশ ২১)

উনোভা প্রদেশে অ্যাশের সঙ্গে আইরিস এবং সিলান

কালোস প্রদেশে অ্যাশের সঙ্গী হয় সেরেনা, ক্লিমেন্ট এবং বনি। ক্লিমেন্ট লুমিওস শহরের জিম লিডার এবং বনি তার বোন। ক্লিমেন্ট এবং বনি একদমই মে এবং ম্যাক্সের আদলে বানানো চরিত্র। শুধু মে এবং ক্লিমেন্ট বড় এবং ম্যাক্স এবং বনি ছোট। আর দু’টো তফাত হল মে জিম লিডার ছিল না। এবং বনি-র নিজস্ব পোকেমন আছে— ডেডেনিই। তবে বনি তাকে ধরেনি। সে নিজের মর্জিতেই বনির সঙ্গ নিয়েছে। বনির নিজস্ব পোকেবল নেই, তাই সে ডেডেনিইকে ধরেনি, সেও দিব্যি পিকাচুর মতো বনির সঙ্গে ঘুরে বেড়ায়। এবং বনির কোনও বিপদ হলে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ক্লেমেন্ট জিম লিডার হলেও একজন সাইন্টিফিক এক্সপার্ট। তার কাজ হল প্রযুক্তির মাধ্যমে পোকেমনদের উন্নতি করা। তার প্রিয় পোকেমন হল ইলেকট্রিক পোকেমন। আর সেরেনার ক্ষেত্রে আপাতত এটাই বলব যে, সে মিস্টির পরিপূরক। তবে সেরেনার সঙ্গে অ্যাশের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ।

আরও পড়ুন: ‘গুলিনদা’র জন্ম শতবর্ষ

কালোস প্রদেশে অ্যাশের সঙ্গে ক্লেমেন্ট, সেরেনা এবং বনি

একদিক থেকে সমস্ত পাঠককে একটু হতাশ করতে বাধ্য হচ্ছি। এই লেখাটিতে এখনও পর্যন্ত অ্যাশের ক্যান্টো থেকে কালোস প্রদেশ অবধি যাত্রার কথাই বলা হয়েছে। এবং এই যাত্রার সময় ছিল ১৯৯৫ থেকে ২০১৬। এর পরও অ্যাশ অ্যালোলা এবং গালার প্রদেশে গেছে। বর্তমান পোকেমন এপিসোড অনুযায়ী, অ্যাশ এই সময়ে আছে গালার প্রদেশে। তবে সমস্যাটা বলি— ২০১৮ পরবর্তী সময়ে ভারতীয় টিভি চ্যানেলে পোকেমন কার্টুন দেখানো প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। দেখানো হলেও পুরনো এপিসোডই বারবার দেখানো হয়। এমনকী উনোভা এবং কালোস প্রদেশে অ্যাশের এপিসোডও সেভাবে দেখানো হয়নি।

আরও পড়ুন: বাঁকুড়ার লোকদেবতা লোকেশ্বর

অ্যালোলা প্রদেশে অ্যাশের সঙ্গে লানা, কিয়াবে, লিলি, সফোক্লিস এবং ম্যালো

লেখার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যালোলা এবং গালার প্রদেশে অ্যাশের অ্যাডভেঞ্চারের কথাও আসবে। ভুলে যাবেন না, এই পর্বে অ্যাশের বন্ধুদের নিয়ে বললেও পিকাচু, ব্রক এবং মিস্টিকে নিয়ে বলা হয়নি। সেরেনার গল্পও বাকি আছে। আর পিকাচু ব্রক এবং মিস্টি ছাড়াও মে, ডন এবং সেরেনার হয়েও পোকেমন ব্যাটেল লড়েছে। আসলে অ্যাশ পিকাচুর ট্রেনার হলেও, দু’জনেই ব্রক এবং মিস্টিকে নিজের আপন হিসেবেই জানে। ‘হোয়েন রিজিয়ন্স কোলাইড’ এপিসোডেই মাত্র একবার পিকাচু স্বেচ্ছায় মিস্টির বিরুদ্ধে লড়েছিল। অ্যাশের জন্য নয়, সে মিস্টির গ্যারিয়াডোস-কে (ওয়াটার) হারাতে চেয়েছিল। এবং এই এপিসোড অ্যালোলা প্রদেশের এপিসোড। এছাড়াও আছে মেগা ইভলিউশন, পোকেমন ক্রিস্টাল ইত্যাদি। আপাতত এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন প্রদেশে অ্যাশ এবং পিকাচুর সঙ্গীদের নাম।

আরও পড়ুন: অতি ছোট, ক্ষমতায় সূর্যেরও বেশি

গালার প্রদেশে অ্যাশ এবং পিকাচু

ক্যান্টো – ব্রক এবং মিস্টি

অরেঞ্জ আইল্যান্ডস – মিস্টি এবং ট্রেসি

যোহটো – ব্রক এবং মিস্টি

হোয়েন – ব্রক, মে এবং ম্যাক্স

সিনোহ – ব্রক এবং ডন

উনোভা – আইরিস এবং সিলান

কালোস – সেরেনা, ক্ল্যেমেন্ট এবং বনি

অ্যালোলা – লানা, কিয়াবে, লিলি, সফোক্লিস এবং ম্যালো গালার – ভেরিটি, সোরেল, গহ এবং ক্লোয়ে

আরও পড়ুন: হতভাগ্য স্বামীর বিলাপ

এবং নায়ক অ্যাশের সঙ্গে প্রায় প্রতি এপিসোডেই সাক্ষাৎ এবং পিকাচুকে চুরি করার চেষ্টায় থাকা টিম রকেট অর্থাৎ জেসি, জেমস এবং মিয়াওথের কথা ভুলে যাবেন না কিন্তু।

ক্রমশ…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *