পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় সবুজ মেরুনের

সায়ন ঘোষ

এই মরশুমের সেরা ম্যাচটা খেলল এটিকে মোহনবাগান। ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও কেরালার বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনল তারা। এদিন দ্বিতীয়ার্ধে অনবদ্য ফুটবল খেলে কেরালাকে হারিয়ে দিল তারা। হাবাস আজকে দল সাজিয়েছিলেন ৩-৫-২ ছকে। গোলে অরিন্দম। রক্ষণে প্রীতম, তিরি, সন্দেশ। মাঝমাঠে প্রবীর, জয়েশ, সাহিল, ম্যাকহিউ, সুমিত রাঠি। আপফ্রন্টে রাখেন রয় কৃষ্ণা ও নবাগত স্ট্রাইকার মার্সেলিনোকে। পক্ষান্তরে কেরালা কোচ কিবু ভিকুনা দল সাজান ৪-৪-২ ছকে। গোলে আলবিনো গোমস। রক্ষণে জেসেল, কোস্টা, জিকসন সিং, সন্দীপ। মাঝমাঠে সাহাল, ভিনসেন্ট, হুয়ানডে, রাহুল কেপি। আপফ্রন্টে ছিলেন গ্যারি হুপার ও জর্ডন মারে।

আরও পড়ুন: সান্তোসকে হারিয়ে কোপা লিবের্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন পালমেইরাস

এদিন শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে কেরালা। ৪ মিনিটে নিশ্চিত গোল গোললাইন সেভ করেন সন্দেশ ঝিংগান। ১১ মিনিটে প্রবীর দাসের শট বাঁচিয়ে দেন আলবিনো গোমস। কিন্তু ম্যাচের ১৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে ভেসে আসা বল চেস্ট ট্র্যাপ করে নামিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে দর্শনীয় গোল করে কেরালাকে এগিয়ে দেন গ্যারি হুপার। এই গোলটির সময় অরিন্দমের কিছু করার ছিল না। ২০ মিনিটে জর্ডন মারের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৬ মিনিটে রয় কৃষ্ণার শট বাঁচিয়ে দেন আলবিনো গোমস। ৩০ মিনিটে ফের জর্ডন মারের শট সেভ করেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। ৪১ মিনিটে রাহুল কেপির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে পুরো খেলাটাই দাপট ছিল কেরালার। দুই উইং দিয়ে সাহাল ও রাহুল কেপি বারংবার আক্রমণ শানাতে থাকেন। এইসময় মোহনবাগান মাঝমাঠ ছিল অন্ধকারে। এদিন সাহিল ও সুমিত রাঠি ছন্দে না থাকায় মাঝমাঠের অবস্থা আরও বেহাল হয়ে যায়। অ্যাটাকিং থার্ডে মিস পাস করে নিজেদের বিপদ বারবার ডেকে আনে এটিকে মোহনবাগান।

আরও পড়ুন: ৩৪ বছর বয়সে ৭ উইকেট নিয়ে নজরকাড়া অভিষেক নউমান আলির

দ্বিতীয়ার্ধে হাবাস ম্যাচে ফিরতে মনবির ও প্রণয়কে নামান। তারপরেও জটলার মধ্যে থেকে গোল করে কেরালাকে ২-০ এগিয়ে দেয় কোস্টা। ২-০ পিছিয়ে পড়ার পর তেতে ওঠে হাবাসের ছেলেরা। ৫৭ মিনিটে রয় কৃষ্ণার শট বাঁচিয়ে দেন আলবিনো গোমস। কিন্তু ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মনবিরের বাড়ানো বল ধরে একজন ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়ে আলবিনো গোমসকে টপকে গোল করেন মার্সেলিনো। এটি মোহনবাগান জার্সিতে প্রথম গোল তাঁর। এরপর ধীরে ধীরে মাঝমাঠের দখল চলে যায় মোহনবাগানের কাছে। এইসময় প্রবীরকে ডিফেন্সে নামিয়ে ৪-৪-২ ছকে চলে যান হাবাস। দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলেন মনবির ও কোমল থাটাল। ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরান রয় কৃষ্ণা।

আরও পড়ুন: এএফসি কাপে শক্ত গ্রুপে সবুজ মেরুন, একই গ্রুপে উঠে আসতে পারে বেঙ্গালুরু এফসি-ও

এরপর আরও আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে মোহনবাগান। ৬৭ ও ৭০ মিনিটে দু’টি গোলের সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। ৮৫ মিনিটে জাভি হার্নান্দেজ সুযোগ হাতছাড়া করলেও ৮৬ মিনিটে আবার একটি গোল করে দলকে ৩-২ গোলে এগিয়ে দেন রয় কৃষ্ণা। এরপর একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে মোহনবাগান ও কেরালা খেলোয়াড়দের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায়। রেফারি অজিত মিতেই দুই দলের চারজনকে একসঙ্গে হলুদ কার্ড দেখান। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে হ্যাটট্রিক হাতছাড়া করেন রয় কৃষ্ণা।

আরও পড়ুন: জীবনযুদ্ধে হার মানলেন গোলরক্ষক অতন্দ্রপ্রহরী প্রশান্ত ডোরা

এদিনের জয়ের ফলে সব্যজ মেরুন ব্রিগেড দ্বিতীয় স্থানেই থেকে তাদের প্লে-অফের রাস্তা আরও নিশ্চিত করে নিলো। অন্যদিকে, ২-০’তে এগিয়ে গিয়েও ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ার পর কেরালা ব্লাস্টার্স কোচ কিবু ভিকুনা রীতিমতো হতাশ। তবে আজকে জিতলেও হাবাসের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। হাবাস যদি আরও একটু রিস্ক নিতেন, তাহলে আরও দু’টো ম্যাচ জিততে পারত তাঁর দল, এমনটাই মনে করছেন সমর্থকেরা। এখন দেখার, আগামী ম্যাচেও হাবাসের দল ছন্দ ধরে রাখতে পারে কিনা।

ছবি আইএসএল

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *