টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় বক্সিং টিমের অন্যতম ভরসা লভলিনাকে চিনে নিন

Mysepik Webdesk: প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে ৯ জন ভারতীয় বক্সার দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এর মধ্যে অসমের ২৩ বছর বয়সি লভলিনা বরগোঁহাই রয়েছেন। লভলিনা অলিম্পিকে অংশ নেওয়া অসমের প্রথম মহিলা বক্সার হয়ে উঠতে চলেছেন। শিব থাপার পরে অসম থেকে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দ্বিতীয় বক্সার এই লভলিনা। ৬৫ কেজি ওজন বিভাগে অংশ নেওয়া লভলিনা পদক জয়ের প্রবল দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও অবধি কেবলমাত্র এমসি মেরি কম-ই ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে একটি অলিম্পিক পদক জিতেছেন। ২০২০ সালে তিনি ভারত সরকার দ্বারা অর্জুন পুরস্কার ভূষিত হন। অসমের ষষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হিসেবে এই সম্মান লাভ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: কলকাতায় অলিম্পিক দিবস পালন

লভলিনা বলছেন— “যদি কেউ জাতীয় স্তরে স্বর্ণপদক জেতেন, তবে মানুষ ভুলে যায়। তবে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতলে সবার মনে থাকে। আমার লক্ষ্য, অলিম্পিকে দেশের হয়ে স্বর্ণপদক জেতা। আমি যদি বক্সিংয়ে দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক পাই, তবে তা আমার জন্য ভাগ্যের বিষয়। কারণ এখনও অবধি কোনও ভারতীয় অলিম্পিক বক্সিংয়ে সোনা জেতেনি।” ২৩ বছর বয়সি অসমের গোলাঘাটে জন্মানো এই বক্সার আরও বলেন, “আমরা তিন বোন। লোকেরা বলত মেয়েরা কিছু করতে পারবে না। তবে আমার মা মামনি বোরগোহেইন সবসময়ই বলতেন যে, এমন কিছু করো যাতে সবাই তোমাকে মনে রাখে।”

আরও পড়ুন: মাদেইরার আগুন, রোজারিওর বৃষ্টি

লভলিনা তাঁর যমজ বোন লিখা এবং লিমাকে দেখে উজ্জীবিত হয়ে কিকবক্সিং খেলতে শুরু করেছিলেন। তাঁর বড় যমজ বোন লিচা ও লিমাও কিকবক্সিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, কিন্তু পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে তা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। ২০১৮ এআইবিএ মহিলা বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯-এর এআইবিএ মহিলা বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জেতা লভলিনার কথায়, “আমার বাবা টিকেন বোরগোহেইন একবার বাজার থেকে সংবাদপত্রে মোড়ানো মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন। পত্রিকায় মহম্মদ আলি সম্পর্কে একটা খবর ছাপা ছিল। আমি আমার বাবার কাছ থেকে মহম্মদ আলি সম্পর্কে জানতে পারি। তিনি আমাকে মহম্মদ আলির বক্সিং কেরিয়ার সম্পর্কে বলেছিলেন। তখন আমি বক্সিং সম্পর্কে জানতে পারি। এর পরে, অসমের স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার রিজিওনাল সেন্টারে (SAI) নির্বাচিত হওয়ার পরে বক্সিংয়ের ট্রেনিং নেওয়া শুরু করি।”

আরও পড়ুন: দেশ, সীমান্ত এবং মিলখা সিংয়ের রূপকথা

লভলিনাকে শৈশবে অনেক লড়াই করতে হয়েছিল। তাঁর বাবা একটি ছোট্ট দোকান চালাতেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাঁর বাবা বলছেন, “আমার আয় খুব কম ছিল। লভলিনার একটি ট্র্যাক স্যুটও ছিল না। ও সাইকেলে চড়ে বক্সিং ট্রেনিংয়ে যেত। তবে ও কখনও এই বিষয়ে অভিযোগ করেনি।” ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করা লভলিনা যখন নবম শ্রেণিতে পড়তেন, তখন স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া তাঁর হাইস্কুল বারপাথার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ট্রায়াল করেছিল, যেখানে লভলিনা অংশ নিয়েছিলেন। প্রখ্যাত কোচ পদুম বোরো তাঁকে নির্বাচিত করেন। ২০১২ সাল থেকে লভলিনা পদুম বোরোর অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। সেখানে বক্সিং স্কিলের উন্নতি ঘটে তাঁর। লভলিনার বর্তমান কোচ সন্ধ্যা গুরুং জানান যে, প্রথম প্রথম বেশ ভয়ে ভয়ে খেলতেন তিনি। এখানে আসার পরেই তার খেলার উন্নত হয়েছিল। নানান কৌশলও রপ্ত করে। নির্দ্বিধায় খেলতে শুরু করে লভলিনা।

আরও পড়ুন: শটপুটে টোকিও অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করলেন তেজিন্দর পাল সিং তুর

লাভলিনা ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। একইসঙ্গে, তিনি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ইন্ডিয়ান ওপেন আন্তর্জাতিক বক্সিং টুর্নামেন্টে রুপো এবং গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ইন্ডিয়ান ওপেন আন্তর্জাতিক বক্সিং টুর্নামেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এছাড়াও তিনি ২০১৭ এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদকও জিতেছেন। লভলিনা ২০১৮ কমনওয়েলথ গেমসেও দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আসন্ন অলিম্পিকে লভলিনা পদক জিতে দেশে ফিরুন, এমনটাই চাইছেন দেশবাসী।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *