সুখের সন্ধানে

রাহুল দাশগুপ্ত

― তাহলে সুখ কাকে বলে? এ এমন এক অসুস্থ সময়, যখন সবাই সুখী হতে চায়। সুখকে পেতে চায় হাতের মুঠোয়। আর তার জন্য প্রয়োজনে ইঁদুর-দৌড়েও নামে! একে অপরের প্রতিযোগী হয়ে ওঠে, পরস্পরকে ঈর্ষা করে, কাউকে একটু বেশি সুখী মনে হলে সহ্য করতে পারে না। কিন্তু সুখ কাকে বলে, বন্ধু?

― সুখ বলে কিছু নেই, শুধু আছে সুখের আকাঙ্ক্ষা, ঠিক যেভাবে খলিল জিব্রান বলেছিলেন। হ্যাঁ, আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে তাড়িত করে, আর সেই তাড়নায় নিজেকে সে সুখী ভাবে, কিন্তু যখন তাকে পেয়ে যায়, তখনই সে ক্লান্তি বোধ করতে শুরু করে। নিঃসঙ্গতার মুহূর্তে যে সুখকে তুমি একান্তভাবে চেয়েছিলে, হৃদয়ের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, সেখানে সে নেই, শুধু একটি দর্পণ রাখা আছে, যেখানে তার প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

আরও পড়ুন: হারু হরবোলা

খলিল জিব্রান

― সুখ বলে কিছু নেই, শুধু আছে সুখের আকাঙ্ক্ষা!
― লেভ তলস্তয়ের সুখ নিয়েই একটি নভেলেট আছে। দি ফ্যামিলি হ্যাপিনেস। সতেরো বছরের মাশা প্রেমে পড়ল চল্লিশোর্ধ সের্গেইয়ের। গ্রামের নিস্তরঙ্গ অথচ আন্তরিক পরিবেশে নিজেকে তার মনে হল সুখী। তাদের বিয়ে হয়ে গেল, আর সেই বিয়ে তাদের জীবনে একঘেয়েমি ছাড়া আর কিছুই নিয়ে এল না। মাশা ব্যস্ত হয়ে উঠল, এক আলাদা রকমের সুখের জন্য, যে সুখে নিরাপত্তা আর নির্দিষ্টতা থাকবে না, বরং থাকবে ঝুঁকি আর বিপন্নতা। সের্গেইয়ের সঙ্গে সে শহরে গেল, সেখানে অভিজাত সমাজে তার মেলামেশা হল, আর সে পেল এক ভিন্ন রকমের সুখের আস্বাদ। এক নতুন প্রেমিকও জুটে গেল তার, ফলে ঝুঁকিও এল। কিন্তু এই সুখও মাশাকে স্বস্তি দিতে পারল না, ফলে আবারও সে চাইল আলাদা রকমের সুখ, যা সে পেল মাতৃত্বের মধ্যে। মাশা যেন তার জীবন দিয়ে বুঝতে পারে ‘আন্না কারেনিনা’র সেই প্রসিদ্ধ প্রথম লাইনটিকে, “সুখী সমস্ত পরিবার একে অন্যের মতন, অসুখী প্রতিটি পরিবার নিজের নিজের ধরনে অসুখী।” এভাবেই সুখের আকাঙ্ক্ষার রূপান্তর চলতে থাকে, একটি আকাঙ্ক্ষার প্রাপ্তি অন্য এক আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়, আর এই ধারাবাহিকতার মধ্যে দিয়েই বয়ে যেতে থাকে জীবন, সুখ সম্পর্কে এক অনিশ্চয়তা নিয়েই…

আরও পড়ুন: খতরে মে হ্যায়…

― সুখ নয়, সুখের অনিশ্চয়তা….
― বন্ধু, সুখের মতো প্রতারক আর কেই-বা আছে! ‘দি হ্যাপি ফেলো’ বলে আন্তন চেকভের একটি গল্প আছে। একটি ট্রেনের কামরায় পাঁচজন যাত্রী। হঠাৎ সেখানে এক আগন্তুকের প্রবেশ। নিজেকে সে একজন সুখী মানুষ বলে মুক্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে দিল। বাকিরা তো একেবারে চমকৃত! কারণ, একটি সুখী মানুষকে দেখতে পাওয়া বেশ আশ্চর্য ঘটনা! বরং একটা শ্বেত হস্তির দেখা পাওয়া সহজ। লোকটি সদম্ভে জানাল, আপনি যদি সুখী না হন, সেটা তো আপনারই দোষ! হ্যাঁ, মানুষ নিজেই তার সুখের স্রষ্টা। আপনি চাইলেই সুখী হতে পারেন, কিন্তু আপনি জেদ করে সুখের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকেন। একটু পরেই অবশ্য জানা গেল, লোকটি ভুল ট্রেনে উঠে পড়েছে এবং ফেলে এসেছে তার সদ্য বিয়ে করা বউকে! সুখ যে কত বড় প্রতারক, লোকটি নিমেষে বুঝে যায়…
― সুখ এক মস্ত বড় প্রতারক…

আরও পড়ুন: এক আলোর পৃথিবী

আন্তন চেকভ

― সেরভানতেসের মহান নায়ক দন কিহােতে! প্রথম অভিযানে বেরিয়ে তাঁর মনে হয়েছিল, ‘‘ওঃ, কি সুখের সময়, ওঃ সৌভাগ্যের দিন!’’ সুখ ও সৌভাগ্য যে কত বড় প্রতারক, তা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি তাঁর। আর ‘হ্যাপি প্রিন্স’, অস্কার ওয়াইল্ডের? সবাই তাকে সুখী রাজকুমার বলে ডাকত, কারণ রাজপ্রাসাদে যে উচু পাঁচিলের ভেতর তিনি সুরক্ষিত জীবন কাটাতেন, সেখানে সুখ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এই সুখ ছিল প্রতাপ, নিরাপত্তা, প্রাচুর্য আর সৌন্দর্যের যোগফল। কিন্তু মোহমুক্তি ঘটল রাজকুমার স্ট্যাচু হয়ে যাওয়ার পর। উঁচু বেদির ওপর থেকে তিনি দেখতে পেলেন, শহরের যাবতীয় কদর্যতা, গ্লানি আর দুঃখ। এই কারণেই ফরাসি নীতিবাদী ও দার্শনিক লা রোশফুকো বলেছিলেন, সুখ ও দুঃখ সাধারণত যার যেটা বেশি আছে তার কাছেই যায়। সুখী রাজকুমারও যেদিন থেকে দুঃখী হতে শুরু করেন, দুঃখও তার দিকে ধেয়ে যায় ও তার ধ্বংসের কারণ হয়।

আরও পড়ুন: শ্রমিকের সামান্য ‘পান্তা ভাতে’ একটু লবণের ব্যবস্থার হোক

― সুখ ও দুঃখ, যার যেটা বেশি আছে…। মনে রেখো, এই সেই লা রোশফুকো, যিনি বলেছিলেন, “অনেক গুণী লোক অত্যন্ত অপ্রিয় হতে পারে, যেমন অনেক খারাপ লোক প্রিয় হয়। ভিকতর উগো যার প্রতিধ্বনি করে লিখেছিলেন, “চতুর লোকেরা নানা উপায়ে সাধারণ লোকদের মন জয় করে, তাদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠে। এই প্রিয় হওয়া, আস্থাভাজন হওয়া মানে কী সুখী হওয়া?
― এই প্রিয় হওয়া, আস্থাভাজন হওয়া মানে…
― লা রোশফুকোই অন্যত্র বলেছেন, “যে লোকটি কাউকে খুশি করতে পারে না, সেই লোকটির চেয়ে যে লোকটিকে কেউই খুশি করতে পারে না সে অনেক বেশি অসুখী। সুখ-অসুখের ধারণা এক জটিল গোলকধাঁধা…
― এক জটিল গোলকধাঁধা এইসব ধারণা, সুখ-অসুখের…

আরও পড়ুন: ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিত ও বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা

― বিশেষ করে, প্রেমের ক্ষেত্রে তো বটেই। ফিওদর দস্তয়েভস্কির একটি উপন্যাস, ‘দি ইনসালটেড অ্যান্ড হিউমিলিয়েটেড’। সেই উপন্যাসে নেল্লি ভালোবাসে ভানিয়াকে, ভানিয়া ভালোবাসে নাতাশাকে, নাতাশা ভালোবাসে আলিওশাকে, আবার আলিশা ভালোবাসে কাতিয়াকে। যে যাকে ভালোবাসে, তাকে পায় না, তাই অসুখী। অথচ খাপে খাপে যদি মিশে যেত, যে যাকে ভালোবাসে তাকে যদি পেত, তাহলে ওরা সবাই সুখী হতে পারত! গোটা উপন্যাসে সুখের সম্ভাবনাই শুধু তৈরি হয়ে গেছে, সুখের কাছে পৌঁছনো যায়নি।

আরও পড়ুন: প্রসঙ্গ: সত্যজিৎ রায়ের দু’টি সিনেমা

একই ব্যাপার ঘটে মার্গারেট মিচেলের ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ উপন্যাসেও। পুরুষের কাছে যার আবেদন অপ্রতিরোধ্য, সেই স্কারলেট ও’হারা সারা জীবন যাকে মনে মনে চেয়ে এসেছে, উপন্যাসের শেষে গিয়ে সে বোঝে, সেই অ্যাশলে উইলকিস ওর কাছে নেহাত একটা ধারণামাত্র, সেই ধারণার প্রতিই আসলে ও মোহমুগ্ধ, আসল মানুষটাকে কোনোদিনই সে ভালোবাসতে পারত না। আর যাকে সে সত্যিই ভালোবাসতে পারত, সেই রেট বাটলারকে কোনোদিনই সে ভালোবেসে উঠতে পারেনি, কারণ তাকে তাড়িত করে গেছে এক বিমূর্ত ধারণা। এইভাবে যে সুখী হতে পারত, তার জীবনে শুধু সুখের সম্ভাবনাই তৈরি হয়ে গেছে, সুখ কখনও তার আয়ত্তে এসে পৌঁছল না…
― সুখ নয়, তৈরি হয় সুখের সম্ভাবনা…

আরও পড়ুন: করোনাকালের ডায়রি ১


― নিকোস কাজানথজাকিস এক আশ্চর্য চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন। সেই লোকটির নাম ছিল, আলেক্সি জোরবা। এই লোকটি জানত, সুখের মতো প্রতারককেও কীভাবে বাগে আনতে হয়! জোরবা জানত, যে হৃদয় স্বাধীন, সেই হৃদয়ই একমাত্র সুখী হতে পারে! আমরা সুখ চাই, কিন্তু স্বাধীন হতে গেলেই আমাদের সবার সুতোয় টান পড়ে।
সেই টানটিকে অস্বীকার করতে হলে জীবনে ঝুঁকি নিতে হবে। জোরবার ভাষায়, “ইউ হ্যাভ টু রিস্ক এভরিথিং”। তাই কাহিনির কথক এমন একটি মন্দির তৈরি করতে চেয়েছেন, যেখানে কোনও ঈশ্বর বা শয়তান থাকবে না, শুধু থাকবে মুক্ত মানুষ। আর জোরবাই হবে তার প্রহরী, সন্ত পিটারের মতোই যার হাতে চাবি থাকবে ওই মন্দিরের প্রবেশদ্বার খােলা ও বন্ধ করার!― যে হৃদয় স্বাধীন, সে হৃদয়ই সুখী…

আরও পড়ুন: সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’: সুখপাঠ্যের অন্তরালে

― ডি এইচ লরেন্স আবার এই স্বাধীনতাই খুঁজেছেন যৌনতায়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে বারবার নিজেদের মেকি বস্ত্রাবরণটিকে বর্জন করে প্রকৃতির মতোই অকৃত্রিম ও নগ্ন হয়ে যেতে চায় তার চরিত্রেরা। ‘উইমেন ইন লাভ’ উপন্যাসে দুই বোন উরসুলা আর গুডরুন সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ছোট নদীটা যেখানে হ্রদে পড়েছে, যার চারপাশে নানা ফুলের ঝোপঝাড়, সেখানে সাঁতার কাটে আর একে অপরকে বলে, ‘এই অবাধ মুক্তি কি সুখের!’ নরম সবুজ ঘাসে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে শুয়ে বারকিনের মনে হয়, এই স্পর্শ নারীর স্পর্শের চেয়েও বেশি সুখের! নারী-পুরুষের মিলনের মধ্যেও দু’জনের পূর্ণ স্বাধীনতা চেয়েছেন লরেন্স, কোনও অংশীদারিত্ব চাননি।
― যে মিলন স্বাধীন, সেই মিলনই সুখী…

আরও পড়ুন: শঙ্খ ঘোষ: ‘আমার চলা ছিল আমার নিজস্ব’

― আঁতোয়া দ্য সৎ এক্সপেরি তাঁর ‘দি লিটল প্রিন্স’ গ্রন্থে লিখেছেন, সুখ এমন একটা বিষয়, যাকে গ্রহণ করতে গেলে হৃদয়কে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। যখন তোমার হৃদয় প্রস্তুত নয়, তখন যদি সুখ আসে, তুমি তাকে চিনতেই পারবে না। আর প্রস্তুত হৃদয়ে সুখকে আমন্ত্রণ করার মতো আকাঙ্ক্ষিত আর কীই-বা থাকতে পারে? কিন্তু সুখ যে আসছে, তা-ই বা তুমি শনাক্ত করবে কী করে? তাহলে শনাক্ত করার গোপন মন্ত্রটি তোমায় শিখতে হবে। আর এই মন্ত্রটি হল, চোখ দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে শনাক্ত করো। কারণ জীবনে যা কিছু জরুরি, তাদের হৃদয় দিয়েই শনাক্ত করতে হয়… ― হৃদয় দিয়ে যাকে শনাক্ত করা হয়, তার নামই সুখ…

আরও পড়ুন: নীলাঞ্জন হাজরার কবিতা: ‘অস্বীকার করেছি মানচিত্রের কঠোর সীমানা’

― কিন্তু সুখের চেয়েও বেশি জরুরি আর কী থাকতে পারে? রিলকে যাঁর বই সবসময় মাথার পাশে রাখতেন, সেই হ্যানস পিটার জ্যাকোবসেনের নায়ক নিয়েলস লিহন সুখের তুচ্ছতায় ক্লান্ত বোধ করেছিলেন। আর অঁদ্রে জিদের ‘স্ট্রেইট ইজ দ্য গেট’ উপন্যাসের নায়ক জেরোমকে তাঁর আরাধ্যা নারী আলিসা জানিয়ে দিয়েছিলো, যতটা সুখী হওয়া সম্ভব বলে ভেবেছিলাম, তোমার সঙ্গে আমি তার চেয়েও বেশি সুখী। কিন্তু বিশ্বাস করো, সুখের জন্য আমরা জন্মাই নি। বিস্মিত জেরোম জানতে চেয়েছিল, “মন সুখের চেয়ে বেশি আর কি চাইতে পারে? আর আলিসা ফিসফিস করে বলেছিল, “পবিত্রতা…”। তাই বোধহয় বলা যায়, সুখের সন্ধানই কাউকে সুখী করতে পারে না। সুখ শুধু আকাঙ্ক্ষা, প্রতিশ্রুতি আর সম্ভাবনাকে জিইয়ে রাখে। আর প্রাপ্তি এনে দেয় ক্লান্তি। তাই সুখের সন্ধান সুখেই শেষ হয় না। শেষ হয়, যদি সেই সন্ধান কাউকে পবিত্রতার কাছে নিয়ে যায়…
― বন্ধু, তাহলে এই সেই শব্দ, হা, পবিত্রতা, সুখের চেয়েও যা বেশি, সুখের পরেও যা থাকতে পারে…

লেখক রাহুল দাশগুপ্ত ইউনিভার্সিটি গ্লান্টস কমিশনের স্কলারশিপ নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট। পড়িয়েছেন যাদবপুর ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলায় প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক। কর্মসূত্রে যুক্ত ছিলেন সাহিত্য অকাদেমির সঙ্গেও। কলকাতার লিটল ম্যাগাজিন ও গবেষণা কেন্দ্রের ‘তরুণ প্রাবন্ধিক সম্মাননা’র প্রথম প্রাপক। ২০১৭ সালে পেয়েছেন কৃত্তিবাস পুরস্কার। বাংলা উপন্যাসের প্রথম অভিধান ‘উপন্যাসকোশ’ গ্রন্থটির জন্য পান ‘দীপক মজুমদার সম্মাননা’। ২০১৮ সালে পেয়েছেন ‘কবিপত্র’ সম্মান, ‘মানুষ দাশগুপ্ত স্মৃতি সম্মাননা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় ভারতীয় কবি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মণিপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন সাহিত্য অকাদেমির আমন্ত্রণে কবিতা অনুবাদের ওয়ার্কশপে। বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন। সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছু বই। বিভিন্ন দৈনিক পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। এক সময় সম্পাদনা করেছেন ‘এবং সমুদ্র’ পত্রিকা, এখন করেন ‘চিন্তা’ পত্রিকা। পোস্ট ডক্টরেট করছেন গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের ইন্দোলজি বিভাগে। কর্মসূত্রে গার্ডেন হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত। ভালবাসেন বই পড়তে, সিনেমা দেখতে এবং মেয়ে উপাসনার সঙ্গে সময় কাটাতে।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *