Latest News

Popular Posts

শীতে অ্যালার্জি থেকে কিভাবে বাঁচবেন?

শীতে অ্যালার্জি থেকে কিভাবে বাঁচবেন?

Mysepik Webdesk: শীতে যেমন চারপাশের পরিবেশ শুষ্ক হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি ত্বকও তার আর্দ্রতা হারায়। এই সময়ই বাতাসে ধূলিকণার সঙ্গে মিশে থাকা অ্যালার্জেন শ্বাসনালির ভেতর ঢুকে যায় বা ত্বকের ওপর বসে পড়ে। তাই শীতের সময় অ্যালার্জির প্রকোপ বেড়ে যায়। আবার কারও করোও কোল্ড অ্যালার্জিও থাকে। শীতকালে অনেকেই রয়েছেন যাঁরা ঠান্ডা বাতাস, সিগারেটের ধোঁয়া, সুগন্ধি, তীব্র গন্ধ, পুরোনো পত্রিকা বা বইখাতার ধুলা একেবারে সহ্য করতে পারেন না। এগুলি শ্বাসনালিতে ঢুকলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা অ্যাজমা, সর্দি ইত্যাদি দেখা দেয়। প্রচণ্ড শীতও অনেকের জন্য অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। আসুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে এই অ্যালার্জি থেকে নিজেকে সুস্থ রাখবেন।

আরও পড়ুন: শীতকালে স্নান করার সময় এই ভুলগুলি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো

বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখুন: এই সময়ে বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, লেপ, তোশক, ম্যাট, কম্বল, মশারিতে ধুলাযুক্ত জীবাণু বেশি জমে। আমাদের শরীরের ত্বক থেকে প্রতিনিয়ত ঝরে যাওয়া অসংখ্য মৃত কোষ খেয়ে বেঁচে থাকে এই জীবাণু। এরা প্রতিনিয়ত প্রচুর বিষ্ঠা ত্যাগ করে। ঘরদোর, বিছানা যখন ঝাড়ু দেওয়া হয় তখন এই বিষ্ঠাগুলো বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ধুলাযুক্ত জীবাণুর বিষ্ঠাই আমাদের অনেকের শরীরে অ্যালার্জি আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ। বিছানার ধুলাযুক্ত জীবাণু থেকে পরিত্রাণ পেতে বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, লেপের কাভার, মশারি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ঘরের মেঝে জীবাণুমুক্ত রাখুন: ঘরের চারপাশে ঝাড়ু দিয়ে মেঝে জল ও ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করলে অ্যালার্জেন থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। প্রতিদিন সকালে উঠোনে বা ব্যালকনিতে আসা রোদে লেপ, কম্বল, কাঁথা, তোশক ম্যাট্রেস শুকিয়ে নেওয়া উচিত। রোদের অতিবেগুনি রশ্মিতে ধুলাযুক্ত জীবাণু নষ্ট হয়ে। চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট, আলমারি, কাপবোর্ড, কাঠের বিভিন্ন আসবাবপত্রের ফাঁকে ফাঁকে ধুলাবালির জীবাণু থাকে। অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে প্রতিদিন এসব আসবাবপত্র ঝাড়া-মোছা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন তো? না ঘুমালে কিন্তু বিপদ!

ছত্রাক জমতে দেবেন না: ঘরের স্যাঁতসেঁতে অংশ যেমন বাথরুম, স্টোররুম, বেসমেন্ট ইত্যাদি স্থানে ছত্রাক বা ছাতা পড়ে। বায়ুবাহিত ছত্রাকের কারণে অ্যাজমা বা হাঁপানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাথার খুশকির অন্যতম কারণ হলো এই ছত্রাক, আর খুশকি থেকেও অ্যালার্জি হয়। ফলে, বাড়ি ছত্রাকমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাই বাড়িতে জল না জমে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোনও স্থানে ছত্রাক জন্মালে জল ও ডিটারজেন্ট দিয়ে তা পরিষ্কার করে স্থানটি ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

কার্পেট-ম্যাট পরিষ্কার রাখুন: ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে এবং শীতের সময় ঘর উষ্ণ রাখতে অনেকেই মেঝেতে নামীদামি কার্পেট ও ম্যাট বিছিয়ে রাখেন। কিন্তু এই কার্পেট ও ম্যাটে প্রতিদিন প্রচুর ধুলাবালু ও ময়লা জমে। এই ময়লা থেকে জন্ম নেওয়া ডাস্ট মাইট বিশেষ শিশুদের শরীরে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। ধুলা এড়াতে প্রায় প্রতিদিনই ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার। যদি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার হাতের কাছে না থাকে তাহলে ছাদে নিয়ে ম্যাট ও কার্পেট ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। পরিষ্কার করা ম্যাট ও কার্পেট মেঝেতে বিছানোর আগে মেঝে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

আরও পড়ুন: সাধারণ ঠান্ডা লাগা না ওমিক্রন, কিভাবে বুঝবেন?

দরজা-জানালার পর্দা পরিষ্কার রাখুন: বাড়িতে দরজা-জানালায় প্রতিদিন প্রচুর ময়লা জমে। সেই সঙ্গে দরজা, জানালার পর্দার ভাঁজে ভাঁজে জমা হতে থাকে ধুলাযুক্ত জীবাণু। পর্দা নাড়াচাড়া করার পর সেই ধুলো নাকে-মুখে প্রবেশ করে মানুষের মধ্যে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। প্রায় প্রতিদিন দরজা-জানালা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এক সপ্তাহ পরপর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে মোটা কাপড়ে তৈরি পর্দা মাঝেমধ্যে ধুয়ে নেওয়া দরকার এবং প্রতিদিন ঝেড়ে নেওয়া প্রয়োজন।

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *