একঝলকে জেনে নিন দেশে করোনার হালনাগাদ

Mysepik Webdesk: ১৩৮ কোটি জনসংখ্যার ভারতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১.৭৪% অর্থাৎ ১৫ কোটি ২৬ লক্ষ মানুষের করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৬.৪৫% অর্থাৎ ৯৮.৫৭ লক্ষ মানুষ সংক্রামিত হয়েছে। টেস্টের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেশে প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় ১.১০ লক্ষ মানুষের টেস্ট করা হচ্ছে। আমেরিকায় একই জনসংখ্যায় প্রায় ৬.৫৫ লক্ষ মানুষ এবং ব্রাজিলের ১.২০ লক্ষ মানুষের কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন: ২২ পৃষ্ঠার সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কৃষকদের

দেশের শীর্ষ দশটি সংক্রামিত রাজ্যের মধ্যে রাজধানী দিল্লিতে সর্বাধিক টেস্ট হয়েছে। এখন পর্যন্ত এখানকার ২ কোটি জনসংখ্যার ৩৩.৬১% মানুষের টেস্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ নাগরিকের মধ্যে ৩৩ জনের করোনা টেস্ট হচ্ছে। এক্ষেত্রে অন্ধ্রপ্রদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। অন্ধ্রে এখনও অবধি ২১.৩৬% এবং কেরলে ১৯.৬৩% মানুষের কোভিড টেস্ট হয়েছে। টেস্টের ক্ষেত্রে রাজস্থানের পরিসংখ্যান সবচেয়ে খারাপ। এখনও অবধি ৭.৭ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ৬.১৬% টেস্ট হয়েছে। জনসংখ্যার বিবেচনায় দেশের বৃহত্তম রাজ্য অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশে ৯.৩৭% অর্থাৎ ২.১ কোটি মানুষের করোনা টেস্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিয়াচেনে বরফের খাদে পড়ে শহিদ ভারতীয় সেনার, বাড়িতে আট মাসের গর্ভবতী স্ত্রী

এ-পর্যন্ত দেশে করোনায় ৯৮ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩৮০ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। তারমধ্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৪ জন রোগী চিকিৎসা চলছে। ৯৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮৭৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মারা গেছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫ জন।

একঝলকে

১. কেরল সরকার এই রাজ্যে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী পি বিজয়ন বলেছেন, করোনার ভ্যাকসিন রাজ্যের সমস্ত মানুষকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

২. হরিয়ানার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিল ভিজ কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি চিঠি লিখেছেন, যাতে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা অর্থাৎ সংসদ সদস্য, বিধায়কদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ভিজ লিখেছেন যে, এই প্রতিনিধিরা জনগণের মধ্যে যান। সুতরাং, তাঁদেরও অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

৩. উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী রেখা আর্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি তাঁর সংস্পর্শে আসা মানুষদের কোভিড টেস্টের কথা বলেছেন।

৪. পুণে মিউনিসিপাল কর্পোরেশন অ্যাডমিনিট্রেশন স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে। ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত শহরে বিদ্যালয়গুলি বন্ধ থাকবে। এর জন্য আদেশ জারি করা হয়েছে।

৫. উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিভেন্দ্র সিং রাওয়াত কুম্ভ মেলার জন্য একটি বিশেষ কোভিড-১৯ অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: চিন থেকে ভারতে সরে আসছে মাদারবোর্ড ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, ব্যাপক চাপে চিন

অন্যদিকে, দেশের ৩১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে সুস্থতার হার ৯০%-এরও বেশি। সুস্থতার হারের দিক দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে এগিয়ে। এখন পর্যন্ত ৯৮.৬% রোগী সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। ওড়িশা রয়েছে দ্বিতীয় নম্বরে। এখানে ৯৮.৫% মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দাদরা ও নগর হাভেলিতে ৯৮.৪% এবং ৯৮% রোগী অরুণাচলপ্রদেশে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

তবে, সুস্থতার নিরিখে হিমাচলপ্রদেশের পরিসংখ্যান বিশেষ সুবিধার নয়। এখন পর্যন্ত মাত্র ৮২.৩% মানুষ সুস্থ হয়েছেন সেখানে। অন্যদিকে, সুস্থতার দিক দিয়ে দুর্বল পারফরম্যান্সযুক্ত রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তরাখণ্ড, মণিপুর এবং সিকিমও রয়েছে।

মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করলে পঞ্জাবের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এখন পর্যন্ত ৩.২% মানুষ মারা গেছেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত এখানে ২.৬%, সিকিমের ২.২% মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

এ ছাড়াও ২০টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে, যেখানে মৃত্যুর হার ১% থেকে ১.৮%-এর মধ্যে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি দাদরা ও নগর হাভেলি, মিজোরাম, অরুণাচলপ্রদেশ সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে। এখানে মৃত্যুর হার ১%-এরও কম।

দেশের ৬ রাজ্যের করোনার হালনাগাদ

দিল্লি  শনিবার ১৯৩৫ জন করোনায় সংক্রামিত হয়েছে। ৩১৯১ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ৪৭ জন দেহত্যাগ করেছেন। এখনও অবধি ৬ লক্ষ ৫ হাজার ৪৭০ জন সংক্রামিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ১১৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সংক্রমণের ফলে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা এখন ৯৯৮১ জন। ১৭ হাজার ৩৭৩ জন রোগী এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মধ্যপ্রদেশ  শনিবার, রাজ্যে ১২৮২ নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ১৪১৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও অবধি ২ লক্ষ ২২ হাজার ৩৯৭ জন সংক্রামিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৩৯১ জন রোগী মারা গিয়েছেন এবং ২ লক্ষ ৬ হাজার ৫৯১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

গুজরাত  শনিবার রাজ্যে ১২০৪ জন সংক্রামিত হয়েছেন। ১৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ১২ জন মারা গেছেন। এ-পর্যন্ত ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৫০৮ জন মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেণ। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৮১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। ২ লক্ষ ৮ হাজার ৯৬৭ জন সুস্থ। সংক্রমণের ফলে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬০।

রাজস্থান  শনিবার রাজ্যে ১৩০৭ জনের করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ২৯১৩ জনকে সুস্থ এবং ১৪ জন মারা গেছেন। এখনও অবধি ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৯৯ জন লোক আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৮২১ জন চিকিৎসাধীন। ২ লক্ষ  ৭০ হাজার ৬৫০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সংক্রমণের ফলে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫২৮।

মহারাষ্ট্র  শনিবার মহারাষ্ট্রে ৪২৫৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ৩৯৪৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মারা গেছেন ৮০ জন। এখন পর্যন্ত ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬৯৯ জন সংক্রামিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৫৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন এবং ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৯২২ জন সুস্থ হয়েছেন। সংক্রমণের ফলে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা এখন ৪৮ হাজার ১৩৯-এ পৌঁছেছে।

পশ্চিমবঙ্গ  শনিবার রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭১০ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৯১৩ জন। মারা গাছেন ৪৩ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ২১৫ জন। এখনও আক্রান্ত ২৩০৩৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৭১ জন। সংক্রমণের ফলে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা এখন ৯০১০।

ছবি ইন্টারনেট

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *