শুভ জন্মদিন আমির..

Aamir Khan

অরিন্দম পাত্র

বাচ্চা ছেলেটার সমস্যার কথা কেউ বুঝত না,সবাই মারাত্মক দুষ্টু আর বদমাইশ বলে চিহ্নিত করত তাকে।বাবা মাও পাত্তা দিতেন না তাকে।অথচ দিন দিন পড়াশোনার অবস্থা তার খারাপ থেকে খারাপতর হতে থাকে!অবশেষে ঠাঁই হয় তার এক বোর্ডিং স্কুলে।সেখানেই এক আর্ট টিচারের নজর পড়ে তার উপর।সে যে আর পাঁচটা বাচ্চার থেকে আলাদা,সেটা এক নজরেই বুঝে নিয়েছিলেন সেই আর্ট স্যার….নিকুম্ভ স্যার।তারপর বাকি গল্পটা একটা ইতিহাস হয়ে গেছে!

আরও পড়ুন: ঈদেই আসছে ভাইজানের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রাধে’

মনে পড়ছে মহাবীর সিং ফোগটের কথা!হরিয়ানার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক স্বপ্নপূরণে ব্যার্থ কুস্তিগীর,পর পর মেয়ে হবার পরেও ছেলে না হওয়ায় যিনি হতাশায় ভেঙে না পড়ে মেয়েদের কেই কুস্তি চ্যাম্পিয়ন করতে জান প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন।পর্দায় তাঁর মুখের সেই বিখ্যাত সংলাপ..”মারে ছোরি,,ছোরো সে কম হ্যায় কে!?” ভ্রুণহত্যায় এক নাম্বারে থাকা হরিয়ানার মানুষ সহ গোটা ভারতের জনগণের মনে ধরেছিল!ফলাফল ৩৮৭ কোটি টাকার বক্স অফিস কালেকশন আর সবচেয়ে বড় হিট হিন্দি ছবির নির্মাণ!

আজ কিন্তু গল্পটা অন্যরকম ও হতে পারত!আজকাল যে আয়ুষ্মান/রাজকুমার সহ অনেকেই ছক ভাঙা আর কনটেন্ট ভিত্তিক ফিল্মের প্রচলন শুরু করেছেন,তার শুরু কিন্তু অনেক আগেই।২০০১ সালের “লাগান” ছবি থেকে এই অন্য ধাঁচের গল্প বলার প্রচলন শুরু হয় বলিউডে।যেটা বলতে চাইছি মেন স্ট্রিম ফিল্মের নামীদামি হিরো হয়েও অন্যরকম স্ক্রিপ্টে কাজ করার সেই শুরু!!তার আগে অবশ্য গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে।১৯৮৮ সালে তৎকালীন সময়ের ফর্মুলা অনুযায়ী দুর্দান্ত সফল টিন এজ লাভ স্টোরি দিয়ে পথ চলা শুরু করেও আমির তখন দিশাহারা।একের পর এক ছবির না চলা,নিকটতম প্রতিদ্বন্দী সালমান ও বিশেষ করে শাহরুখের চমকপ্রদ উত্থান ও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা,ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড শো ও সবরকম পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া!সবমিলিয়ে একপ্রকার খাদের কিনারে তখন দাঁড়িয়ে নাসির হুসেনের ভাইপো।

আরও পড়ুন: প্রগতির উদ্যোগে চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিক শিল্প: সাক্ষাৎকার

২০০১ সালের “লাগান” ও তার অব্যাবহিত পরেই ফারহান আখতারের “দিল চাহতা হ্যায়” ছবিটা পালটে দিল।নায়ক অন্যরকম চিন্তাভাবনা শুরু করে দিলেন।রিয়ালিস্টিক ও কনটেন্ট নির্ভর হট কে ফিল্মগুলিতে কাজ করা শুরু করলেন তিনি।পাশাপাশি ব্যাক্তিগত জীবনের হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক অথবা বিবাহিত জীবনের টানাপোড়েন দূরে সরিয়ে পূর্ণ উদ্যমে শুরু হল তাঁর ফিল্মি সফর!

তার ফল তো আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে

রঙ দে বাসন্তীর ডিজে
মঙ্গল পান্ডে দ্যা রাইজিং এর বিপ্লবী মঙ্গল পান্ডে
তারে জমিন পর এর নিকুম্ভ স্যার
থ্রি ইডিয়টস এর রাঞ্চো
পিকে’র ভিনগ্রহী
দঙ্গলের মহাবীর সিং ফোগট…

একের পর এক বক্স অফিস সফলতা।প্রথম ১০০ কোটি,প্রথম ২০০ কোটি ও প্রথম ৩০০ কোটি আয় করার শিরোপা লাভ করলেন তিনি।চমকের উপর ভরসা না করে অডিয়েন্স কে ভাল গল্প শোনানোর ওপর জোর দিয়েই আজ এই সাফল্য পেয়েছেন আমির।আমি ব্যাক্তিগতভাবে তাঁর ফ্যান নই,কিন্তু একটি ছবির শুটিং চলাকালীন সেই চরিত্রের প্রতি যে আনুগত্য অথবা সেই চরিত্রের শারীরিক ট্রান্সফর্মেশনের সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়া,এসব আমির ছাড়া আর কারুর কাছে প্রত্যাশাই করা যায় না!

আজকের বলিউডের কন্টেন্ট নির্ভর ছবির প্রচলনের ফাদার ফিগার নিঃসন্দেহে তিনিই।শুভ জন্মদিন আমির খান।আরও আরও অনেক ভাল ভাল গল্প শোনান ও দেখান আমাদের।ফরেস্ট গাম্পের ভারতীয় ভার্সান বানানো নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে,কিন্তু এটা অনস্বীকার্য যে এই ছবির ভারতীয়করণ কেউ যদি করতে পারেন তো সেটা আপনিই!

শুভেচ্ছা রইল…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *