‘হাতরাসের ঘটনা বীভৎস’, মন্তব্য শীর্ষ আদালতের

Supreme court

Mysepik Webdesk: পরিবারের হাতে দেহ ফিরিয়ে দিলে এবং হাথরসের নির্যাতিতার দেহ পরদিন সকালে দাহ করা হলে জনরোষ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই কারণেই গভীর রাতে হাথরাসের তরুণীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এদিন উত্তরপ্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টকে একথাই জানানো হয়েছে। পরিবারের হাতে দেহ ফিরিয়ে না দিয়ে গভীর রাতে হাথরসের নির্যাতিতার দেহ দাহ করার বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন একথাই জানানো হয়েছে উত্তরপ্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন: এবার থেকে প্রতিদিন হাওড়া থেকে মুম্বই ও আমদাবাদের ট্রেন ছাড়বে

এদিন উত্তরপ্রদেশ সরকারের হলফনামা তলব করে সুপ্রিমকোর্ট। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়, “এই ঘটনা বীভৎস। এক কথায় অভাবনীয়।” শীর্ষ আদালত জানতে চায়, এই ঘটনায় সাক্ষীদের সুরক্ষার কী ব্যবস্থা রয়েছে? উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থাই বা কী?

শীর্ষ আদালতে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আবেদনকারীদের বলা হয়, হাতরাস কাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সুনিশ্চিত করবে আদালত। এক সপ্তাহ পর এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। তার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকারকে জমা দিতে হবে হলফনামা।

আরও পড়ুন: ফের ধর্ষণকাণ্ড যোগীরাজ্যে! অভিযোগ জানাতে তরুণী পাড়ি দিলেন ৮০০ কিলোমিটার

শুনানির শুরুতেই এদিন উত্তরপ্রদেশ সরকার ১৬ পাতার একটি বিবৃতি জমা দেয়। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সকালে দেহটি দাহ করার সময় বড়োসড়ো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে পারতো। সেই আশঙ্কা এড়াতেই রাতারাতি নির্যাতিতার দেহ দাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাবতীয় ধর্মীয় রীতি মেনে মৃতের শেষকৃত্যের বিষয়ে অভিভাবকদের বোঝানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তাছাড়া মৃত্যু ও ময়নাতদন্তের পর ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় দেহ পড়েছিল’। তবে প্রশাসনের দাবি, দেহ সৎকারের সময় যাবতীয় রীতিনীতি মেনেই সরকার করা হয়েছিল।

এছাড়াও যোগী সরকারের দাবি, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের বাইরে যেভাবে ধরনা চলছিল, তাতে প্রশাসন গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়েছে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক রং চড়ানো হচ্ছিল। পাশাপাশি, হাথরাসের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ইতিমধ্যেই হাথরসের গণধর্ষণ ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের সুপারিশ করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। ওই হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ‘বিষয়টি যেহেতু দেশের নজরে আছে, তাই কেন্দ্রীয় সংস্থার দ্বারা সেটির তদন্ত করা উচিত।’

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *