বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের কাছে প্রথমবার পরাজিত ভারত

Mysepik Webdesk: টি-২০ বিশ্বকাপের এদিনের ম্যাচে নামার আগে ভারত-পাকিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দল মুখোমুখি হয়েছিল ১২ বার। এরমধ্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৭ বার এবং টি-২০ বিশ্বকাপে ৫ বারই জিতেছিল ভারত। কিন্তু ভারতের সেই জয়রথ থেমে গেল। ভারতকে সমস্ত বিভাগেই এদিন টেক্কা দিয়ে ১০ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপের আসরে প্রথমবার ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান।

আরও পড়ুন: চাপে থাকবে ভারতই: মহম্মদ আমির

এদিনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিং করতে পাঠায় পাকিস্তান। পাক অধিনায়ক বাবর আজম প্রথম ওভারে বল তুলে দেন শাহিন আফ্রিদির হাতে। প্রথম ওভারেই ভারত উইকেট হারায়। রোহিত শর্মা রানের খাতা না খুলেই প্যাভিলিয়ন ফেরেন লেগ বিফোর উইকেট হয়ে। তৃতীয় ওভারে শাহিন আফ্রিদি আবারও ঘাতক হয়ে ওঠেন। বাঁ-হাতি এই পাক বোলারের ইনসুইংয়ে হার মানেন রাহুল। ব্যক্তিগত ৩ রানের মাথায় রাহুল বোল্ড আউট চিন্তার ভাঁজ পড়ে ভারতীয় শিবিরে। ভারত মাত্র ৬ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারায়।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুঃস্বপ্নের হার তাড়াতাড়ি ভুলতে চাইছেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক পোলার্ড

ভারতকে এই পরিস্থিতি থেকে টেনে তোলার জন্য ফার্স্ট ডাউনে নাম দলপতি বিরাট কোহলি এবং সেকেন্ড ডাউনে নামা সূর্যকুমার যাদবকে কিছু করতেই হত। যে ওভারে রাহুল আউট হলেন, সেই ওভারেই আফ্রিদিকে লেগ সাইডে ফ্লিক করে ছক্কা এবং আফ্রিদিরই তৃতীয় ওভারে বিরাট কোহলির ছক্কা সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তবে ভারতীয় শিবির যখন ভাবছিল, বিরাট ও সূর্য একটা পার্টনারশিপ গড়তে চলেছেন, সেই সময়ই হয় ছন্দপতন। মনঃসংযোগের ব্যাঘাত ঘটে সূর্যকুমারের। হাসান আলির অফ সাইডের বাইরের বল অযথা খোঁচা মেরে আউট হন সূর্য (১১)। তাঁর ক্যাচ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে তালুবন্দি করেন পাক উইকেটকিপার মহম্মদ রিজওয়ান। টিম ইন্ডিয়া প্রথম পাওয়ার প্লেতে নির্ধারিত ৬ ওভারে ৩টি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে করে ৩৬।

আরও পড়ুন: মিতালি রাজের জন্য অনশনে বসেছিলেন তাঁর এক ভক্ত

অধিনায়ক বিরাট এবং উইকেটকিপার ঋষভ পন্থকে এরপর যথেষ্ট একাগ্র লাগছিল। তবু, পন্থ মাঝে এক-দু’বার লুজ শট খেললেও বিরাটের মনোযোগ ছিল খুবই দৃঢ়। তবে পাকিস্তানি বোলাররা যথেষ্ট টাইট বল করায় রানরেট কিছুতেই ৬-এর ওপরে উঠছিল না। ভারতের রান সেই সময় ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৬৬। ১২তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন হাসান আলি। তাঁর ওভারে দু’টি ছক্কা হাঁকান পন্থ। হাসান আলির ব্যক্তিগত এই দ্বিতীয় ওভারে ভারত তোলে ১৫ রান। ‘মেন ইন ব্লু’র রান ১২ ওভারে বেড়ে হয় ৮১। তবে ত্রয়োদশ ওভারে শাদাব খানের বল তুলে মারতে গিয়ে ৩০ বলে ৩৯ রানের পন্থের একটা উপযোগী ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটে। ক্রিজে আসেন রবীন্দ্র জাদেজা। হার্দিক পান্ডিয়ার আগে ‘জাদ্দু’ভাইকে ব্যাট করতে পাঠায় ভারতীয় থিঙ্কট্যাঙ্ক। সম্ভবত, লেফট-রাইট কম্বিনেশন বজায় রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণরেখার উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশ ক্রিকেট খেললে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হতে পারে না: বাবা রামদেব

এগোচ্ছিলেন কোহলি। বলা ভালো, ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন কোহলি। ম্যাচের ১৭.১ ওভারে হাসান আলির বলে দু-রান নিয়ে অর্ধশতরান পূরণ করেন বিরাট কোহলি। এটি তাঁর দশম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি, যা একটি রেকর্ড। চলতি ওভারের পঞ্চম বলে হাসান আলির স্লো বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়ে যান জাদেজা (১৩)। ভারতের রান তখন ১৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৭। ভারতকে দেড়শো রানের গণ্ডি পার করতে গেলে বিরাট কোহলি এবং হার্দিক পান্ডিয়াকে মারমুখী হতেই হত। তবে শাহিন আফ্রিদির স্লো বল বাউন্সারে ৫৭ রানে কট বিহাইন্ড আউট হয়ে যান কোহলি। ভারত অধিনায়কের ৪৯ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫টি চার এবং ১টি বিশাল ছক্কা দিয়ে। হ্যারিস রাউফের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ৮ বলে ১১ রান করে আউট হন হার্দিক। ভারত ২০ ওভারে পৌঁছয় ৭ উইকেটে ১৫১ রানে।

আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে সেজে উঠছে দেশের বিভিন্ন শহরের হোটেল, পাব, ক্যাফেটেরিয়া

জবাবে পাকিস্তান আক্রমণাত্মক শুরু করে। প্রথম দুই ওভারে দুই পাক ওপেনার মহম্মদ রিজওয়ান এবং বাবর আজম মিলে তুলে নেন ১৮ রান। প্রথম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমার ১০ এবং দ্বিতীয় ওভারে মহম্মদ শামি দেন ৮ রান। তৃতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহের হাতে বল তুলে দেন ক্যাপ্টেন কোহলি। নিজের প্রথম ওভারে যথেষ্ট কৃপণ থাকেন বুমরাহ। দেন মাত্র ৪ রান। চতুর্থ ওভারে বল হাতে আসেন ‘রহস্য স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তী। অসামান্য বোলিং প্রদর্শন করে তিনি দেন মাত্র ২ রান। তবে পঞ্চম ওভারে ফের মার পড়ে। শামি তাঁর দ্বিতীয় ওভারে দেন ১১ রান। তাঁর বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব চোখে পড়ছিল। পাওয়ায় প্লের শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসেন ভুবি। তবে তিনি খুব একটা পরেশনিতে ফেলতে পারেননি দুই পাক ওপেনারকে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ভুবনেশ্বর দেন ৮ রান। পাকিস্তান প্রথম ৬ ওভারে করে বিনা উইকেটে ৪৩ রান।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান খুবই শক্তিশালী দল: বিরাট কোহলি

পাওয়ার প্লের পর ভারত তার স্পিনিং জুটি জাদেজা-বরুণে আস্থা রাখে। জাদেজা তাঁর প্রথম ওভারে দেন ৩ রান। বরুণ তাঁর দবীয় ওভারে দেন ৬ রান। কিন্তু কিছুতেই প্রথম সাফল্য আসছিল না টিম ইন্ডিয়ার। প্রথম ৯ ওভারে পাকিস্তান সংগ্রহ করে বিনা উইকেটে ৬২ রান। দুই পাক ওপেনারের খেলা দেখে অনেকটা জাভেদ মিয়াঁদাদ এবং রমিজ রাজার খেলার কথা মনে পড়ছিল। দুই ক্রিকেটারই মাথা ঠান্ডা রেখে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিয়ে এগিয়ে চলেছিলেন। প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তান পৌঁছয় ৭১ রানে। ১২ ওভারে পাকিস্তান পৌঁছয় বিনা উইকেটে ৮৫ রানে।

আরও পড়ুন: আইপিএলে দল কিনতে চলেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড!

জিততে গেলে তাদের তখন প্রয়োজন ৪৮ বলে ৬৭ রান। এরপর বরুণ চক্রবর্তীর ওভারে দু’টি ছয় হাঁকান পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। পাকিস্তানের পক্ষে তখন বেশ সহজ দেখাচ্ছিল লক্ষ্য। চতুর্দশ ওভারে পাকিস্তান পৌঁছে যায় ১১২ রানে। কোনও কিছুই ঠিক হচ্ছিল না টিম ইন্ডিয়ার পক্ষে। ম্যাচ ক্রমে ঝুঁকে পড়ছিল পাকিস্তানের দিকে। শেষ চার ওভারে পাকিস্তানকে জিততে গেলে করতে হত ২৪ রান। হাতে ১০ উইকেট। শেষমেশ ১৩ বল বাকি থাকতেই ১০ উইকেটে জিতে নেয় পাকিস্তান। রিজওয়ান ৭৯ এবং বাবর ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতকে পরাজিত করল পাকিস্তান।

Facebook Twitter Email Whatsapp

এই সংক্রান্ত আরও খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *