শ্মশানে জমছে লাশের পাহাড়, মহারাষ্ট্রে মৃতদেহ দাহ করতে পরিবারকে ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে

corona deadbody

Mysepik Webdesk: মহারাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ছবি দেখলে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। সেইসঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যাও। এই মুহূর্তে গোটা দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। গত মঙ্গলবারই মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৪০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫১৫ জনের। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে মৃতদেহ দাহ করতে গিয়ে মৃতের পরিবারকে লাইনে প্রায় ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শ্মশানের মৃতদেহের স্তুপ দেখে রীতিমতো আতংকিত হয়ে পড়ছেন শ্মশানযাত্রীরা।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের আসল ছবি তুলে ধরল ভারত

আচমকা মহারাষ্ট্রে বেড়ে গিয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা। এর ফলে রাজ্যের শ্মশানগুলিতে বাড়ছে মৃতদেহের ভিড়। অনেকেই আবার মৃতদেহ দাহ করানোর জন্য এক শ্মশান থেকে অন্য শ্মশানে ঘুরছেন সময় বাঁচানোর জন্য। প্রত্যেকটি জায়গাতেই দিতে হচ্ছে লম্বা লাইন। একেকটি দেহ দাহ করতে সময় লাগছে প্রায় দু’ঘন্টা। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে মৃতের পরিবারের দাবিতে একইসঙ্গে চার-পাঁচটি দেহ পোড়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে শ্মশানগুলিতে।

এদিকে বাড়ছে মৃতদেহ বহনকারী গাড়ির চাহিদাও। শ্মশানে দেহ রাখার কোনও ব্যবস্থা নেই বলে একেকটি মৃতদেহ বহনকারী গাড়ি প্রায় ১০-১২ ঘন্টা ধরে শ্মশানের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে পুনের এমএনএস কর্পোরেশনের প্রাক্তন কর্মী বসন্ত মোরের শ্বশুর প্রয়াত হয়েছেন। তাঁকেও গত সপ্তাহে শ্মশানে গিয়ে প্রায় ৭ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তাঁর কথায় “আমার ঘটনাটা একেবারেই ব্যতিক্রম নয়। পুনের প্রাক্তন মেয়র দত্ত একবোতের দেহ অ্যাম্বুল্যান্সেই প্রায় ১০ ঘণ্টা শোয়ানো ছিল। যেতেহু শ্মশানে দেহ রাখারও কোনও জায়গা ছিল না।”

আরও পড়ুন: রাজস্থানের চম্বল নদীতে ভয়াবহ নৌকাডুবি, মৃত্যু অন্তত ১৪ জনের

গোটা মহারাষ্ট্র রাজ্যের মধ্যে মুম্বই, পুনে এবং থানেতে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ৮১০৯, মুম্বইতে ৪৭৫৪ পুনেতে ৪১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে। এছাড়াও নাসিক, জলগাঁও এবং নাগপুরেও হাজারের বেশি প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে। এদিকে শ্মশান গুলিতে জায়গা নেই দেহ সৎকারের। সাসুন জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৪০-৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে এগোচ্ছে। একটা ভাইরাসের জন্য ২০২০ সালে গোটা বিশ্ব যে এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হবে, তা বোধহয় কেউই ভাবতে পারেননি।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *