প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রোযায় যেভাবে সুস্থ থাকবেন

Ramadan

Mysepik Webdesk: রমযান হল ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়।এই সময় বিশ্বব্যাপী ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষরা রোযা পালন করেন। চলতি বছরে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে রোযা শুরু হয়েছে। এবারে বৈশাখ মাসের প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রোযা হতে যাচ্ছে। এই গরমের একটানা ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা রোযা রাখা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। প্রচণ্ড গরমে এতক্ষণ রোযা থাকার ফলে ডিহাইড্রেশন, মাথা ব্যাথার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে মুসলিমদের জন্য রোযা ফরজ হওয়ায় সকল ধর্মপ্রাণ মানুষ রোযা রাখার চেষ্টা করেন। গরমের মধ্যেও কিভাবে সুস্থ ভাবে রোযা রাখবেন তারই কিছু কৌশল জেনে নিন

আরও পড়ুন: যেভাবে প্রতিদিন কমাবেন এক হাজার ক্যালোরি

১. পর্যাপ্ত ঘুম: শরীর সুস্থ রাখতে ঘুম খুব প্রয়োজন। রোযা রাখার জন্য ভোর রাতে উঠে সেহরি করতে হবে ফলে ঘুমের কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। তাই রোযার মাসে যাতে ঠিকঠাক ঘুম হয় সে দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। রাতের তাড়াতাড়ি খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। কারণ গরমে রোযা রেখে কম ঘুমালে হিট স্ট্রেস দেখা দেয়।

২. সেহরি খাওয়া: রমযান মাসে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষরা শেষ রাতে সেহরি খেয়ে সারাদিন রোযা রাখে। তাই সেহেরি খাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাদিনের কর্মশক্তি যোগায় এই সেহরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নাকি সেহরি না খেলেও হিট স্ট্রেস হতে পারে।

৩. সূর্যের আলোয় কম থাকা: সূর্যের আলো আমাদের শরীর পক্ষে উপকারী হলেও রোযা রেখে রোদের মধ্যে যত কম থাকা যায় ততো ভালো। আর যাদের সূর্যের আলোতে কাজ করতে তাদেরকে অবশ্যই কাজের মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে হবে। তা না হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।

আরও পড়ুন: আসছে গরম, ত্বকের সমস্যা সমাধান করুন এভাবেই

৪. তরল খাবার: সারাদিন উপবাস থাকার ফলে শরীরে জল বা জলজাতীয় খাবারের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই ইফতার করার পর থেকে সেহেরি খাওয়া পর্যন্ত বেশি বেশি করে জল এবং তরল খাবার খেতে হবে।

৫. কোমল পানীয়: রমযান মাসে উপবাস থাকার ফলে শরীরে জলের চাহিদা থাকে। তবে এই সময়ে চা, কফি, কোমল পানীয় পান না করাই ভালো। আর যদিও বা পান করেন তবে তা সেহরির সময়ে পান না করাই ভালো। কারণ চা কিংবা কফি শরীরকে ডিহাইড্রেট করে দেয়।

৬. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার: রোযার সময়ে খাবারের প্রতি বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া দরকার। কারণ সারাদিন রোযা রাখার পর ইফতারে খাবারে গণ্ডগোল হলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। তবে বেশিরভাগ মানুষ ইফতারের পর ভাজাপোড়া খেতে খুব আগ্রহী। তবে প্রতিদিন এমন খাবার খেলে শরীরের নানান রকমের সমস্যা দেখা দেবে। সেই সঙ্গে ওজন ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এজন্য তৈলাক্ত খাবার বাদ দিয়ে ফলমূল, শাকসবজি, প্রোটিন, দুগ্ধজাতীয় খাবার বেশি বেশি করে খেতে হবে।

৭. ধীরে খাওয়া: সারাদিন রোযা রাখার পর একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়া ঠিক নয়। কারণ সারাদিন রোযা রাখার পর ইফতার করার সময়ে এই বিষয়টি বুঝতে মিনিট ২০ সময় লাগে মস্তিষ্কের। ফলে ইফতারে ধীরে সুস্থে খাবার খাওয়ায় শরীরের ফলে স্বাস্থ্যকর হবে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *