অধিনায়ক হিসাবে কোহলির ২০০তম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত

Mysepik Webdesk: ভারত এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচটি পুণেতে অনুষ্ঠিত হল আজ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারতীয় দল ৩৩০ রানের লক্ষ্য রাখে ইংল্যান্ডের সামনে। জবাবে ইংল্যান্ড ১০০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। শার্দূল ঠাকুর ইংলিশ অধিনায়ক জোস বাটলারকে ১৫ রানে এলবিডব্লিউ করেন। যদিও ফার্স্ট আম্পায়ার বাটলারকে আউট দেননি। ক্যাপ্টেন কোহলি ডিআরএস নেন (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। তৃতীয় আম্পায়ার বাটলারকে আউট ঘোষণা করেন। এর আগে ইংল্যান্ডের স্কোর যখন ৬৮ রানে, তখন জোরে বোলার টি নাটারাজন ইংল্যান্ডকে তৃতীয় ধাক্কা দেন। তিনি বেন স্টোকসকে ৩৫ রানে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছিলেন। শিখর ধাওয়ান তালুবন্দি করেন তাঁকে।

আরও পড়ুন: করোনা ছুঁলো শচীনকেও

শেষমেশ ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ৩২২ রানে। ভারত জেতে ৭ রানে। ভারতের পক্ষে শার্দূল ৪টি, ভুবনেশ্বর ৩টি, নটরাজন ১টি উইকেট নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে মইন আলি ২৯ রান করেন। সবাই যখন ধরে নিয়েছিলেন খুব সহজেই ম্যাচ জিতে যাবে ভারত, ঠিক তখনই ব্রিটিশদের পক্ষে আশা জিইয়ে রাখেন স্যাম কুরান। অর্ধশতক করে পালটা একটা কামড় দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ইংল্যান্ডকে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে দেন তিনি। একসময় ইংল্যান্ডের দরকার ছিল শেষ ১৮ বলে ২৩। হাড্ডাহাড্ডি অবস্থায় পৌঁছে যায় ম্যাচ। ৪৭তম ওভারে বল করতে আসেন ভুবনেশ্বর কুমার। তিনি যে চাপে ছিলেন, তা বোঝা যায়। দু’টি বল পর পরপর ওয়াইড করে বসেন ভুবি। যদিও বাকি বলগুলি মাথা ঠান্ডা রেখেই করেন তিনি। শেষ ২ ওভারে ইংল্যান্ডকে জিততে হলে তখন করতে হত ১৯। বল হাতে আসেন হার্দিক। এই ওভারে উড এবং কুরানের ক্যাচ মিস হয়। এদিন ভারত সবমিলিয়ে চারটি ক্যাচ মিস করেন। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের ১৪ রান বাকি যখন কোহলি বল দেন নটরাজনের হাতে। প্রথম বলেই রান আউট হন উড (১৪)। বিরাটের ভরসার যোগ্য হয়ে ওঠেন সম্প্রতি অভিষেক হওয়া নটরাজন। শেষমেশ ৯৫ রানে অপরাজিত থাকেন কুরান।

আরও পড়ুন: এএফসি কাপের সেরা ৩ স্ট্রাইকারের জন্য নির্বাচিত সুনীল ছেত্রী

শুরুতেই ইংলিশ টিমকে দু’টি ধাক্কা দিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই জেসন রায় ক্লিন বোল্ড হন। রায় ১৪ রান করেছিলেন। নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় ওভারে ফর্মে থাকা জনি বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লিউ করেন ভুবি। শেষ ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা বেয়ারস্টো এই ম্যাচে মাত্র ১ রান করতে পেরেছিলেন। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে প্রাণ পেয়েছিলেন বেন স্টোকস। ভুবনেশ্বরের বলে একটি সহজ ক্যাচ মিস করলেন হার্দিক পান্ডিয়া। এই সময় স্টোকস ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রথমবার আই লিগ চ্যাম্পিয়ন গোকুলাম কেরালা এফসি

টিম ইন্ডিয়া ৪৮.২ ওভারে ৩২৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। ঋষভ পন্থ এদিন ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ বলে ৭৮ রান করেন। শিখর ধাওয়ান ৫৬ বলে ৬৭ এবং হার্দিক পান্ডিয়া ৪৪ বলে ৬৪ রান করেছিলেন। পন্থের কেরিয়ারে এটি ৩য়, ধাওয়ানের ৩২তম এবং হার্দিকের ৭ম অর্ধশতক ছিল। শার্দূল ঠাকুর ২১ বলে ৩০ রান করেছিলেন। ক্রণাল পান্ডিয়া করেন ৩৪ বলে ২৫। ভারতীয় ইনিংসে মোট ১১টি ছক্কা রয়েছে, পন্থ এবং হার্দিক উভয়েই হাঁকান চারটি ছক্কা। অন্যদিকে, শার্দূল ৩টি ছক্কা মারেন। অসাধারণ শুরু করেছিল ভারতীয় দল। দ্রুত শুরু করে ১৪ ওভারেই ১০০ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। দলগত ১০৩ রানের মাথায় প্রথম ধাক্কা খায় ভারত। ওপেনার রোহিত শর্মা স্পিনার আদিল রশিদের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে যান ব্যক্তিগত ৩৭ রানে। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কে এল রাহুলও এদিন ৭ রানের বেশি করতে পারেননি।

আরও পড়ুন: ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলের এক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় রেণু

এদিন কোহলি ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। তিনি মাত্র ৭ রানে ব্রিটিশ বোলার মইন আলি টার্ন বুঝতে না পেরে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরের পথ দেখেন। যদিও অধিনায়ক হিসাবে এই ম্যাচে একটি নজিরও গড়েন ভারত অধিনায়ক। ক্যাপ্টেন হিসাবে তিনটি ফর্ম্যাট (টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০) মিলিয়ে কোহলির এটি ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল। বিশ্বের অষ্টম এবং ভারতের তৃতীয় অধিনায়ক হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন বিরাট। মহেন্দ্র সিং ধোনি সর্বাধিক ৩৩২ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন, যা বিশ্বরেকর্ড। এমনই এক বিশেষ দিনে ভারত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *