স্কুলের মহিলা শৌচালয়ে গোপন ক্যামেরা, বেতন না দিয়ে ৫২ শিক্ষিকার ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ

cctv camera

Mysepik Webdesk: কয়েক মাস ধরে বেতন বন্ধ। বেতন চাইতে গেলে উলটে গোপন ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার নাম করে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। এক দু’জন নয়, একসঙ্গে ৫২ জন শিক্ষিকা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ স্কুলের ওয়াশরুমের গোপন ক্যামেরায় বিভিন্ন সময়ে, সকলের অজ্ঞাতে তুলে রাখা সেই ভিডিও-ছবি ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মেরটের এক বেসরকারি স্কুলে।

আরও পড়ুন: ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরছে সিলিং ফ্যান, যুগান্তকারী আবিষ্কার ভারতীয়র

লিখিত অভিযোগপত্রে শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, স্কুল পরিচালন কমিটির সম্পাদক মহিলা শৌচালয়ের ছবি ও ভিডিও নিয়ে দিনের পর দিন তাঁদের ব্ল্যাকমেল করে যাচ্ছেন। বকেয়া বেতন চাইলে উলটে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিগত কয়েক মাস ধরে তাঁরা একটি টাকাও হাতে পাননি, তাঁদের বিনা বেতনে কাজ করানো হচ্ছে। শিক্ষিকাদের এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যৌন হয়রানি (৩৫৪’এ )-সহ আইপিসির ৫০৪ ও ৩৫৪ (সি) ধারায় বুধবার একটি এফআইআর নিয়েছে। মেরটের সদর বাজার থানার পুলিশ অফিসার বিজয় গুপ্তা জানিয়েছেন, একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ফরেন্সিক বিভাগের সাহায্যও নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ১ অক্টোবর থেকে রাজ্যে আরও পাঁচটি স্পেশাল ট্রেন

স্কুলের সম্পাদক তাঁর বিরুদ্ধে আনা ৫২ শিক্ষিকার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিত্তিহীন।’ তিনি জানিয়েছেন, স্কুলে মহিলা ওয়াশরুমের ভিতরে কোনও সিসিটিভি নেই। কিন্তু পুরুষদের শৌচালয়ে সিসিটিভি থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। কারণ হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সম্প্রতি কয়েকটি স্কুলের পুরুষ শৌচালয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছে। সে জন্যে বাধ্য হয়ে পুরুষ শৌচালয়ে তাঁরা সিসিটিভি বসিয়েছেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করলেও বেতন না পাওয়ার কথা মেনে নিয়ে স্কুল পরিচালন কমিটির সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘করোনা মহামারির জেরেই কয়েক মাসের বেতন বকেয়া পড়ে গিয়েছে। এক জনকেও বেতন দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত টাকা এই মুহূর্তে তাঁদের হাতে নেই।’ তবে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে, বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *