রয় কৃষ্ণার পেনাল্টিতে আবার জয়ের রাস্তায় সবুজ মেরুন বিগ্রেড

সায়ন ঘোষ

দুই ম্যাচ বাদে ফের জয়ের রাস্তায় হাবাসের ছেলেরা। সৌজন্যে সেই রয় কৃষ্ণা। ৮৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে মূল্যবান ৩ পয়েন্ট এনে দিলেন তিনি। হাবাস আজকে ৫-৪-১ ছকে দল নামান। আগের ম্যাচের দল থেকে এ-দিন কয়েকটি পরিবর্তন করেন। গোলে অরিন্দম ভট্টাচার্য। রক্ষণে প্রীতম, সন্দেশ, তিরি, ম্যাকহিউ, শুভাশিস। মাঝমাঠে জয়েশ, মনবীর, ডেভিড উইলিয়ামস, প্রণয়। আপফ্রন্টে রয় কৃষ্ণা। অন্যদিকে, গোয়া ৪-৩-৩ ছকে দল নামায়। গোলে ন‌ওয়াজ। রক্ষণে গামা, নগুয়েরা, গঞ্জালেস ও সারেটন। মাঝমাঠে লেনি, এডু বেডিয়া ও আঙ্গুলো। আপফ্রন্টে জেসুরাজ, লেন ও ডোনাচিও। খেলার শুরু থেকেই পাসিং ফুটবল খেলে প্রাধান্য বিস্তার করে এফসি গোয়া। মোহনবাগানের তরফে কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে খেলায় ফেরার চেষ্টা শুরু হয়। ২৯ মিনিটে ম্যাকহিউ ও দূরপাল্লার শট নেন যদিও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে ৩৯ মিনিটে প্রায় গোল পেয়ে গিয়েছিলেন ডেভিড উইলিয়ামস। তাঁর দূরপাল্লার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া প্রথমার্ধে খেলায় সেইরকম কোনও উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি।

আরও পড়ুন: মহামেডানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড ফাইনালে রিয়াল কাশ্মীর

দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বার হবার চেষ্টা করে গোয়া। এডু বেডিয়ার নেতৃত্বে মাঝমাঠের দখল নেয় গোয়া। দুর্দান্ত খেললেন এডু। ৫০ মিনিটে হেড মিস করেন লেন। ৫১ মিনিটে প্রণয়ের দূরপাল্লার শট মিস হয়। ৫৩ মিনিটে ফ্রি-কিক সেভ করেন ন‌ওয়াজ। ৫৬ মিনিটে পালটা সেভ করেন অরিন্দম। গোয়া রক্ষণে  এ-দিন দুর্দান্ত খেললেন সেরিটন ফার্নান্দেজ। আবার ৬৮ মিনিটে দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। এ-দিন দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকবার পরিত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। ৮০ মিনিটে ফের পরিত্রাতা হয়ে ওঠেন অরিন্দম।

আরও পড়ুন: ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ আয়োজনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিড ঘোষণা ভারতের

৮৩ মিনিটে রয় কৃষ্ণাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় এটিকে মোহনবাগান। পেনাল্টি থেকে গোল করেন ‘গোলমেশিন’ রয় কৃষ্ণা। শেষের দিকে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে অলআউট আক্রমণে যায় গোয়া। কিন্তু মোহনবাগান রক্ষণ এই পর্বে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ হয়ে উঠে। এই সময় সন্দেশ ঝিংগানের নেতৃত্বে জান লড়িয়ে দেয় মোহনবাগান রক্ষণ। বিশেষ করে ম্যাকহিউয়ের কথা বলতে হবে। এডু বেডিয়াকে আপফ্রন্টে কোনও সুযোগ‌ই দিলেন না তিনি। ম্যাক হিউ এ-দিন ম্যাচের সেরা হন। ৯৬ মিনিটে দক্ষতার শীর্ষে উঠে আরও একবার দলের পতন আটকান অরিন্দম। এ-দিন শেষের দিকে প্রবীর দাস ও এডুকে এনে আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে চান হাবাস। একদম শেষ দিকে সাহিলকে নামিয়ে তিনি গোলের মুখ বন্ধ করে দেন।

আরও পড়ুন: অলিম্পিক বাতিল হোক, চান ৩২ শতাংশ জাপানি নাগরিক

এ-দিনের ম্যাচে বারংবার প্রবীর দাসের অভাব চোখে পড়ল। প্রবীর না থাকায় সবুজ মেরুন ব্রিগেডের উইং প্লে-ও চোখে দেখা গেল না। একদম শেষদিকে প্রবীর নামতে কিছুটা যা চোখে এলো। তবে এখনও মোহনবাগান জাভি হার্নান্দেজকে মাঝমাঠে মিস করছে মোহনবাগান। ডেভিড উইলিয়ামসকেও পুরো ফিট মনে হলো না। অন্যদিকে, সারাম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও শেষ দিকে রয় কৃষ্ণার কাছেই হারল গোয়া।

আরও পড়ুন: প্রয়াত হলেন ‘হিন্দ কেসরি’ প্রাপ্ত কুস্তিগীর শ্রপতি খাঞ্চনালে

তবে বারংবার প্রশ্ন উঠছে হাবাসের রণনীতি নিয়ে। তাঁর ফুটবল দর্শনই হল যেনতেন প্রকারে তিন পয়েন্ট। ফলে মোহনবাগান জিতলেও তাদের খেলায় চোখে পড়ছে সৃষ্টিশীলতার অভাব, যেটা গত মরশুমে জেতার পাশাপাশি কিবুর নয়নাভিরাম ফুটবল খেলা দেখা গিয়েছিল। হাবাস এইসব নিয়ে ভাবতে নারাজ। তিনি কোনও দিন বল পজেশন বা পাসিং ফুটবলকে গুরুত্ব দেন। রক্ষণ জমাট করে কাউন্টার অ্যাটাকে যেনতেনভাবে গোল তুলে তিন পয়েন্ট নেবার লক্ষ্যে নামেন। তাই আজ বল পজেশন বেশি রেখে সারাম্যাচে, বিশেষ করে শেষের দিকে আক্রমণের ঝড় তুলেও জিততে পারল না গোয়া। আর কৃতিত্ব দিতে হবে হাবাস-বাহিনীর রক্ষণকেও। ইগর আঙ্গুলোর মতো স্ট্রাইকারকে সারাম্যাচে বোতলবন্দি করাটা খুব চাপের। যেটা ক্রমাগত করে গেলেন সন্দেশ ঝিংগান। বারংবার প্রীতম, সন্দেশ ও শুভাশিস প্রমাণ করছিল ওরা তিনজন কেন এই মুহূর্তে ভারতীয় দলের সেরা ডিফেন্ডার।

আরও পড়ুন: ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: শীর্ষ দুইয়ে থাকতে গেলে ভারতকে ৮টি ম্যাচের মধ্যে জিততে হবে ৫টিতে

অনেকদিন বাদে পুরনো ছন্দে প্রণয় হালদার। সারাম্যাচে ছুটাছুটি করে বেশ কিছু অনবদ্য থ্রু পাস দিল। তবে এ-দিনের ম্যাচটা রীতিমতো ট্যাকটিক্যাল হয়ে উঠল দুই কোচের সৌজন্যে। এইরকম একটা ট্যাকটিক্যাল ম্যাচ বার করাটা চ্যাম্পিয়নদের লক্ষণ। গোয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষকে হারানোটা নিঃসন্দেহে কৃতিত্বের দাবি রাখে। এই জয়ের ফলে গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় পজিশনে উঠে এলো মোহনবাগান। পরের ম্যাচে তারা এই জয়ের ধারা বজায় রাখার যে আপ্রাণ চেষ্টা করবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি সৌজন্য আইএসএল

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *