হাবাসের আক্রমণাত্মক নীতিতে কাত বেঙ্গালুরু

সায়ন ঘোষ

আইএসএলের অন্যতম মর্যাদার লড়াইয়ে জয় পেল সবুজ মেরুন। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল হাবাসের ছেলেরা। এদিন ১-০ গোলে তারা হারাল বেঙ্গালুরু এফসি-কে। হাবাস ৪-১-৪-১ ছকে দল নামিয়েছিলেন। গোলে ছিলেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। রক্ষণে প্রীতম, সন্দেশ, তিরি ও শুভাশিস। চার ডিফেন্ডারের সামনে ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসাবে কার্ল ম্যাক হিউ। মাঝমাঠে মনবীর, এডু গার্সিয়া, প্রণয়, ডেভিড উইলিয়ামস। আপফ্রন্টে অধিনায়ক রয় কৃষ্ণা। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু ৪-৩-৩ ছকে দল নামায়। গোলে গুরপ্রীত। রক্ষণে রাহুল ভেকে, প্রতিক চৌধুরি, হুয়ানন, খাবড়া। মাঝমাঠে এরিক পাতালু, ডিমাস ডেলগেডো ও সেলিটন সিলভা। আপফ্রন্টে সুনীল ছেত্রী, উদান্তা সিং ও ব্রাউন।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে তৈরি হচ্ছে ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা যুক্ত প্রথম ক্রিকেট স্টেডিয়াম

শুরু থেকে আক্রমণের ঝড় তোলে এটিকে মোহনবাগান। এডু গার্সিয়ার নেতৃত্বে মাঝমাঠের দখল নেয় মোহনবাগান। আজ ডেভিড উইলিয়ামস, রয় কৃষ্ণা ও মনবীর সিংয়ের অ্যাটাকিং ট্রায়ো বেঙ্গালুরু রক্ষণকে তছনছ করে দেয়। তবে এদিন ফর্মে ফিরলেন ডেভিড উইলিয়ামস। ৫ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে ডেভিড উইলিয়ামস গোল মিস করেন। ১৫ মিনিটে গুরপ্রীতকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন রয় কৃষ্ণা। ১৭ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামসের দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য মিস হয়। ১৯ মিনিটে অরিন্দম সেভ করেন। ২১ মিনিটে গুরপ্রীতকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ মনবীর। ২৩ মিনিটে ফের সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মনবীর। ২৪ মিনিটে ফের গুরপ্রীত সেভ করেন। ২৬ মিনিটে অন্যদিকে দলের পতন রোধ করেন অরিন্দম ভট্টাচার্য। ৩২ মিনিটে বল পেয়ে বেঙ্গালুরুর রক্ষণ ভেঙে দুর্দান্ত সোয়ার্ভিং শটে গোল করেন ডেভিড উইলিয়ামস। এই গোলটি এবারের আইএসএলের এখনও অবধি অন্যতম সেরা গোল।

আরও পড়ুন: ১০ মাস পরে ব্যাডমিন্টন কোর্টে ফিরবেন সাইনা-সিন্ধু, থাইল্যান্ডে ৩ টুর্নামেন্টের জন্য ঘোষণা ৮ সদস্যের ভারতীয় দল

গোল পাবার পর ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে গেল মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার কোনও পরিবর্তন হয়নি। ৫১ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামসের দূরপাল্লার শট নেন। ৫২ মিনিটে এডুর শট বাঁচান গুরপ্রীত। এদিন গুরপ্রীত না থাকলে লজ্জায় মগ্ন হত বেঙ্গালুরু। দুর্দান্ত আউটিং ও অনুমান ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বারবার বিপদ থেকে দলকে বাঁচিয়ে দেন। এই সময় ফ্রান গঞ্জালেসকে মাঠে নামালেও বেঙ্গালুরু গোলের মুখ খুলতে পারেনি। এই পর্বে মাঝমাঠের দখল নেবার চেষ্টা করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি বিএফসি। ৬৯ মিনিটে রয় কৃষ্ণা গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। ৭২ মিনিটে সেলিটন সিলভা ও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। অন্তিম পর্বে কর্নার থেকে ও গোল করতে ব্যর্থ বিএফসি।

আরও পড়ুন: ছোটজনের বড় সাফল্য: খেল জগতের বৃত্তান্ত

এদিন মোহনবাগান খেলেছে অন্যদিনের তুলনায় যথেষ্ট সংঘবদ্ধ হয়ে। রক্ষণ থেকে আক্রমণ সবেতেই একসঙ্গে ৬/৭ ফুটবলারকে দেখা যাচ্ছিল। অন্যদিকে, ভারতীয় ফুটবলের সেরা স্ট্রাইকার সুনীল ছেত্রীকে কার্যত বোতলবন্দি করে রাখেন সন্দেশ ঝিংগান। এরিক পাতালুকেও খেলতে দিলেন না ম্যাক হিউ। আশিক কুনুরিয়ান না থাকায় বিএফসি আক্রমণে কোনও ঝাঁঝ ছিল না। ডানদিক থেকে উদান্তার দৌড় বন্ধ করে দেন শুভাশিস বোস। ব্রাউনকে সারাম্যাচে খুঁজে পাওয়া গেল না। একমাত্র ব্যতিক্রম রাহুল ভেকে ও গুরপ্রীত।

আরও পড়ুন: আইএসএলে এখনও জয় অধরা ইস্টবেঙ্গল-কেরালার

প্রতীক চৌধুরি ও হুয়ানন ডেভিড উইলিয়ামস বল ধরলেই রীতিমতো চাপে পড়ে যাচ্ছিল। হাবাসের ছিল পরিষ্কার রণনীতি, ‘আক্রমণ‌ই সবথেকে ভালো রক্ষণ করার উপায়’। সেটাই করে গেল মোহনবাগান তাঁর দল। মাঝমাঠে পাশ খেলে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখল। বিএফসি শেষের দিকে চেষ্টা করেও মোহনবাগান রক্ষণকে ভাঙতে ব্যর্থ। সন্দেশ ঝিংগানের নেতৃত্বে মোহনবাগান রক্ষণ এবারের আইএসএলে প্রতি ম্যাচেই চিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেষের দিকে গ্লেন মার্টিনেজকে নামিয়ে গোলের মুখ বন্ধ করে দিলেন হাবাস।

আরও পড়ুন: শীতের সকালে ৩৬-এর বিভীষিকায় ‘৪২-এর গ্রীষ্ম’ মনে পড়ে গেল

আজকের ম্যাচের পর মোহনবাগান ৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে র‌ইল। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু র‌ইল তৃতীয় স্থানে। আজকের ম্যাচের ধারাবাহিকতা যদি মোহনবাগান বজায় রাখতে পারে তাহলে এবারের আইএসএল যে কলকাতাতেই আসছে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি আইএসএল

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *