ঐতিহ্যের শহর বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে এল আই লিগ ট্রফি

শুভঙ্কর বিশ্বাস

মনসামঙ্গল কাব্যে বর্ণিত চাঁদ সওদাগরের রাজধানী ‘সপ্তগ্রাম’-এর পার্শ্ববর্তী ছোট জনপদ হল বাঁশবেড়িয়া। বাঁশবেড়িয়া শহরকে মূলত মানুষ চেনেন হংসেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত‍্যস্থান হিসেবে। রায়বংশের জমিদারবাবু নৃসিংহদেব রায় মহাশয় কর্তৃক নির্মিত হংসেশ্বরী মন্দিরের জন্য বাঁশবেড়িয়া শহরের নাম লোকমুখে প্রসিদ্ধ।

আরও পড়ুন: নৃসিংহবন্দিতা দেবী বংশবাটী-বিলাসিনী

পশ্চিমবাংলার আর পাঁচটা জায়গার মতোই বাঁশবেড়িয়াতেও গঙ্গাপাড়ের বিখ্যাত ‘জাতীয় ক্লাব’ মোহনবাগান নিয়ে উৎসাহ প্রথমলগ্ন থেকেই চোখে পড়ার মতো। সেই ধারাকে অক্ষুণ্ন রেখেছে নবপ্রজন্মের মোহনবাগান সমর্থকদের নিয়ে ২০১৭ সালে গঠিত হওয়া, ‘বাঁশবেড়িয়া মেরিনার্স’। কয়েকজন বন্ধুর আড্ডার মাধ‍্যমে হোয়াটসঅ্যাপে তৈরি হওয়া একটি গ্রুপ থেকে বাঁশবেড়িয়া মেরিনার্স আজ একটি পুরোদস্তুর ফ‍্যান ক্লাবের জায়গা করে নিতে পেরেছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতার পরে প্রথম ডার্বি

দীপাবলি আর বাঁশবেড়িয়ার বিখ্যাত কার্তিক পূজার পুণ‍্যলগ্নে বাঁশবেড়িয়া মেরিনার্স এলাকাবাসীকে তাদের জীবনের অন্যতম উপহারটা দিয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর বাঁশবেড়িয়া মেরিনার্সের উদ‍্যোগে শহরের ঐতিহ্যমণ্ডিত হংসেশ্বরী মন্দিরের আঙিনায় প্রথমবারের জন্য মোহনবাগানের পঞ্চমবারের ভারতসেরা হওয়ার সাক্ষীস্বরূপ আই লিগ ট্রফি এসেছিল। এই উপলক্ষে গত ১৪ নভেম্বর অর্থাৎ কালীপূজার দিন থেকেই হংসেশ্বরী মন্দিরের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণ বাঁশবেড়িয়া মেরিনার্সের উদ‍্যোগে প্রথমবারের জন্য সবুজ মেরুন আলোয় আলোকিত ছিল।

আরও পড়ুন: গোষ্ঠ পালের ইন্টারভিউ: স্মৃতিমেদুর রূপক সাহা

হুগলি জেলার বিভিন্ন জায়গায় পরিক্রমা করার পর, রাত ৮টা নাগাদ বাঁশবেড়িয়ায় আই লিগ ট্রফি ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সমবেত মোহনজনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। শহর কলকাতা থেকে দূরে জেলার মফঃস্বল অঞ্চলে মোহনজনতার এই আবেগ দেখে মোহনবাগান ক্লাবের অ্যাথলেটিক সেক্রেটারি দেবাশিস মিত্র সহ উপস্থিত অন্যান্য ক্লাবকর্তাও আপ্লুত হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: ১৫ আগস্ট: মোহনবাগানের অন্য ধারার ‘ঘরের ছেলে’ পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি এবং শতবর্ষে বাঙালির প্রথম অলিম্পিকে অংশগ্রহণ

আগামী মরশুমে আইএসএলে দলের সাফল্য কামনা করে ক্লাবকর্তারা মা হংসেশ্বরীর পূজা দেন। আইএসএলে দল জিতলে আইএসএল ট্রফিও বাঁশবেড়িয়ার মোহনজনতার জন্য নিয়ে আসার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে ক্লাবকর্তারা বাঁশবেড়িয়া থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

আরও পড়ুন: অঞ্জন মিত্র: ধূসর হতে চলা পাতা ঝেড়ে-ঝুড়ে

Facebook Twitter Email Whatsapp

4 comments

  • তথ্যসমৃদ্ধ একটি চমৎকার প্রতিবেদন –পড়ে কেবল ভালো লাগার অনুভূতি ই নয় , জানতে পারলাম ও অনেক কিছু ।

  • Suprovat Kundu

    Very good. Keep it up. Thank you for selecting my video and photos

  • Subhankar Biswas

    জয় মা হংসেশ্বরী
    জয় মা মোহনবাগান ♥️♥️♥️
    জয় বাঁশবেড়িয়া মেরিনার্স ♥️♥️♥️
    * mysepik.com কে অনেক অনেক ধন্যবাদ আর সবুজ মেরুণ ভালোবাসা জানাই, আমাদের প্রতিটা কর্মসূচিতে পাসে থাকার জন্য……

  • Nice article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *