Latest News

Popular Posts

সুভাষ-স্মৃতিতে আন্দামান-নিকোবরে নির্মিত ‘সংকল্প মেমোরিয়াল’-এর উদ্বোধন

সুভাষ-স্মৃতিতে আন্দামান-নিকোবরে নির্মিত ‘সংকল্প মেমোরিয়াল’-এর উদ্বোধন

Mysepik Webdesk: ১৯৪৩-এর ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে এগারোটায় পোর্ট ব্লেয়ারের মাটিতে পা রেখেছিলেন আজাদ হিন্দ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। পরের দিনই তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তিনি। এই ঘটনার ঠিক ৭৮ বছর পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল কমান্ডার-ইন-চিফ আন্দামান ও নিকোবর কমান্ড (CINCAN) অজয় সিং এই দিনটি উপলক্ষে সংকল্প স্মারক উদ্বোধন করে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখেন।

আরও পড়ুন: রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে কেন্দ্রের চিঠি এল নবান্নে

৭৮ বছর আগে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলন করেছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, যা এক বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান এই দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটেনের কাছ থেকে দখল করে নেয়। এরপর ২৯ ডিসেম্বর ১৯৪৩-এ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু তিনদিনের জন্য আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ারে পৌঁছন। ১৯৪৩-এর ৩০ ডিসেম্বর নেতাজি জিমখানা মাঠে তেরঙ্গা উত্তোলন করেন।

আন্দামান ও নিকোবর প্রথমে ছিল হল্যান্ডের দখলে। এরপর তা চলে যায় ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জাপানিরা আন্দামান-নিকোবর জয় করেন। তবে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান পরাজিত হলে দ্বীপটির দখলদারিত্ব ফের ব্রিটেনের কাছে ফিরে আসে।

আরও পড়ুন: কোভিডবিধি মেনে উত্তর প্রদেশে নির্ধারিত সময়েই ভোট, জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

১৯৪৩-এর ৩০ ডিসেম্বর সুভাষ চন্দ্র বসু যখন তেরঙ্গা উত্তোলন করেছিলেন, তখন তিনি আন্দামান এবং নিকোবরের নামকরণ করেছিলেন যথাক্রমে শহিদ ও স্বরাজ। জেনারেল লোকনাথনকে এখানকার গভর্নর করা হয়েছিল। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতার পর এই দ্বীপপুঞ্জ ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসাবে স্বীকৃতি পায়।

নেতাজি এর আগে জাপান ও সিঙ্গাপুরে তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন, ওই বছরের শেষের দিকে আজাদ হিন্দ ফৌজ অবশ্যই ভারতের মাটিতে পা রাখবে। পোর্ট ব্লেয়ারে পৌঁছে তিনি সেলুলার জেলেও গিয়েছিলেন। এখানে বন্দি থাকা ভারতীয় বিপ্লবী ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও করেছিলেন নেতাজি। আন্দামানে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলনের পর সুভাষ সেখানে তিনদিন ছিলেন। ১ জানুয়ারি তিনি সিঙ্গাপুরে পৌঁছন। সিঙ্গাপুরে এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতে বিপ্লবের শিখা জাগিয়ে তুলবে, যার তেজে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: বর্ষবরণের আগেই দেশে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের গ্রাফ, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

বুধবার এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করে একটি বিশেষ ‘সংকল্প-স্মরক’ উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৯৪৩-এর ২৯ ডিসেম্বর সুভাষ চন্দ্র বসু একটি বিমানে আন্দামান ও নিকোবরের রাজধানী পোর্ট-ব্লেয়ারের রানওয়েতে অবতরণ করেছিলেন। দিনটির ৭৮ বছর পর নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দেশের প্রথম এবং একমাত্র ট্রাই-সার্ভিস থিয়েটার কমান্ড, আন্দামান ও নিকোবর কমান্ড পোর্ট ব্লেয়ার বিমানবন্দরে একটি রেজ্যুলিউশন মেমোরিয়াল তৈরি করেছে। এটি তৈরি হয়েছে রানওয়ের কাছে। এখানেই নেতাজির বিমান অবতরণ করেছিল।

আন্দামান কমান্ডের সর্বাধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অজয় সিং বুধবার স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন। এই স্মৃতিসৌধের মূলমন্ত্র আনুগত্য, কর্তব্য ও ত্যাগ। স্মৃতিসৌধের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় আন্দামান ও নিকোবর কমান্ডের কমান্ডার নেতাজি এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের সাহসী সৈনিকদের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জানান। পোর্ট ব্লেয়ার বিমানবন্দরের যে অংশে সংকল্প স্মারক নির্মিত হয়েছে, সেটি এখন ভারতীয় নৌবাহিনীর (এবং ট্রাই-সার্ভিস কমান্ড) আইএনএস উৎক্রোশের অধীনে রয়েছে। পোর্ট ব্লেয়ার বিমানবন্দরে একটি নতুন রানওয়েও তৈরি করা হয়েছে। এই জায়গাটিতেই নেতাজির বিমান অবতরণ করেছিল। রানওয়েটি সিভিল ট্রাফিকের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *