হাথক দরপণ

পৌষালী চক্রবর্তী

তামাখুন সভ্যতার কথা

শোন তামাখুন সভ্যতার মেয়ে,

সেদিন পাহাড় পথে এক নির্জন নাটুয়া
তালবাদ্যে আমাকে শোনাল
অগ্নিবাহক সেই পিতাদের কথা
দাবানল থেকে যারা বশ করেছিল
গৃহস্থ আগুন;

বাক থেকে যারা ছেনেছিল কুহকিনী লিপি
আমি সেই একাকী রাখাল
তোমার গুহায় গিয়ে ফুটিয়েছিলাম
বাইসন শিকারের নাচ

আমাকে সে তালবাদ্যে আরও বলে গেল
অন্ধ প্রপিতামহীর সারল্য সুযোগে
কীভাবে কেড়েছে লিপি ভাষার উল্লাস

তাদের রমণী তুমি হ’য়োনাকো আর
মায়ের ভূমির থেকে আমাকে সরিয়ে
তোমাকে বলবে যারা নদীমাতৃক

আরও পড়ুন: বর্ষা সিরিজ

নির্বাসন

তবুও বলেছ তুমি, পথ নাকি আমার জন্য নয়

সাতহাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দের হাওয়া
আমাকে চিনিয়েছিল বীজের রহস্য
সন্তান পিঠে বেঁধে
আমার হাতেই ছিল নীবার সপ্তক
তোমার অন্নমুগ্ধতা…

কানফুলে কেতকী, বাজুবন্ধে বকুলমালিকা
এ আমার নিজস্ব সাজ ছিল
পৃথিবীর গর্ভপাতে উগরানো ধাতু এনে
তুমি দিলে হাতবালা, গুজরীপঞ্চম
ভ্রূমধ্যে সংকেত ব্যথার…

আমাদের শিশুকে চিনিয়েছি ধ্রুবনক্ষত্র,

শিখিয়েছি ভাষা
সামগানে, বেদমন্ত্রে তবু আমার অনধিকার…

তুমি বলেছ, পথ নাকি আমার জন্য নয়

আসলে,
‘অধীনতা, অধীনতা’
এ শাপবাক্য আমি নিজেকে বলেছি
গুহাবাসে ঢোকবার দিনে

আমি সে দলিত নারী
মেহেরগড়ে মাটি খুঁড়ে যে রেখেছি শস্যবীজ
সিন্ধুলিপি
তামার মুদ্রা
প্রত্নবেদ

আর
বিংশ শতাব্দীর জন্য এই চিঠি
যে প্রথম বলেছি― এ পৃথিবী অর্ধনারীশ্বর

আরও পড়ুন: ত্রাসের‌ ‌কবিতা‌ ‌

আত্মজৈবনিক

আমরা জেগেই আছি আমরণ
তবু এ হাওয়ার রাত ক্ষয়হীন

নভশ্চরের মতো অজন্তা-চোখ
আমার পায়ের থেকে কেড়ে নিল পথ

জরায়ুর দীর্ঘ আলস্য নিয়ে যেসব গুহামানবীরা
চলে গিয়েছিল পূর্বদেশের দিকে
তারা আমার জন্মকালীন নার্সদিদি
এ অন্ধকারে যতদূর চোখ যায়
দেখি, জেগে আছে শুধু গাছ।

ক্ষমা নেই, ক্ষমা নেই
কোনওখানে ক্ষমা নেই
আমার পিতার মতো ক্ষমাহীন এক পাখি
রাত ভোর হওয়ার আগেই
শূন্য বুকের কাছে উড়ে উড়ে চিনিয়ে দিচ্ছে পথ…

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *