একটিমাত্র কিডনি নিয়ে বিশ্বস্তরে সফল হয়েছিলেন ‘সোনার মেয়ে’ অঞ্জু ববি জর্জ

Mysepik Webdesk: ২০০৩ সালের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতীয় হিসাবে ইতিহাস গড়েছিলেন অলিম্পিয়ান অঞ্জু ববি জর্জ। তবে এখন তিনি যা বললেন, তা শুনে চমকে যেতে হয়। সোমবার তিনি জানিয়েছেন যে, একটি কিডনি নিয়ে তিনি শীর্ষস্তরে সাফল্য অর্জন করেছেন। আইএএএফ ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স ফাইনালস (মোনাকো ২০০৫) স্বর্ণপদক বিজয়ী লং জাম্প তারকা অ্যাথলেট জানিয়েছেন যে, তাঁর ব্যথানাশক ওষুধের প্রতিও অ্যালার্জি ছিল। এ-জাতীয় বাধা সত্ত্বেও তিনি সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: থমকে গেল হাবাসের বিজয়রথ

অঞ্জু টুইট করেছেন— “বিশ্বাস করুন বা না করুন, আমি সেই ভাগ্যবান মানুষদের মধ্যে রয়েছি যাঁরা  একটি কিডনির সাহায্য নিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্তরে পৌঁছেছিল। এমনকী ব্যথানাশক ওষুধে আমার যেমন অ্যালার্জি ছিল। রেস শুরু করার সময় আমার সামনের পা ঠিকমতো কাজ করত না। অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমার সাফল্য অর্জন করেছিলাম।” আমরা কি একে কোচের জাদু বলতে পারি? উল্লেখ্য যে, অঞ্জুর কেরিয়ার তাঁর স্বামী রবার্ট ববি জর্জকে কোচিংয়ের পরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

আরও পড়ুন: গোল করে ইতিহাস বালা দেবীর

অঞ্জু জানিয়েছেন যে, এই মহামারির যুগে বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য তিনি একথা প্রকাশ করেছেন। মারাত্মক ভাইরাসের কারণে খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারছেন না। অনেক প্রতিযোগিতাও বাতিল হয়ে গেছে। তিনি পিটিআইকে বলেন, “সাধারণের মতামত হল আমার দেহ সুগঠিত। তবে সত্যটি হল আমি সমস্ত অসুবিধা পেরিয়ে সফলতা অর্জন করেছি। আশা করি, আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নেওয়া ভবিষ্যতের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করবে।” অঞ্জু আরও জানিয়েছেন যে, ২০০৩ সালের প্যারিসে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের মাত্র ২০ দিন আগে জার্মানির চিকিত্সকরা তাঁকে ছ’মাস বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: আইএফএ শিল্ডে রনি রায় নামাঙ্কিত ট্রফি

তিনি বলেন, “প্যারিস বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ তখন মাত্র ২০ দিন বাকি ছিল। তবে আমি সমস্ত প্রতিকূলতাকে পরাস্ত করে পদক জিততে সক্ষম হয়েছি।” আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু করার আগে ২০০১ সালে অঞ্জুকে বেঙ্গালুরুতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়েছিল। পরীক্ষা ধরা পড়েছিলেন একটি কিডনির খবর। অঞ্জু বলেন, “এমন খবর মর্মাহত করে আমাকে। তবে ববি (স্বামী) আমাকে আমার কেরিয়ার অব্যাহত রাখতে এবং সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেছিলেন যে, আমার যদি কোনও সমস্যা হয় তবে তিনি তাঁর একটি কিডনি দেবেন।” অঞ্জু জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি যথেষ্ট পরিপক্ক হয়ে উঠেছেন। অঞ্জু যুক্ত করেন, “আমি যদি আমার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জনসমক্ষে প্রকাশ করতাম তবে পরিস্থিতি অন্যরকম হত।” তাঁর এই টুইটের জবাবে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন— “অঞ্জু তাঁর কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও কমিটমেন্ট দিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন।”

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *