প্রগতির উদ্যোগে চিত্র প্রদর্শনী ও গ্রাফিক শিল্প: সাক্ষাৎকার

পারমিতা দাস

১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এ ‘প্রগতি’র উদ্যোগে হয়ে গেল চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শনী ‘এক্সপ্রেসন্স’। ১৬ জন শিল্পীর বিভিন্ন রকমের চিত্র ও ভাস্কর্য প্রদর্শিত হয়েছে। যেসব শিল্পীদের সৃষ্টি স্থান পেয়েছে, তাঁরা হলেন সুজিত কুমার ঘোষ, সুভাষ দত্ত, সুরজিৎ ভৌমিক, সূর্যদ্বীপ কর্মকার, অর্ণব কুমার মণ্ডল, অভিষেক সরকার, ধ্রুবজ্যোতি শর্মা বড়ুয়া, বিদ্যুৎ বসাক, ভারতী সামন্ত, লিমি গাঙ্গুলি, সুস্মিতা গাঙ্গুলি, পায়েল যোধানি, তনিশা গুপ্ত এবং  সুদেষ্ণা। ধ্রুবজ্যোতি শর্মা বড়ুয়া (অসম) বাদে প্রত্যেকেই এসেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। প্রত্যেক শিল্পীর সৃষ্টিই নিজস্বতার গুণে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্রিলিক রঙের চিত্র এবং তৈল চিত্র তো রয়েছেই, কিন্তু একবারে স্বতন্ত্র ছিল সুস্মিতা গাঙ্গুলির গ্রাফিক আর্ট।

আরও পড়ুন: দশটি লিমেরিক

শ্রীমতী সুস্মিতা গাঙ্গুলির চারটি গ্রাফিক আর্ট প্রদর্শিত হয়েছিল এই প্রদর্শনীতে। প্রদর্শনীর মাঝে তাঁর সঙ্গে এই বিষয়ে কিছু আলাপচারিতার সুযোগ হয়েছিল।

প্রশ্ন গ্রাফিক আর্ট কি?

সুস্মিতা গাঙ্গুলি গ্রাফিক আর্ট হল এমন একটি মাধ্যম, যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে চিরাচরিত শিল্পের সঙ্গে। এর জন্য ওয়াকম সিন্টিক নামে এক ধরনের গ্রাফিক ট্যাবলেট ব্যবহার করতে হয়। এই ধরনের শিল্পকর্মে কোরেল পেইন্টার ফোটোশপের মতো সফটওয়ার ব্যবহার করতে হয়। যার মাধ্যমে ভার্চুয়াল রং লাগিয়ে গ্রাফিক আর্ট তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: এই টুম্পা, ব্রিগেড চল!

প্রশ্ন আপনি প্রদর্শনীর জন্য গ্রাফিক আর্ট বেছে নিলেন কেন? প্রচলিত অন্যান্য ধারার চিত্র অঙ্কনে আপনি কি উৎসাহী নন?

সুস্মিতা গাঙ্গুলি এমনিতে আমি সব ধরনের মাধ্যমের আঁকা পছন্দ করি। তবে মনে হয় যেন জল রঙে আমি এখনও যথেষ্ট পারদর্শিতা আনতে পারিনি। কিন্তু অ্যাক্রিলিক রং, প্যাস্টেল, চারকোল রঙে আঁকতেও আমি পছন্দ করি। কিন্তু গ্রাফিক শিল্প আমাদের দেশে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের। এই সম্পর্কে এখনও অনেকে জানে না। আমি নিজেকে একজন ডিজিটাল শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি বৈদ্যুতিন মাধ্যমে এই শিল্প সম্পর্কে পড়াশোনা করেছি। এটা আমার একটা খুব পছন্দের বিষয়। তবে এখনও এই ফিল্ডে নিজেকে শিক্ষার্থীই মনে করি।

প্রশ্ন গ্রাফিক আর্টের উপর এই প্রদর্শনী আপনার কি প্রথম? জনপ্রিয়তার নিরিখে গ্রাফিক আর্ট সম্পর্কে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী রকম?

সুস্মিতা গাঙ্গুলি প্রগতির উদ্যোগে সংগঠিত অনেক প্রদর্শনীতে আমার গ্রাফিক শিল্প প্রদর্শিত হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় যেমন— বিড়লা অ্যাকাডেমি, আইসিসিআর এবং গ্যালারি গোল্ড। বিভিন্ন প্রখ্যাত শিল্পী যেমন শিল্পী দেবব্রত চক্রবর্তী আমার এই শিল্পের প্রশংসা করেছেন। বিড়লা অ্যাকাডেমির প্রদর্শনীতে আমি তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছিলাম।

আরও পড়ুন: মাতৃভাষা দিবসে ‘ভাইরাল’ উত্তম-কিশোর স্মৃতিমাখা গানের দৃশ্য প্রসঙ্গে

প্রশ্ন আপনার এই প্রদর্শনীর চারটি চিত্রের কী তাৎপর্য?

সুস্মিতা গাঙ্গুলি আমার প্রথম ছবি আমার ব্যক্তিগত আবেগ থেকে আঁকা। আমার কন্যা কেমব্রিজে থাকে। কিন্তু কবে তাঁর সঙ্গে আমার আবার দেখা হবে, তা প্যান্ডেমিকের জন্য অনিশ্চিত হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এ-এক সীমাহীন অপেক্ষা। দ্বিতীয় ছবি ‘স্কাই ইস দ্য লিমিট’ হল বিজ্ঞানী হিসেবে আমার কন্যার স্বপ্ন পূরণের ছবি, যা স্কাই স্ক্র্যাপারের মতো আকাশকে ছুয়েছে। আমার তৃতীয় ছবি ‘প্যালেস অফ ইলিউশনস’। এখানে গ্রাফিক এবং চিরাচরিত আঁকার সংমিশ্রণ ঘটেছে। এখানে রাজপ্রাসাদের ভিতরের গভীরতা ও প্রতিফলন দেখানো হয়েছে। চতুর্থ চিত্র ‘স্প্রিং’ যেখানে একদিকে আমাদের বসন্ত ঋতুর আগমন দেখানো হয়েছে, অন্যদিকে বাঘের লাফ (স্প্রিং) দেখানো হয়েছে।

প্রশ্ন আপনি কি মনে করেন গ্রাফিক শিল্প ভবিষ্যতে অনেক বেশি শিল্পীকে আকৃষ্ট করবে?

সুস্মিতা গাঙ্গুলি গ্রাফিক শিল্পের অনেক রকম সফটওয়্যার বেরিয়ে গেছে। গ্রাফিক শিল্পের পরিধি অনেক বেশি। যেমন বাচ্চাদের বই, অ্যানিমেশন এবং ছবি অঙ্কন ইত্যাদিতে। এর অনেক সম্ভাবনা আছে এবং নতুন প্রজন্ম গ্রাফিক শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট ক্রমশ হচ্ছে।

ধন্যবাদ। আপনার জন্য রইল অসংখ্য শুভ কামনা।

আরও পড়ুন: ভাষার মাস কেন নয় ফাল্গুন

এখানে উল্লেখযোগ্য, প্রথাগত আর্ট কলেজে পড়াশোনা না করেও পেশায় শিক্ষিকা (লা মার্টিনিয়ার স্কুল ফর গার্লস) শিল্পী সুস্মিতা গাঙ্গুলি শুধু ভালোবাসা দিয়ে একাধারে নানা ধরনের চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে চিত্র শিল্পপ্রেমীদের মনে বড় জায়গা করে নিচ্ছেন।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *