বাংলাভাষার অধিকার খর্ব করার চক্রান্ত হলে আরও একবার বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বরাকের বাঙালিরা

Bangla

Mysepik Webdesk: অসমের বরাকে বাংলাভাষা সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছে বহু রক্তের বিনিময়ে। তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে বরাকবাসী খুবই সংবেদনশীল। প্রয়োজনে আরও এক ভাষা আন্দোলনের পথে এগোবেন তাঁরা। উল্লেখ্য যে, অসমিয়া ভাষা শিক্ষা প্রসঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের অধ্যক্ষ দয়ানন্দ বরগোঁহাই একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তাতে অসমিয়া ভাষা শিক্ষা আইন, বহুভাষিক অসমকে একভাষী রাজ্যে পরিণত করবার নীল নকশা সাজিয়ে দিয়েছে। যা বরাক উপত্যকার মানুষকে আশঙ্কিত করে তুলছে।

আরও পড়ুন: ১ মে থেকে ১৮ বছরের ওপরে সবার জন্য ভ্যাকসিন, জানুন কীভাবে নাম নথিভুক্ত করবেন

দয়ানন্দ বরগোঁহাই

দয়ানন্দ বরগোঁহাইয়ের বক্তব্য ছিল, অসমে থাকতে গেলে শিখতেই হবে অসমিয়া ভাষা। নয়তো অসম ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাঁর এহেন বক্তব্যকে জেরে অনেকেই বলছেন স্বৈরাচারী। দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (আইপিটিএ)-এর কাছাড় জেলা কমিটি। বরগোঁহাইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিও জানানো হয়। অন্যদিকে, সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি সতু রায় ও উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বরগোঁহাইয়ের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের অধ্যক্ষকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন কমলাক্ষ। বরগোঁহাইয়ের মন্তব্যের জেরে আগামী ২৬ এপ্রিল বরাক বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। যাকে সমর্থনবিধায়ক জানিয়েছেন কমলাক্ষ।

আরও পড়ুন: করোনায় প্রয়াত সীতারাম ইয়েচুরির পুত্র

কমলাক্ষ দে

এদিকে জেলা কংগ্রেস সভাপতি সতু রায় বলেছেন, অসমকে ভাষার নামে অশান্ত করার চক্রান্ত চলছে। যা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অসম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে রাজ্যপাল আকবর হায়দরি যে মন্তব্য করেছিলেন, এরই বিস্তার ঘটেছে পরবর্তীতে। বরগোঁহাইয়ের মন্তব্য তারই ধারাবাহিকতা। উল্লেখ্য যে, বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা বাংলা। এটা জানা সত্ত্বেও তিনি এহেন মন্তব্য করেছেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি আরও জানিয়েছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে দু’টি জনগণনায় অসমিয়াদের সংখ্যাধিক্য দেখানোর প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে। এরপর বাঙালিদের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে যায় উগ্র অসমিয়া জাতীয়তাবাদী শক্তি। ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলনে শহিদ হন অসংখ্য বাঙালি। ব্রহ্মপুত্রের জল বাঙালির রক্তে লাল হয়ে যায়।

সতু রায়ের কথায়, বরাকের বাঙালি বিভাজন চান না। বাংলাভাষার মর্যাদা রক্ষার বিধিসম্মত অধিকার চান তাঁরা। কিন্তু সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য কোনও রূপ চক্রান্ত হলে তা প্রতিরোধ করতে আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত বরাকের জনগণ। কেবল তাই নয়, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ১৯ মে বাংলাভাষা শহিদ দিবসের পুণ্য তিথিতে পরীক্ষার সূচি রেখেছিলেন, অনেকটা সময় পর্যন্ত তারও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি নানান মহল থেকে বিভিন্ন দাবি ওঠার পরেও। এ নিয়েও প্রতিবাদ জানানো হয়।

যদিও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে আসামের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ ঐতিহাসিক ১৯ মে মাতৃভাষা শহিদ দিবসের দিন পূর্ব ঘোষিত পরীক্ষা বাতিল করেছে। তবে ওইদিন মাধ্যমিকের পরীক্ষা বাতিলের এখনও কোনও আদেশ আসেনি বলে জানা গিয়েছে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

One comment

  • শুভঙ্কর বিশ্বাস

    পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার আর সিংহভাগ অধিবাসীরাও, নিজেদের মাতৃভাষার গরিমা নিয়ে বড়ই উদাসীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *