‘সরকার হৃদয়হীন’, করোনা মোকাবিলায় কেন্দ্রের ব্যর্থতা নিয়ে কড়া সমালোচনায় নির্মলা সীতারমণের স্বামী

Mysepik Webdesk: দেশজুড়ে করোনা অতিমারির দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের স্বামী পরকলা প্রভাকর। তাঁর কটাক্ষ, মানুষকে সাহায্য না করে শিরোনামে আসার চেষ্টা করছে সরকার। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে চাইছে। এই সরকার হৃদয়হীন। প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি তোপ দাগলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের স্বামী। নিজের সাপ্তাহিক ব্লগে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘হৃদয়হীন, অসংবেদনশীল এবং অসার’ বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। এছাড়াও ইউটিউব চ্যানেলে প্রভাকর বলেছেন,”করোনা সঙ্কটে ইতিবাচক পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। তার পাল্টা অসভ্য প্রতিক্রিয়া দিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।”

আরও পড়ুন: কোভিডের দুর্বার গতি, মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে কর্নাটকে ১৪ দিনের লকডাউন

নির্মলার স্বামী পরকলা প্রভাকর নিজেও একজন অর্থনীতিবিদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তবে বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে বিজেপির বিরোধী শিবিরেই রয়েছেন তিনি। গত বছর লকডাউন পরবর্তী সময়েও কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন তিনি। করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার জেরে বর্তমানে দেশের যা পরিস্থিতি, সে সম্পর্কে নিজের নিবন্ধে প্রভাকর বলছেন,”এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি দেশে। অথচ, হুঁশ নেই প্রধানমন্ত্রীর। সরকারি কর্তাব্যক্তিরা পরিসংখ্যান তুলে বোঝাচ্ছেন, পরিস্থিতি অতটাও খারাপ নয়। মৃত্যুকে শুধু সংখ্যা হিসাবে দেখানো হচ্ছে প্রতিদিন। আড়ালে থেকে যাচ্ছে স্বজনহারা মানুষের যন্ত্রণাকাতর মুখগুলি।”

আরও পড়ুন: ফের অক্সিজেনের অভাবে পাঁচ করোনা রোগীর মৃত্যু, এবারও হরিয়ানায়

কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনায় সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা এবং বাকপটুতা দিয়ে সরকারের ব্যার্থতা এবং হৃদয়হীনতাকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ অসার বলেই ওরা পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার ছবি ভুলে যেতে পেরেছে৷ কিন্তু জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক পুঁজি কোনও সংকেত না দিয়েই হঠাৎ ফুরিয়ে যায়৷ এই অসারতা চিরকালীন হতে পারে না৷ স্বচ্ছতা, সহানুভূতি টিকে থাকবে৷ প্রধানমন্ত্রী অন্তত এখন বেছে নিন, তিনি কোনটা চান৷’ সেই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, “মারণ ভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষকে প্রতিষেধক দিতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুদের বাদ দিয়েও সংখ্যাটা প্রায় ৭০ কোটির কাছাকাছি। সেটার জন্য প্রয়োজন ১৪০ কোটি কভিড-১৯ টিকার ডোজ। সরকারের উপদেষ্টাদের মনে রাখতে হবে, পুরো দেশে করোনা মুছতে না পারলে দেশের কোনও প্রান্তেই এটা আটকানো যাবে না।”

সেই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্ম গুরুদের একহাত নিয়েছেন প্রভাকর। করোনা পরিস্থিতিতেও বাংলায় প্রচার চালিয়ে গিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। এনিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনের থেকেও তাঁদের কাছে নির্বাচন এবং ধর্মীয় সমাগম বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী জুটিয়ে রাজনৈতিক সভা করছেন। কুম্ভ মেলা চলছে। পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে গেল, তখন ওদের হুঁশ ফিরল। মানুষের জীবনের দাম এঁদের কাছে শূন্য।’

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *