দুই বিদেশি নিয়ে হাবাস ব্রিগেডকে রুখে দিল হায়দরাবাদ

সায়ন ঘোষ

সেই ভুলে ভরা অজস্র মিস পাস, অহেতুক ফাউল করা আজকেও তিন পয়েন্ট পেতে দিল না। আগের ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ হাবাস ৪-৪-২ ছকে শুরু করেন। গোলে অরিন্দম। রক্ষণে প্রীতম, সন্দেশ, ম্যাক হিউ, সুমিত রাঠি। মাঝমাঠে প্রবীর, গ্লেন মার্টিনেজ, এডু গার্সিয়া, ব্রাড ইমাম। আপফ্রন্টে মনবির সিং ও রয় কৃষ্ণা। অন্যদিকে, ম্যানুয়েল রোকা ৪-২-৩-১ এ দল সাজান। গোলে বর্ষীয়ান সুব্রত পাল। রক্ষণে চিঙ্গেলসানা, আকাশ মিশ্র, ওডেই, আশিস রাই। ডাবল ডিফেন্সিভ হাফে শৌভিক চক্রবর্তী ও ব্রুনো। দুই উইংয়ে হোলিচরণ ও নিখিল পূজারি। আপফ্রন্টে লিস্টন কোলাসোকে রেখে একটু পিছনে রাখেন হিতেশ শর্মাকে।

আরও পড়ুন: মত বদল লিয়েন্ডারের, নেবেন টোকিও অলিম্পিকে অংশ

এ-দিন ম্যাচের শুরুতেই ৮ মিনিটে মনবীরের ক্রস থেকে রয় কৃষ্ণার হেড দারুণভাবে সেভ করেন সুব্রত পাল। ২৭ মিনিটে প্রবীর দাসের ফ্লিক ও দারুণভাবে বাঁচান সুব্রত। এ-দিন সুব্রত পাল বারংবার বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন কেন তাঁকে ‘এশিয়ান স্পাইডার’ ম্যান বলা হয়। একদা সবুজ মেরুনের দুর্গ প্রহরী এ-দিন একাই মোহনবাগানের তিন পয়েন্ট পাবার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। ৩৩ মিনিটে এডুর হেড আবার সেভ করেন সুব্রত। মাঝমাঠে দাপিয়ে বেড়ালো হায়দরাবাদ। মোহনবাগানের আরও দুই প্রাক্তনী শৌভিক চক্রবর্তী ও নিখিল পূজারির নেতৃত্বে হায়দরাবাদ দুর্দান্ত খেলল। অন্যদিকে, গ্লেন মার্টিনেজ সারা ম্যাচে সুপার ফ্লপ। অহেতুক মিস পাস করে মাঝমাঠের খেলাটাই হায়দরাবাদের হাতে তুলে দেন। ব্রাড ইমামও ছিলেন অফ ফর্মে। ৪৪ মিনিটে একবার বক্সে ঢুকে পড়া ছাড়া সেভাবে তাঁকে দেখাই গেল না। তবে মোহনবাগানকে লড়াইয়ে রাখেন মনবীর সিং। লেফট উইং দিয়ে বারংবার বিপজ্জনক হলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ট্রান্সজেন্ডার মহিলাদের নিয়ে ব্রিটিশ জার্নালের গবেষণা সবাইকে চমকে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি করতে পারে নিয়ম পরিবর্তন

দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই হাবাস ডেভিড উইলিয়ামসকে নামান। ডেভিড উইলিয়ামস নামতেই খোলস ছেড়ে বার হয় মোহনবাগান। ৪৫ মিনিটে ডেভিডের একটা ভলি মিস হয়। ৫০ মিনিটে শৌভিক চক্রবর্তী দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন। ৫২ মিনিটে পাল্টা প্রবীরের শট ও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৫৪ মিনিটে সুব্রত পালের মিস পাস ধরে সোলো রানে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে সুব্রত পালের মাথার উপর দিয়ে লব করে চমৎকার গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন মনবীর সিং। কিন্তু ৬৩ মিনিটে এডুকে তুলে প্রণয়কে নামাতেই মাঝমাঠ থেকে চাপ কমে যায় হায়দরাবাদের। এই সময় লিস্টন কোলাসো, আশিস রাইরা বারংবার বিপজ্জনক হলেন। 

আরও পড়ুন: ব্যাডমিন্টন কোচ পুল্লেলা গোপীচাঁদ ‘স্মার্ট রিং’ চালু করেছেন, খেলোয়াড়দের জেতার মানসিকতা বাড়াতে সাহায্য করবে

৬৫ মিনিটে মনবীরের ভুলে পেনাল্টি পায় হায়দরাবাদ। পেনাল্টি থেকে আজকের বার্থডে বয় অরিন্দমকে হার মানান ব্রুনো। এই একটি ক্ষেত্র ছাড়া অরিন্দমকে পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। সন্দেশ ঝিংগানের নেতৃত্বে মোহনবাগান রক্ষণ ভালোই সামলালো হায়দরাবাদকে। লিস্টন কোলাসো মোহনবাগান রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হবার পর বারংবার দূরপাল্লার শটে গোলের মুখ খোলার চেষ্টা করেন। এ দিন তিনিই ম্যাচের সেরা হন। সারাক্ষণ সন্দেশ প্রীতমকে বিব্রত করে গেলেন তিনি। অন্যদিকে, দুর্দান্ত গোল করেও এ-দিন ট্র্যাজিক হিরো মনবীর। তাঁর ভুলেই গোল শোধ করেন ব্রুনো। তবে ভুল শোধরানোর জন্য শেষের দিকে বেশ কয়েকবার হায়দরাবাদ দুর্গে হানা দেন তিনি।

আরও পড়ুন: গোলের খাতা না খুললেও পয়েন্টের খাতা খুলল ইস্টবেঙ্গল

এ-দিন ন’জন ভারতীয় নিয়ে যেভাবে হায়দরাবাবাদ মোহনবাগানের কাছ থেকে পয়েন্ট নিয়ে গেল তা প্রশংসার যোগ্য। শেষের দিকে ৮১ মিনিটে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন লিস্টন কোলাসো। তবে আজকের ম্যাচের পর হাবাসের রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। লিড পাবার কেন উনি আচমকা ডিফেন্সিভ হয়ে গেলেন, তা উনিই জানেন। গ্লেন মার্টিনেজ সারাম্যাচে খেলতে পারলেন না। তারপরেও সাহিলকে নামালেন না। আগের ম্যাচে সাহিল নামতেই ম্যাচে ফেরে এটিকে মোহনবাগান। এ-দিন তিনি শেষের দিকে মাইকেল রেগিনকে নামালেও গোল তুলতে পারেননি। রয় কৃষ্ণা ও মাঝমাঠ থেকে বল না পেয়ে গোলের মুখ খুলতেই পারলেন না। মাঝমাঠে একজন বল ধরে খেলার লোকের অভাব সুস্পষ্ট। তবে আগামী ম্যাচে এই ভুলগুলি তাড়াতাড়ি শুধরে নেবার চেষ্টা করবেন হাবাস, তা বলাই বাহুল্য।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *