‘মনে হল দ্বিতীয়বার পা হারিয়েছি’: কৃষকদের সমর্থনে পদক ফিরিয়ে বললেন প্যারা অ্যাথলেট মুকেশ কুমার

Mysepik Webdesk: কৃষকদের সমর্থনে দেশের অনেক খেলোয়াড়ই সরকারকে তাঁদের পদক ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই তালিকায় চণ্ডীগড়ের প্যারা অ্যাথলেট মুকেশ কুমারও যোগ দিলেন। একটি বাচ্চার জীবন বাঁচাতে গিয়ে পা হারিয়েছিলেন এই অ্যাথলেট। এর পরে ২০০৪ সালে মুকেশকে জীবনরক্ষা পদকে ভূষিত করা হয়। তবে এখন তিনি পদক ও পুরস্কারের টাকা সরকারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: কুস্তি বিশ্বকাপে রুপোর পদক জিতলেন ভারতের অংশু মালিক

২০০৩ সালের ১৪ মার্চ, আন্তঃকলেজ টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন মুকেশ কুমার। তাঁরা তখন ভিওয়ানি রেলস্টেশনে। সেখানে এক মহিলা তাঁর বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে এলেন। এরপর বাচ্চাটিকে রেখে তার লাগেজ নিতে বেরিয়ে গেলেন। বাচ্চাটি খেলতে খেলতে ট্র্যাকের ওপর চলে গিয়েছিল। সেইসময় একটি ট্রেনও চলে এসেছিল। মুকেশ বলেন, ‘‘আমি কিছু ভাবিনি তখন। কেবল মেয়েটিকে বাঁচাতে লাফিয়ে উঠলাম। ট্রেনটি কাছে ছিল। আমি মেয়েটিকে উদ্ধার করলাম, তবে নিজেকে বাঁচাতে পারলাম না। যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম কোনও পা নেই। লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। মনে হয়েছিল জীবন শেষ।”

আরও পড়ুন: হকি জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের উপর বায়োপিক মুক্তি পাবে ২০২২ সালে

মুকেশ আরও বলেন, ‘‘২০১৪ সালে আমাকে জীবন রক্ষা পদক দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে তলব করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি আবদুল কালাম আজাদ আমাকে সম্মান জানিয়ে তাঁর সচিবকে আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ‘আপনার কাছে সময় থাকলে রাষ্ট্রপতি আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।’ বলেছিলাম যে, ‘আমি অসহায়, আমার হাতে সময় আছে। পরের দিন রাষ্ট্রপতি নিজেই আমার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ‘আপনি নতুন জীবন শুরু করুন। এই জীবন রক্ষার পদকটি আমার কাছে অনেক মূল্যবান। আজ আমি এটি কৃষকদের সমর্থনে ফিরিয়েছি, তাই আমি এর ব্যথা বুঝতে পারি। আমি আমার পা হারানোর পরে এটি অর্জন করেছি।”

আরও পড়ুন: মেসি-রোনাল্ডোদের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার জিতলেন রবার্ট লেভানদোস্কি

তিনি বলেছেন, ‘‘সেই সময় বাচ্চাটিকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার পক্ষে কঠিন ছিল না। কারণ সেই সময় আমি কেবল বাচ্চাটিকেই দেখছিলাম। এবং আজ কৃষকদের দেখছি। পদকটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় মনে হয়েছিল আমি দ্বিতীয়বারের মতো পা হারিয়েছি। এই পদক ফিরিয়ে আমি আজ নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছি। সারাদিন কৃষকদের মধ্যে থেকে আমি নিজেকে প্রতিহত করতে পারিনি। আমি কখনও সীমান্তে যাইনি, তবে পরিস্থিতি সীমান্তের চেয়ে কম ছিল না। একদিকে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, কৃষকরা প্রবল শীতের মুখে লড়াই করছেন। আমি একজন অ্যাথলিট এবং একজন ভারতীয় হিসাবে সরকারের কাছে সমস্যা সমাধান করার জন্য দাবি জানাচ্ছি। আমরা সবাই ভারতীয় এবং পরিবারের মতো।”

Similar Posts:

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *