তালিবান আতঙ্কে দেশ-পালানো পপ তারকা আরিয়ানা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোনালেন অভিজ্ঞতার কথা

Mysepik Webdesk: আফগানিস্তান দখল করে নিয়েছে তালিবান। এর পর থেকে সেই দেশের অনেক মানুষ আতঙ্কে দেশ ছাড়তে শুরু করেন। দেশটির পপ তারকা আরিয়ানা সাঈদও কোনও না কোনওভাবে দেশটি থেকে পালাতে পেরেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি কাবুল ছাড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং যন্ত্রণা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন— ১৪ আগস্ট তিনি একটি ফোন কলের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, কাবুল দখল করতে চলেছে তালিবান। এর পর আফগানিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আরিয়ানা জানান, তিনি তালিবানের ৫টি চেক পয়েন্ট পেরিয়ে কাবুল বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। এমনকী তালিবান যোদ্ধারা তল্লাশি চালানোর জন্য তাঁর বাড়ির আশপাশে পৌঁছেছিল। যদি তারা গায়িকা, গীতিকার এবং টেলিভিশন উপস্থাপক আরিয়ানাকে চিনতে পারত, তাহলে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত ছিল।

আরও পড়ুন: আফগানদের মৌলিক অধিকারের কথা বলতে ইনস্টাগ্রামে এলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, শেয়ার করলেন এক আফগান মেয়ের চিঠি

আরিয়ানা এবং তাঁর স্বামী হাসিব সৈয়দ ১৫ আগস্ট বাণিজ্যিক বিমানে একটি রিজার্ভেশন করেছিলেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সেই বিমান টেকঅফ করতে পারেনি। একই দিনে তালিবান কাবুল দখল করে। বিমানবন্দরে আতঙ্কিত পরিবেশের কথাও জানিয়েছেন আরিয়ানা। সেই সময় আরিয়ানা তাঁর স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করেন। পরে তাঁরা কাবুলে তাঁদের আত্মীয়দের কাছে পৌঁছে যান। পরের দিন আরিয়ানা জানতে পারেন যে, তাঁদের প্রতিবেশীদের বাড়ি তল্লাশি চালানো হয়েছিল তালিবানের পক্ষে। আতঙ্কে তিনি আবার বিমানবন্দরে ফিরে আসেন। বিমানবন্দরে তাঁর মুখ পুরোপুরি ঢাকা ছিল। তিনি তাঁর স্বামী হাসিবের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ছিলেন, যাতে তাঁদের একটি বিদায়ী পরিবার মনে করে তালিবান গোষ্ঠী।

আরও পড়ুন: কাবুল বিমানবন্দরে তুর্কি সেনাদের মানবিকতার দৃশ্যে মুগ্ধ বিশ্ববাসী

পপ তারকা জানান যে, পথে ৫টি তালিবান চেক পয়েন্ট পড়েছিল। একটি চেক পয়েন্টে তাঁদের গাড়ি থামানো হয়। ছোট ছেলেকে সঙ্গে দেখে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। হাসিব অন্য একটি গাড়িতে বিমানবন্দরে পৌঁছান। আরিয়ানা আরও জানিয়েছেন যে, একজন আফগান বিমানবন্দরে হাসিবকে চিনতে পারেন। এরপর হাসিব একজন আমেরিকান অফিসারকে বলেন, “আমি আফগানিস্তানের একজন বিখ্যাত পপ তারকার স্বামী এবং আপনার আমাকে বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া উচিত। কারণ তালিবানের কেউ যদি আমাকে ধরে নিয়ে যায়, তবে তারা আমাকে হত্যা করবে।” এরপর হাসিবকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। হাসিবের আত্মীয়রা আরিয়ানাকে বিমানবন্দরে নিয়ে যান। সেখানেই দু’জনের দেখা হয়। ১৭ আগস্ট ইউএস এয়ারফোর্সের একটি ফ্লাইটে দু’জন রওনা দেন। বিমানটি প্রথমে দোহায় অবতরণ করে। তারপর ১৯ আগস্ট তাঁরা আমেরিকা পৌঁছান। এই দম্পতি মঙ্গলবার আমস্টারডাম হয়ে ইস্তান্বুলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কাবুল খালি হাতে ছাড়তে হয়েছিল তাঁদের, সঙ্গে কোনও লাগেজ ছিল না আরিয়ানাদের।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *