Latest News

Popular Posts

সাক্ষাৎকার: চিত্রপরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্য

সাক্ষাৎকার: চিত্রপরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্য

বর্তমান সময়ে টলিউডে যতজন নতুন ধারার পরিচালক কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান শ্রীইন্দ্রাশিস আচার্য। তাঁর প্রথম তিনটি ফিচার ফিল্ম, ‘বিলু রাক্ষস (২০১৭), ‘পিউপা’ (২০১৮) এবং ‘পার্সেল’ (২০২০) সমালোচক ও দর্শকদের কাছে উচ্চ-প্রশংসা এবং দেশ-বিদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ম-উৎসবে জায়গা পেয়েছে ও পুরস্কারও লাভ করেছে। তার মধ্যে, ‘নিউ ইয়র্ক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’, ‘সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ (টরন্টো), ‘ইন্ডিয়ান ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ (মেলবোর্ন), ‘হ্যানয় ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ (ভিয়েতনাম) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ‘পার্সেল’-এর জন্য পেয়েছেন, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ভারতীয় পরিচালক তকমা (২০২০)। তাঁর সিনেমা-জার্নি শুরু শর্ট ফিল্মের মাধ্যমে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পদার্থবিদ্যায় বি.টেক, ফিচার ফিল্ম নির্মাণে এসেই একটি নতুন ঘরানা তৈরি করেছেন এই সময়ের বাংলা ছবিতে, যা পূর্বে দেখা যায়নি। ক্রাফট ও বিষয়ের দিক থেকে তিনি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। তাঁর ফিল্ম-যাত্রা থেকে সিনেমা-দর্শন থেকে আধুনিক বাংলা সিনেমা-জগতের হাল-হকিকত এবং আরও অনেক কিছু ছুঁয়ে তিনি অকপট সাক্ষাৎকার দিলেন সুমিত নাগকে।

সুমিত আমি যা জানি, আপনি মফস্‌সলের ছেলে, শৈশব বালিতে কেটেছে। যে-সময়টা মানুষকে তৈরি করে, অনেক কিছু দেখে মাথার ভিতর নানা দৃশ্য জন্ম নেয়, সেটা কেটেছে মফস্‌সলেই। এই জায়গা থেকে জিজ্ঞেস করব যে, এরকম মফস্‌সলে বড় হয়ে ওঠা কোনও বাঙালি ছেলে কবিতা-গল্প লেখেন, সিনেমার দিকে আগ্রহ খুব পরিচিত জগৎ না-থাকলে এগোনো হয় না। এই ইন্টারেস্ট তৈরি হল কীভাবে?

ইন্দ্রাশিস মফস্‌সলের ছেলে বলতে আমার জন্ম ওইখানে। ক্লাস এইট অবধি ওইখানে ছিলাম। তারপর কলকাতায় চলে আসি। এবার আমি যদি বলি কীভাবে সিনেমায় ইন্টারেস্ট গ্রো করল, সেটা বলা মুশকিল। কারণ, আমি তো কর্পোরেটে চাকরি করছিলাম, বহুবছর, পরে বিদেশ গেছি। শুরু করেছিলাম এখানে, তারপর গিয়েছিলাম আফ্রিকায়। অনেকদিন থাকার পর ইউকে-তে বহুদিন ছিলাম।

আরও পড়ুন: হারিয়ে যাওয়া গবেষণাগারের খোঁজে

সুমিত এই সময়টা দু’হাজারের প্রথম দিকে?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, দু’হাজার চার থেকে আট অবধি। আফ্রিকা, ইউকে এবং আমেরিকায় থাকার পর আমি ফিরে আসি, আমার মায়ের ক্যানসার ডায়াগনসিস হবার পর। তারপর দেশেই থেকে যাই, আর বাইরে যাবার কথা ভাবিনি। তখনই কাজকর্ম করতে গিয়ে আমার মনোটোনাস লেগেছিল। থ্রিল কম লাগত। আগে একটা খুবই থ্রিলিং লাইফ কাটাতাম। মা মারা যান দু’হাজার নয়ে। তার আগে আমার মনে হয়েছিল, একজন মানুষ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন— ডে’স আর নাম্বারড— আমি জানি, তিনি মারা যাবেন। এই পেইনটা আমি খুব ক্যারি করতাম। আমার মনে হয়েছিল, এর থেকে বেরোনোর জন্য, সামথিং আই মাস্ট ক্রিয়েট বাই মাই ওন। আমি সাহিত্য ভালোবাসি, আমি অভিনয় ভালোবাসি, মিউজিক ভালোবাসি— সেটাই অ্যামালগ্যামেটেড হয়ে… একমাত্র সিনেমা হয়…।

সুমিত একটা কম্বাইন্ড কিছু…

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। আরেকটা জিনিস হচ্ছে, অনেক জায়গায় বলেছি, তুমি শুনে থাকবে, সিনেমায় এক জীবনে অনেক জীবন বাঁচা। এইটা আমাকে খুব অ্যাট্রাক্ট করেছিল। আমি যেমন, যিনি চলে যাচ্ছেন তাঁর যন্ত্রণাটাও নিতে চাই, আবার যিনি সকালবেলায় হাসতে হাসতে মাছ বিক্রি করছেন, তাঁর জীবনটাও নিতে চাই। এই দু’টো একমাত্র সিনেমায় মেশানো সম্ভব।

আরও পড়ুন: সাম্প্রতিক বাংলা সাহিত্যের নিরিখে বিরলতমদের একজন হাসান আজিজুল হক

সুমিত এখানেই জিজ্ঞেস করি, আপনার তো তাহলে একটা ব্যাকগ্রাউন্ড দরকার ছিল। অজস্র ছবি তো দেখেছেন নিশ্চয়, কিন্তু যখন ফ্লোরে নামছেন তখন…

ইন্দ্রাশিস না, পরে দেখেছি। যখন দু’হাজার দশে ছবি করতে শুরু করি, তখন অত ছবিও দেখিনি।

সুমিত আচ্ছা, আচ্ছা। তাহলে, আত্মবিশ্বাসটা জন্মাল কোথা থেকে যে, আমিও বানাতে পারি। আপনার প্রথম কাজ তো শর্ট ফিল্ম। ইংরেজিতে বানিয়েছিলেন।

ইন্দ্রাশিস জানি না, কী করে! শর্ট ফিল্ম খুব খারাপ বানিয়েছিলাম…

সুমিত পুরস্কৃত তো!

ইন্দ্রাশিস সে তো অনেক কিছুই পুরস্কৃত হয়। সবই কি ভালো হয়। পুরস্কার এখন খুব ভেক জায়গায় গেছে। জাতীয় লেভেলে আরও খারাপ।

সুমিত কিন্তু, আপনার পুরস্কার তো আর যোগাযোগের সূত্রে নয়। সৎভাবে পাওয়া। আপনি তো জানতেনই না পর্যন্ত যে, পুরস্কৃত হয়েছে।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। আজ অবধিও তাই। আমি আমার মতো কাজ করে যাই। করে থাকি, করি না।

সুমিত সেই হিসেবে তো কিছু নিশ্চয়ই ছিল ছবিটার মধ্যে। হতে পারে, আপনার এখন ভালো লাগে না, এই মানের কাজ করে ফেলার পর..।

ইন্দ্রাশিস একটা সততা ছিল, ইমোশন ছিল। কিন্তু, সত্যি খারাপ কাজ। আমি কাউকে দেখাতেও চাই না। তবে, পুরস্কার পেয়েছিল, নগদ টাকাও পেয়েছিলাম। এর ফলে যেটা হল… ওই যে মানুষের ফল্‌স কনফিডেন্স হয়। সেই ফল্‌স কনফিডেন্সেই আমি দ্বিতীয় ছবি করেছিলাম। দ্বিতীয় ছবিটা ওঁর থেকে বেটার, মোটামুটি একটা হয়েছিল, কিন্তু অনেক অ্যাওয়ার্ড পেল। তারপরের ছবিটা আর একটু বেটার হল। আজও আমার যারা বন্ধু, কমবয়সের বন্ধু— যারা ছবি দেখে, আমার কথা নয়, তারা সিনেমা বোঝে, নিউট্রালি জাজ করে বলেই মনে হয় আমার— তারা বলে আর কী, এখন পর্যন্ত আমার একটা ছবি থেকে পরেরটাতে ক্রাফটিং— ছবিটা বলছি না— ক্রাফটিং বেটার হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের কিছু সাহিত্য সাময়িকী ও লিটল ম্যাগাজিন

সুমিত সেই প্রসঙ্গে আসব আমরা। আরও একটা কথা জিজ্ঞেস করে নিই। এই যে, এক অর্থে আপনি নেমে পড়লেন কাজে, সেভাবে ভাবেননি হয়তো যে… কী বলব… প্রস্তুতির বিষয়টা, মনের তাগিদ থেকেই করা…। শেখার কিছু আগে থেকে ভাবেননি।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এস্কেপ রুট ফ্রম মাই লাইফ। ভালো লেগে গিয়েছিল। যেটা ভেবেছিলাম, সেটাই ঘটেছিল। আনন্দ দিয়েছিল পুরো ব্যাপারটা।

সুমিত তখন ফ্লোরে পৌঁছে কোনও অস্বস্তি হয়নি? মনে হয়নি, আমি সেভাবে তো জানি না, বা অনভিজ্ঞ, এই অর্থে?

ইন্দ্রাশিস না, না।

সুমিত অর্থাৎ, সেই আত্মবিশ্বাসটা ছিলই।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। বিশ্বাস করো, আমি কোনোদিন ফ্লোরেও যাইনি সিনেমা করার আগে।

সুমিত সেটা তো আরও বড় ব্যাপার তাহলে! মানে, আপনার ভিজ্যুয়াল সেন্সটা ছিল, বলতে পারি। আচ্ছা, আপনি যখন ছবি বানাতে যাচ্ছেন, আপনার মাথার ভিতর কি কোনোরকম আইডিয়া ছিল যে, কীরকম ছবি বানাতে চান? কীরকম বলতে আমি কোনও পরিচালকের কথা বলছি না। ঘরানা বলতে যা বুঝি আমরা। যেমন, সংগীতে বা সাহিত্যে হতে পারে। সেরকম কিছু।

ইন্দ্রাশিস সেরকম কিছু ছিল না। তখন আমি যে-ফিলজফিতে সিনেমা বানাতাম, আজ সম্পূর্ণ অন্য ফিলজফিতে বানাই। কারণ এখন, মনে হয়, ক্রাফটের ওপর কিছুটা দখল হয়েছে। আমাদের রিসোর্স খুব কম তো। রিসোর্সের কথা মাথায় রেখেই বানাতে হয়। এটা গর্বের জায়গা যে, এই রিসোর্সেই এই ছবি বানাতে পেরেছি। তাও ছবি একটা জায়গায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: হানাবাড়ির কথা

সুমিত তাহলে, বলতে পারি আপনার প্রসেস অনেকটা অরগানিক। মানে, সিনেমা করতে করতে তৈরি হওয়া? চিত্রনাট্যও তাই?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এরপর আমি অনেক সিনেমা দেখতে শুরু করি। সেখান থেকে চিত্রনাট্যের স্ট্রাকচার, কতটা মিনিমাল করা যায়, তার ভিজ্যুয়ালাইজেশন। সিনেমার ল্যাঙ্গুয়েজ আমি এক্সপ্লোর করি অনেক পরে। এখন সিনেমার ল্যাঙ্গুয়েজ অনেক বেশি ইম্পরট্যান্ট আমার কাছে। যেন প্রকৃত সিনেমা যাতে হয়ে ওঠে।

সুমিত প্রশ্নটা পরে করব ভেবেছিলাম, এখনই তাহলে জিজ্ঞেস করি। আপনি একটা সিনেমা দেখছেন। দেখে, কীভাবে বলবেন যে, ভালো পরিচালকের বানানো।

ইন্দ্রাশিস কী করতে চাইছেন, কতটা দেখাতে পেরেছেন, কতটা রিয়ালিজম—যদি রিয়ালিজমে ফোকাস করেন— তার ডিসকোর্সে ডিপেন্ড করে। ডিসকোর্স কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ছবিটা। এবং যে-বিষয়টা দেখাতে চেয়েছেন, সেই বিষয়টা—আমি গল্প কখনও বলি না— যে-চলন ছবিটার মধ্যে, সেই চলন নিজের ভিতরে ইনহেরিট করতে হবে।

সুমিত গ্রিপটা কতটা? কতটা ধরে রাখতে পেরেছেন?

ইন্দ্রাশিস দেখো, ধরে রাখতে পেরেছেন বলতে, ধরে না-রাখলেও যে, একটা ছবি খারাপ তা নয়। মানে, এগুলো অনেক প্যারামিটারের ওপর ডিপেন্ড করে। একটা তাল থাকে, এই তালটা যাঁরা সিনেমা বোঝেন, তাঁরা বুঝতে পারেন। যেমন, প্রতিটা গানের সহজ গ্রামার হচ্ছে, তাল কেটেছে কিনা। তাল কাটলে গানটা খারাপ। সুর হয়তো বাজে, গেয়েছেও বাজে, আবার ভাল্লাগছে না শুনতে, কিন্তু গেয়েছে ভালো। এমনটা হতে পারে তো?

আরও পড়ুন: একটি লিটল ম্যাগাজিন ও মৃণাল সেন

সুমিত হুম, সুরের থেকেও তাল-জ্ঞান যাকে বলে। অর্থাৎ রিদম?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, রিদম ভালো, সুর খারাপ, বা সুর ভালো, রিদম খারাপ, বা দু’টোই ভালো, তুমি গেয়েছ খারাপ— সিনেমায় এরকম অনেক কিছু অলিখিত প্যারামিটার সিনেমায় থাকে। অলিখিতও না, আমার কাছে অনেক কিছুই লিখিত। অ্যাবসোলিউট টার্মসে লিখিত, নন-অ্যাবসোলিউট টার্মসে লিখিত, সাবজেক্টিভ আছে অনেক কিছু— সে অনেক বড় আলোচনার বিষয়। সেটা আমার ভিতরে কাজ করে, আমি বুঝতে পারি।

সুমিত আমি আগেও বলেছেন যা জানি, ছেলেবেলায় আপনি সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, বা ভালোবাসতেন। আপনার প্রথম ছবিতে কি ওই একটা জায়গা এসেছিল? আমি এবার প্রথম ছবিতে আসছি আর কী। যেহেতু অনেকে বলেন, প্রথম গল্প বা উপন্যাস নাকি আত্মজৈবনিক হয়। বলছি না, নিজের জীবনটা লিখে দেওয়া হবে। কিন্তু, জীবনের কোনও কোনও অংশ তো প্রথম কাজে রিফ্লেক্ট করে যায়।

ইন্দ্রাশিস প্রথম ছবির কথা বলছ তো?

সুমিত হ্যাঁ, ‘বিলু রাক্ষস’।

ইন্দ্রাশিস আমি আজ অবধি যা ছবি করেছি, সবেতেই মোটামুটি, আমার অভিজ্ঞতার একটা না একটা জায়গা থেকেই গেছে। যেখানে অভিজ্ঞতা নেই, সেটা এক্সটেন্ডেড অভিজ্ঞতা। মানে, আমি পড়ে গিয়ে আমার লেগেছে, সেই পড়ে যাওয়াটা যদি যাওয়া যদি আরও গভীর হত, আমার কতটা লাগত।

আরও পড়ুন: পিকাসোর আলো, পিকাসোর অন্ধকার

সুমিত আচ্ছা! দেখতে চাইছেন, আরও কী সম্ভাবনা থাকতে পারত।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। আমরা বাড়ির ঝিলে যখন ছোটবেলায় খেলতাম, তখন সাঁতরে অনেক দূরে গিয়ে, ডুব দিয়ে মাটি তুলে আনার একটা খেলা ছিল। এবার সেটা যদি গঙ্গায় খেলতে যাই… গঙ্গায় তো খেলিনি কোনোদিন… সেই স্কেলটা আমার কাছে পরিষ্কার হতে হবে। মানে, গঙ্গায় কতটা কী হতে পারে, কতটা আন্ডার-কারেন্ট থাকতে পারে এসব। এই স্কেলেবিলিটি আমার কাছে একটা ইম্পরট্যান্ট ফ্যাক্টর। যেটা জীবনের ক্ষেত্রে কাজে লাগে। আমার নিজস্ব ডিভোর্স কোনোদিন হয়নি, কিন্তু ডিভোর্সের যন্ত্রণাটা আমি বুঝি, আমার বাবা হারিয়ে যাননি, বাবা আছেন কিন্তু বাবা পিতৃবিয়োগ আমি বুঝতে পারি। এটাই… আমি এই প্যারামিটারে আবদ্ধ ছিলাম, সেই পেরিফেরিতে আবদ্ধ ছিলাম। এখনও আছি ইনফ্যাক্ট। মানে, ‘পার্সেল’-এর মতো ঘটনা আমার জীবনে ঘটেনি। কিন্তু, আমি আন্দাজ করেছিলাম হলে কী হতে পারে। এই ধরনের মহিলা আমি দেখেছি, এই ধরনের পুরুষ আমি দেখেছি…।

সুমিত এখানে স্কেলের কথা থেকেই জানতে চাই, আপনি যখন শর্ট ফিল্ম বানাচ্ছেন, তারপর ফিচার ফিল্ম পরিকল্পনা করলেন, তার স্কেল তো বাড়ল। তার অ্যাডজাস্টমেন্ট করলেন কীভাবে, সেটা কি অনেক কিছুই বদলাল?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। অনেক কিছু বদলাল। কারণ, ছোট ছবি আমার লার্নিং ফেজ ছিল। চারটে ছবি আমি হাত পুড়িয়ে শিখেছি। এবার ছোট ছবিতে যেটা আমি দেখতে শিখলাম, ভাস্ট-স্কেলে কীভাবে ছবি ভাবা যায়। আমি যখন প্রত্যেকটা বিগ থিয়েটারে সিনেমা দেখি, সেটা একটা উইন্ডো। সেই উইন্ডো তো একেকজন একেক অ্যাসপেক্ট রেশিওতে ব্যবহার করে। কেউ ওয়ান ইচ টু ওয়ান, কেউ ওয়ান পয়েন্ট সিক্স সিক্স ইচ টু ওয়ান, কেউ ফোর ইচ তো থ্রি করে, কেউ সিক্সটিন ইচ তো নাইন। এবার, ওইভাবে যখন আমি সিক্সটিন ইচ টু নাইনে দেখছি, তখন ওই ক্যানভাসে আমার স্কেল-আপ করতে পারলাম। আমার ক্যামেরা কত দূরে থাকলে, অত বড় স্ক্রিনে নৌকোটা জলে ভাসলে সামঞ্জস্য থাকবে, কেমন লাগবে এবং আমার হৃদয় কোথায় বিগলিত হবে আর কী।

আরও পড়ুন: ৭৮ বছর পরেও আলোচনার বৃত্তে নেই রানি অফ ঝাঁসি ব্রিগেড

সুমিত মানে, অনেকটাই পারসেপশন থেকে? নিজের ভিতরে ঢুকে দেখা?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এছাড়া ডেপথ অফ ফিল্ড ওয়ার্ক অতটা ভাবতাম না ছোট ফিল্মের সময়। বড় ফিল্মের সময় সেটা গুরুত্বপূর্ণ হল। চরিত্রের যে বিল্ড-আপ ও বিস্তার, যেটা ছোট ছবিতে জায়গা পাচ্ছিলাম না, সেটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল। বিস্তারটাও খুব ভালো করে দেখানো গেল।

সুমিত তাহলে প্রথম ছবি ‘বিলু রাক্ষস’ নিয়ে একটু আলোচনা করব। আমার তো খুবই প্রিয় ছবি। আপনাকে বলেওছি কিছুটা। আলোচনাও হয়েছিল। তার আগে জিজ্ঞেস করি, আপনি বলেওছেন আগের ইন্টারভিউতে যে, পূর্ব-ইউরোপের বিভিন্ন ছবি থেকে আপনার প্রাথমিক শিক্ষাটা আনতে চেয়েছেন। এই পূর্ব-ইউরোপের প্রেক্ষিত আপনি কেন পছন্দ করছেন। এটা যদি একটু আগে বলেন…

ইন্দ্রাশিস পূর্ব-ইউরোপের প্রেক্ষিত পছন্দ করছি কারণ, সিনেমা শেখার জন্য। কারণ, হলিউড সিনেমা দেখার জন্য, শেখার জন্য নয়। কারণ, আমাদের যা আর্থিক সঙ্গতি, যা আমাদের ক্ষমতা, যা আমাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সেখানে হলিউডের একটা ছবিতে যা খরচা হয়, তাতে আমাদের অনেক ছবি হয়ে যাবে। ওটা আমি দেখতে পছন্দ করি। কিন্তু, যখন আমি ইস্ট-ইউরোপিয়ান ছবি দেখতে শুরু করলাম, তখন আমার মনে হয়েছিল, এইটা যদি আমি রিপ্লেস করি— এরকম একটা ক্রাফট— ইন্ডিয়ার এরকম স্ট্রাকচারে… ওরা যেভাবে ক্যামেরা নিয়ে চলা-ফেরা করে। এভাবে মাইকেল হ্যানেকে থেকে শুরু করে, এমির কুস্তুরিকা— এঁদের ছবি দেখা যখন শুরু হল। ক্যামেরা প্যানিং, স্লো মুভমেন্ট, স্লো সিনেমা— সবই দেখতে শিখলাম আস্তে আস্তে। এখান থেকে তখন আমার মনে হল যে, নিজের একটা নতুন সিগনেচার তৈরি করার চেষ্টা করি। যদি করে কিছু লাভ হয় না এখানে (হাসি)…। চেষ্টা করে যাচ্ছি আর কী!

আরও পড়ুন: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্থাপি সব ঘরে ঘরে’: সঞ্চয়ই লক্ষ্মী

সুমিত এটা তো শর্ট ফিল্ম বানিয়ে ফেলার পরেই? মানে যখন আপনি ফিচার ফিল্ম করার কথা ভাবছেন?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, আমি অনেকদিন ধরেই ফিচার ফিল্ম করার কথা ভাবছিলাম।

সুমিত এবার তাহলে ‘বিলু রাক্ষসে’ আসি। আমার তো কত কিছুই ভালো লেগেছিল। কথাও হয়েছে সে নিয়ে। যেটা বলা হয়নি… একটু বলি, এতে আমার বলাই বেশি হয়ে যাবে যদিও। বলি তাও…। ক্যামেরা মুভমেন্ট আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছিল। একটা দৃশ্য আছে, বিলুর মা যখন আত্মহত্যা করবেন, তার আগে। দু’টো ঘর পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, আর বিলু সিঁড়ির পাশ দিয়ে নেমে যাবে। এবং ক্যামেরা স্থির। আমরা যেন, নিরপেক্ষভাবে দেখছি, কী করছে এরা। এই জায়গাটা। আবার আগের একটা দৃশ্যে, বিলুর বন্ধু যখন মারা যাচ্ছে, ওই বোর্ড মিটিংয়ের সময়, তখন ক্যামেরা মুভমেন্ট সম্পূর্ণ আলাদা। আবার সেই বন্ধুর মৃত্যু দৃশ্যে, ওপর থেকে ক্যামেরা প্যান করছে বা ট্রলি ব্যবহার করা হয়েছে ওপর থেকে নিচে—এই যে ক্যামেরার ব্যবহার, আমার যেন মনে হচ্ছিল, আমরা যেন খালি দেখছি এদের। এরা নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছে, আমরা শুধু দেখে যাচ্ছি। এটা কি আপনার ছবির একটা পার্সপেক্টিভ বলা যায়? আপনি চরিত্রদের ক্যামেরার সামনে ছেড়ে দিয়েছেন?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। আমার তিনটে ছবিতেই কিন্তু তুমি এটা দেখতে পাবে।

সুমিত মানে আপনি কিছু বলতে চাইছেন না। দর্শকরা নিজের মতো করে ইন্টারপ্রিট করে নেবেন?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, আমি আমার জায়গা বেছে নিয়েছি। এই জায়গা থেকে এই পরিবার, এই চরিত্রকে, এই ঘটনাকে লক্ষ করছি।

আরও পড়ুন: মৃণাল সেনের ‘ইন্টারভিউ’: মধ্যবিত্তের সংকট

সুমিত ‘বিলু…’ তো বেশ সফল। পরিচিত পেয়েছে, বিদেশে গেছে, পুরস্কৃত হয়েছে। এছাড়া ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আসার পর মনে হয়, আরও অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছে। এই প্রসঙ্গে ওটিটি নিয়ে একটা প্রশ্ন শুধু জিজ্ঞেস করি, আপনি যখন কাজ শুরু করছেন, তখন কি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এসেছে?

ইন্দ্রাশিস না, না।

সুমিত তাহলে কি আপনার মনে হয় যে, ওটিটিতে কাজ করার জন্য আলাদা করে কিছু জানতে হবে, বুঝতে হবে?

ইন্দ্রাশিস ওটিটির কাজ করার কথা আমি এখন কিছু ভাবছি না। কারণ, আমি সিনেমাটাকেই এখনও বড় করে দেখি। ওই যে বললাম না… অ্যাপেক্ট রেশিও যা বললাম।

সুমিত ক্যানভাসটা?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, ক্যানভাসটা। এছাড়া সাউন্ডের লেয়ার… যদিও ওটিটিতে সাউন্ডের ওপর জোর দিচ্ছে।

সুমিত তবুও ক্যানভাসটাই একটা বড় ব্যাপার। হলে বসে দেখার এক্সপেরিয়েন্স…

ইন্দ্রাশিস একটা তো হলে দেখার টেকনিক্যাল অ্যাস্পেক্ট। ক্যানভাসটা। আরেকটা হল, সোশ্যাল অ্যাসপেক্ট। এতজনের সঙ্গে বসে ছবি দেখছি। এতজনের সঙ্গে আমার এক্সচেঞ্জ অফ নলেজ। এটাও আমার কাছে ইম্পরট্যান্ট।

আরও পড়ুন: মৃণাল সেনের ‘খণ্ডহর’ ও কালিকাপুর রাজবাড়ি

সুমিত আচ্ছা। সত্যিই এটা গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম বলতে যা বোঝায়।

ইন্দ্রাশিস ওটিটি ডি-সোশ্যালাইজেশন কিছুটা। আমি ঘরে বসে দেখছি। আমার জন্য সিনেমাটা যেন তৈরি। হয়তো ফোন করে বললাম। কিন্তু, সিনেমার এক্সপনেনশিয়াল গ্রোথ যে হয়, একসঙ্গে পঞ্চাশ-ষাট জন বসে দেখলে। তারাও আরও কুড়িজনকে বলল, তার থেকে দশজন দেখতে এলো।

সুমিত এটা তো ‘বিলু…’তেও এসেছে, তাই না? একাকিত্ব। একা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছিন্নতা। থিমগুলো নিয়ে বলছি। আমার মনে হয়েছে, তিনটে ছবিতে যা দেখেছি। মৃত্যু একটা গুরুত্বপূর্ণ থিম হিসেবে এসেছে। তাই না? জানি না, আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে কিনা। যেভাবে শুরু হয়েছে আপনার মায়ের প্রসঙ্গ  থেকে…। মৃত্যু বা দুরারোগ্য ব্যাধি, যা কোনোদিন সারবে না, ধীরে ধীরে নিয়ে যাচ্ছে মানুষকে মৃত্যুর দিকে… কেউ কিছু করতে পারছে না দেখে— এগুলো কি ক্রাফটে সচেতনভাবে তৈরি?

ইন্দ্রাশিস না। একদমই সচেতনভাবে তৈরি নয়। আমি আগেও বলেছি, আমি খুব ইন্সটিঙ্কটিভ ভাবে স্ক্রিপ্ট লিখি। এগুলো সেভাবেই এসেছে…। আর ফরটুনেটলি বা আন-ফরটুনেটলি এই ছবিগুলোই করতে পেরেছি, যেগুলোতে ওই ঘটনাগুলো আছে। আমার অনেক স্ক্রিপ্ট পড়ে আছে, আমি শেষ করতে পারিনি… মানে, কোথায় চলে যাচ্ছে, নিজেও জানি না। সেটা যদি কোনোদিন কনভার্জ করে… তবে হবে, ভাবি না। মানে, যখন মনে হয় একে অসুস্থ হবার জায়গা এসে গেছে, তখন অসুস্থ করতে হবে। এটা নয় যে আগে থেকে ঠিক করে রেখেছি, এ অসুস্থ হবে।

সুমিত মানে, কাকতালীয়ভাবে কোনও ঘটনা ঘটুক আপনি চাইছেন না? আমি পরিচালক, আমার সুবিধের জন্যও ঘটুক, এটা চাইছেন না। বাড়তে দিয়েছেন চরিত্রদের নিজের মতো।

ইন্দ্রাশিস একদম। আমি এখনও পর্যন্ত নিজের সুবিধে কোথাও দেখেনি। তিনটে ছবিতে।

আরও পড়ুন: আমার মহাশ্বেতা: একটি নির্বাচিত সাক্ষাৎকার

সুমিত একটু যদি বিদেশের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ঘটনাগুলি বলেন। ছবিগুলো তো উচ্চ প্রশংসিত। কিম কি দ্যুক স্বয়ং প্রশংসা করেছেন, যা জানি। ‘বিলু…’র ক্ষেত্রে সেগুলো প্রথমবারের অভিজ্ঞতা ছিল। যা বিশেষ কিছু। কীরকম সেসব?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, হ্যাঁ। অনেক অভিজ্ঞতা আছে। আমি হ্যানয় গেছি, চায়না গেছি, ইন্দোনেশিয়া গেছি। কিন্তু, ওইসব বড় ফেস্টিভ্যালে যেতে গেলে অনেক পরিশ্রম, অনেক কন্ট্যাক্ট। কান, বার্লিন এখনও হয়নি…। কিন্তু, যাঁরা প্রশংসা করেছেন, তাঁরাও যথেষ্ট বড় বড় মানুষ ছিলেন আর কী। বড় বড় কিউরেটর, বড় বড় প্রোগ্রামার। তখন কনফিডেন্সটা বেড়েছে।

সুমিত তখন কি ক্রাফট নিয়ে কথাও বলতেন? মানে, কিম কি দ্যুক যেমন। আলোচনার সুযোগ হত কি? রাউন্ড-টেবিল যেমন হয়…?

ইন্দ্রাশিস যেমন অ্যালান স্টারস্কি— যিনি শিন্ডলার্স লিস্টের প্রোডাকশন ডিজাইনার ছিলেন— তিনি পিউপা দেখে অভিভূত হয়ে যান। বলেন, এত ভালো ছবি ইন্ডিয়া থেকে হচ্ছে, আমার ধারণা ছিল না। এবার কী হয়েছে, এঁরা ব্যক্তিগতভাবে যখন প্রশংসা করেছেন, তখন মনে হয়েছে, ছবিটা আরও বড় জায়গায় পৌঁছতে গেলে যে-পরিচিতি দরকার, সেইটা তো আমার হয়নি। তখন একটা আপশোস হয়েছে। আমার ছবিটা হয়তো আরও ভালো লোকের হাতে গেলে আরও ভালো জায়গায় পৌঁছত।

আরও পড়ুন: উত্তরা থেকে উত্তরণ: একটি সমষ্টিগত যাত্রা

সুমিত এই যে সমস্যাটা বলছেন, এটার মূল কারণ কী? দর্শক, ক্রিটিক সবমিলিয়ে একটা ভালো ছবিকে প্রশংসা করে পাঠাব এই প্রেক্ষাপটটাই নেই?

ইন্দ্রাশিস দর্শক শুধু নয়, ক্রিটিকদের ব্যাপার আছে। এঁরা যখন বলছেন আমার ছবি নিয়ে, এঁরা তো বিরাট বিরাট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জাজ হয়েছেন। যেমন, ভেনিসের জুরি ছিলেন যিনি, এখন নেই, তিনি আমার ছবি দেখে বলেছিলেন, অসাধারণ ছবি, আমরা হলে খুবই প্রশংসা করতাম। ইন্ডিভিজুয়াল লোক দেখে বলছেন। কিন্তু, এটা তো সমষ্টিগত নয়।

সুমিত সিস্টেমটা নেই কি?

ইন্দ্রাশিস সিস্টেমটা আছে। লোকে তো পৌঁছচ্ছে। সামহাউ আমার ক্ষেত্রে কোথাও গিয়ে এই জায়গাটা তৈরি হয়নি। হয়তো আমারও দোষ। এর জন্য একটা আলাদা পথ আছে। সেটা বাছতে হবে। যা এখনও হয়তো হয়নি। ফান্ডিং এনে, কোলাবোরেট করে, সেখান থেকে বাইরের লোকজনকে ইনভলভ করে, এটা একটা বিরাট প্রসেস। আমার ধৈর্য বা ক্ষমতা নেই।

সুমিত যদি এভাবে জিজ্ঞেস করি, একটা সময় বাংলা ছবি বিশ্বের দরবারে তো ভালোই পৌঁছত। সত্যজিৎ রায় হোক বা মৃণাল সেন বা তপন সিংহ। এখন তাঁদের বাংলা ছবি সম্পর্কে পারসেপশন কী? এখনও অনেক ইন্টারভিউতে দেখি, স্পিলবার্গ হন বা নোলান, সেই সত্যজিতের নামই করেন…।

ইন্দ্রাশিস আমার মতে, না এগোনোর কারণ সবথেকে এই রায়-ঘটক-সেন প্রমুখকে নিয়ে পড়ে থাকা।

আরও পড়ুন: উৎসবের ঋতু, ঋতুর উৎসব

সুমিত মানে, এর পরে কাউকে স্বীকৃতি জানানো হচ্ছে না সেভাবে?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, শ্রদ্ধা জানানোও শেষ হচ্ছে না, আর এই নিয়েই পড়ে আছি।

সুমিত মানে, ব্যক্তিপুজো জায়গাটা অনেক বেশি।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এগোতে গেলে, এঁদের কাজ থেকে এগোতে হবে। এঁরা তো ফাউন্ডেশন তৈরি করে গেছেন। একই ভিতের ওপর বারবার বাড়ি বানিয়ে গেলে বাড়ি তো আর আলাদা কিছু হবে না।

সুমিত অর্থাৎ নতুন পথ খোঁজার চেষ্টাটা…

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, নতুন পথ, নতুন সিগনেচার। সিনেমার নতুন ল্যাঙ্গুয়েজ আসছে, নতুন রকমের ক্রাফট আসছে।

সুমিত সবদিক থেকে নতুন, দেখে মনে হবে, আগে আমি দেখিনি?

ইন্দ্রাশিস নতুন বলতে ইউনিক সবসময় করতে বলছি না। কিন্তু, নিজের কিছু একটা। তার মধ্যে ওঁদের ক্রাফট থাক, ওঁদের থেকে শেখাটা থাক। সত্যজিৎ রায়কে মাথায় করে রাখো, পুজো করো। কিন্তু, ওইখানেই ঘোরাঘুরি করার কোনও যুক্তি আমি খুঁজে পাই না।

সুমিত আমি আপনার সাম্প্রতিকতম ছবি ‘পার্সেল’ সম্পর্কে একটু জিজ্ঞেস করি। আমি এটা আগেও কিছুটা জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমার মনে হয়, এটা আগের দু’টো ছবির থেকে কিছুটা আলাদা। প্রথম দু’টোকে হয়তো ইমোশনাল ড্রামা বলতে পারি, এটা অনেক বেশি সাইকোলজিক্যাল ড্রামা। এবার সাইকোলজিও ইমোশনাল ব্যাপার। কিন্তু, রেশিও হিসেবে বলছি, কোনটা, কতটা।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এটার ইমোশন কোশেন্ট খুব কম। অনেকের তাই ড্রাই লেগেছে।

সুমিত যেটা বলতে চাইছিলাম, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার বলতে যা বোঝায়, যেমন শেষে রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে। এমন ব্যাপারটা আসলে নয়, যা অনেকে মনে করেছেন। এটা অনেকটা নিজের ভিতরে মানুষটাকে খুঁড়ে খুঁড়ে কতদূর যেতে পারি।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ।

সুমিত সেই হিসেবে বলি, আপনি তো চাইছেন একটা সেতু তৈরি করতে, দর্শকের সঙ্গে যে, দর্শক বুঝবে আপনার আসল উদ্দেশ্যটা এবং নিজের মতো করে ইন্টারপ্রিট করবে।

ইন্দ্রাশিস তিনটে ইন্টারেস্টিং জিনিস আমি করতে চেয়েছিলাম। এক, নন-এক্সপ্লিসিট হবে। কিছুই এক্সপ্লিসিট নয়। যেমন, বনবাদাড় থেকে একজন ঢিল ছুড়ে মারল তোমার মাথায়, তোমার মাথা ফেটে গেল— তুমি তখন কে ঢিল ছুড়েছে খুঁজবে না, খুঁজবে সামনে কোথায় ডাক্তারখানা… সেখানে যাবে।

সুমিত ঠিক ঠিক, খুব ভালো কথা।

ইন্দ্রাশিস কিংবা পুকুরে ঢিল ছুড়েছে, সেই ঢেউটা দেখছি। ঢিলটা কে ছুড়েছে জানি না। এই যে ঢেউটা তৈরি হচ্ছে, ভিতরে, এটাই আমার ছবির বিষয়বস্তু ছিল। দুই, ইন্টার‍্যাক্টিভ। আমি আমার মতো করছি, কিছু ডট দিচ্ছি, তুমি দর্শক তোমার মতো ভাবো, জয়েন করো ডটগুলো। তিন, ওপেন-এন্ডিং। একদমই ওপেন-এন্ডিং। যতটা ওপেন-এন্ড হতে পারে, তার থেকেও বেশি।

সুমিত একটা লুপের মতো মনে হয়েছিল। একটা শেষ হয়ে আরেকটা শুরু হল যেন।

ইন্দ্রাশিস এটাই আমার কাছে ইম্পরট্যান্ট। নো বডি ইস ফেয়ার। তুমি যাকে এত ভরসা করেছিলে, সেও একই পর্যায়ে চলে গেল। যে অভিযোগ করছিল, সেই একই অভিযোগে অভিযুক্ত হল। একটা ‘বার্ডস আই ভিউ’ দিয়ে ছবিটা শেষ করেছি।

সুমিত একটা কথা আপনাকে আগেও জিজ্ঞেস করেছিলাম। শাশ্বতর চরিত্রটি যার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল, যার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্কের আঁচ দেখানো হয়েছে। তাকে সিনেমায় একবারও দেখানো হয়নি। আমি ভাবছিলাম, তার কণ্ঠস্বরও যদি না শোনানো হত। সেটা কি খুবই জটিল হয়ে যেত দর্শকের পক্ষে?

ইন্দ্রাশিস এতেই কূলকিনারা পাচ্ছে না দেখছ।

সুমিত এখানে একটা কথা বলতেই হয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও তাই। একটা ভালো কাজ করলাম, নতুন ধরনের কাজ, বাংলায় তো বটেই, জানি না ভারতীয় সিনেমাতেও আগে হয়েছে কিনা। সেরকম জিনিসের সঙ্গে যদি দর্শক কানেক্ট করতে না পারেন— আমার ব্যর্থতা হয়তো নেই— তখন খারাপলাগাটা কেমন? তখন কি মনে হয়, এরকম কাজ আরও করব?

ইন্দ্রাশিস আমি আবারও বলছি, আমাদের মতো ফিল্ম-মেকারদের ক্ষেত্রে, যাঁরা পরের ছবিটা করতে পারবে কি না সন্দেহে থাকে…

সুমিত এত সাফল্যের পরও?

ইন্দ্রাশিস আমার একটা ছবির পর আরেকটা ছবি খুব সহজে আসেনি। এখন যেমন আমি কোনও ছবি করছি না। যেমন, পার্সেলের পর আমাকে তো খুব একটা কেউ অ্যাপ্রোচ করেনি। প্রচুর ছবি তো চারপাশে হচ্ছে। একটা উপেক্ষা আছে। দেখাতে চাইতে পারে, আমি কেউ নই, কিছু নই। আর আমিও এটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি নিজের মতো কাজ করার সুযোগ পেলে ডেফিনিটলি করব আবার। কিন্তু, ওই ব্যাপারটা আমার মধ্যে কাজ করে না যে, জোর করে পার্সেলের মতো ছবি করব কিনা। প্রতিটা ছবিই নিজের মতো করব। সে-হিসেবে দেখা যাবে, আমার তিনটে ছবিই কিন্তু তিনরকম। আর খুব ইন্টারেস্টিং হল, যে-হিন্দি ছবিটা আমি করেছি, ‘রেড ভেলভেট’— এটা সম্পূর্ণ আলাদা। এত ফাস্ট পেশড, ক্যামেরা প্রায় দাঁড়ায় না কোথাও। খুব মজা পেয়েছি করে।

সুমিত এটা তো রিলিসড নয়। হবে সম্ভবত। একটা প্রতিবেদনে পড়েছিলাম।

ইন্দ্রাশিস অ্যান্থলজি হবে, তিনজনের ডিরেকশন।

সুমিত এখনকার ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম-মেকার, যদি শব্দটা ব্যবহার করা যায়, তাঁদের মূল সমস্যা কী? দর্শক, প্রযোজক…

ইন্দ্রাশিস প্রযোজক তো মেইন সোর্স। তাছাড়া তো ছবি হয় না। আমি জানি আমার ছবি যা ব্যবসা করে, সেটা আরও অনেকেরই মতো। বা তাঁদের তাও করে না। কিন্তু, আমি যেহেতু চাকরি করি, বা আমি জানি না… আমার উত্তর দেওয়াটাও ভুল হবে। বা জানিও হয়তো… সবটা বলার মতো নয়। বললে, অন্যভাবে নেবে মানুষ।

সুমিত এর সঙ্গে বিদেশের, যেখানে গেছেন, সেখানকার সাধারণ দর্শক, ক্রিটিক— তাঁদের তফাত কোথায়? অনেক দীক্ষিত?    

ইন্দ্রাশিস যেমন, ডিওরামা ফিল্ম-ফেস্টিভ্যালে পার্সেল বেস্ট অডিয়েন্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। দর্শকরা বাড়িতে বসে দেখে, এটাকে পুরস্কৃত করেছেন। আর এখানে কে পার্সেল পাঠাচ্ছে জানা গেল না বলে, দু’ঘণ্টা নষ্ট হয়েছে বলে যেন জীবন শেষ হয়ে গেছে। আবার যখন এই পার্সেলের রিভিউ যখন লিখছেন গৌতম ভাস্করন কিংবা ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়— এঁরা প্রচণ্ড ভালো রিভিউ করেছেন। সাংঘাতিক রিভিউ। পড়লে দেখতে পাবে, কার কার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এবার অনেকে ‘ক্যাশে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন, বোকার মতো। একটা বিষয়ে ‘ক্যাশে’র সঙ্গে মিল আছে অস্বীকার করা যায় না। মাইকেল হানেকির।

সুমিত আমার মনে হয়েছে, ওই ছবিটি সম্পূর্ণভাবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে তৈরি। চেপে-রাখা ইতিহাস, যেটা প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইন্দ্রাশিস এগজ্যাক্টলি। আলজেরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে। অনেকে নিজেদের সিনেমার পণ্ডিত মনে করেন, তাঁরা এসব বলেন।  

সুমিত আর এটা মানুষের ভিতরের সংশয়, ভয় ইত্যাদি নিয়ে। দু’টোর থিমটাই আলাদা।

ইন্দ্রাশিস একেবারেই আলাদা।    

সুমিত যদি জিজ্ঞেস করি, একটা সময় সিনেমার দর্শক ছিলেন, তারপর সিনেমার পরিচালক হলেন, তিনটে ছবি ইতিমধ্যে হয়েছে, আরও আসছে। এক্ষেত্রে সিনেমা-প্রেমী হিসেবে আর ব্যক্তি-মানুষ হিসেবেও আপনার বিবর্তন কিছু হয়েছে?

ইন্দ্রাশিস আমার দারুণ মজা লাগে, আমার ছবি যখন বড় সিনেমা হলে প্রজেক্ট করে। মজা বলাটাও ভুল, টেনশন থাকে। আমি সিনেমাটা দেখার থেকে, দেখি দর্শককে। যখন কেউ উঠে যান, মনে হয়, যাহ এই জায়গাটা কি ঠিক হল না? মনে হয়, জিজ্ঞেস করি গিয়ে। যখন ফেস্টিভ্যালে প্রথম দেখানো হল, পার্সেল। এত ভিড় হয়েছিল। ভাবতেই পারিনি এরকম আমার ছবি দেখতে। এটা নন্দনে যখন রিলিজ করে। লকডাউনের আগে।

সুমিত তখন যে এত দর্শক দেখলেন, তাঁদের রেস্পন্স কেমন ছিল? নন্দনের দর্শকের তো কানেক্ট করতে পারা উচিত!

ইন্দ্রাশিস নন্দনে ‘হ্যাঁ’। সেখানে সৃজিত ছিলেন, অরিন্দম শীল ছিলেন। খুবই ভালো ফিডব্যাক ছিল। তবে, আগের দু’টো সিনেমা, ‘বিলু রাক্ষস’ ও ‘পিউপা’র থেকে যেন একটু কম। একটু কানেক্ট করতে পারছিলেন না।

সুমিত ইমোশনের দিকটা কম হওয়ায় হয়তো…

ইন্দ্রাশিস ইমোশন তো আসতেই দিইইনি আমি। একটাই দৃশ্য আছে, যেখানে অরুন্ধতীর বর, পঙ্গু হয়ে… ওই একটাই।

সুমিত ওই জায়গাটা নিয়ে বলি। ওই দৃশ্যগুলো অসাধারণ। যিনি অরুন্ধতীর চরিত্রে ছিলেন, দামিনী বসু, ওঁর অভিনয় তো দুর্দান্ত ছিল। একটা হাত-ধোয়ার দৃশ্য। আর একটা দৃশ্য, ঋতুপর্ণার চরিত্রটি যখন সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছে, আচমকাই কথা শুনতে পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। ওই দৃশ্যগুলো একইসঙ্গে সিনেম্যাটিক ও বাস্তব। দু’টোই, যেটা করা বেশ কঠিন। কারণ সিনেম্যাটিক বলতে আমরা ভাবি, লার্জ স্কেলে কিছু বানানো। সেটা নয়। আরেকটা কথা বলি, মানুষ হিসেবে বিবর্তন কতটা, যে-প্রশ্নটা আগে করলাম।

ইন্দ্রাশিস আমি ভাবিনি, আমার ছবি হলে দেখানো হবে। খুব যে বিবর্তন হয়েছে মনে হয় না। এই যে বললাম, আমি নিজের ছবি হলে দেখছি। এটাই একটা বড় পাওয়া। ভেবেছিলাম, একটা ছবি বানাব। সেখানে থেকে তিনটে ছবি বানিয়েছি। আরও যদি সুযোগ পাই, বানাবার ইচ্ছে আছে। তবে, নিজের জায়গাটা ছাড়ব না। এবং আমি যখন দর্শক ছিলাম, এবং আমার তখন যা-যা ভালো লাগত, এই ভেবে কিন্তু আমি সিনেমা বানাই না। এটা বড় কথা বলতে পারি।

সুমিত আচ্ছা, আচ্ছা!

ইন্দ্রাশিস আমি ব্যক্তিগতভাবে ইমোশনাল সিনেমা অসম্ভব ভালোবাসতাম। তারপর, যখন ইউরোপিয়ান সিনেমা দেখতে শুরু করলাম। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, তপন সিংহ— তপন সিংহ আমার অসম্ভব প্রিয়। তখনও যেমন তাঁকে ভালো লাগত, এখনও লাগে। আমি ওঁর মতো ছবি করতে চাইতাম। কিন্তু আমার ইস্ট-ইউরোপিয়ান সত্তাটা এত বেশি করে প্রভাব ফেলে যে, আমার সিনেমায় ইমোশন যেন কেটে দেয়। যেটা আমাদের দর্শকরা পছন্দ করেন। অনেকে বলেন যে, ইমোশন বলে কিছু থাকে না। যেমন, ‘পিউপা’তেও তো ইমোশান বলে কিছু ছিল না।

সুমিত চাইলেই করা যেত। অনেক কান্নাকাটি করানো যেত…

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এমন একটা মৃত্যু ঘটল, কেউ কাঁদল না। কেউ চা চাইছে। ফলে, অডিয়েন্সের কাছ থেকে অনেকরকম কথা শুনতে হয়। আবার একটা বিরাট অংশের অডিয়েন্স যখন সাপোর্ট করেন। এবার আস্তে আস্তে এটা হয়তো বাড়বে। যদি আরও ছবি করার সুযোগ হয়। হয়তো একটা নিজের পরিচিতি তৈরি করতে পারি।

সুমিত আমার মনে হয়, তিনটে ছবিতেই ইমোশন চাইলেই ভর্তি করে দেওয়া যেত। কারণ, বিষয়গুলো ইমোশনাল হতেই পারে।

ইন্দ্রাশিস ‘বিলু রাক্ষস’-এ গানটা ভীষণ অপছন্দ হয় আমার। কেন যে একটা গান দিলাম। কিন্তু, ওটা তো অর্কেস্ট্রেশন অফ ফ্যামিলি ছিল, গানটা বেজে উঠেছে গোটা ফ্যামিলির মধ্যে। আজকে হলে হয়তো আমি গানটা রাখতাম না। এবং হয়তো মিউজিক কমিয়ে দিতাম। কিন্তু, ‘বিলু রাক্ষস’ এক ধরনের পাগলামির এক্সপেরিমেন্ট বলা যায়। নিজেদের টাকায়, অনেকে মিলে ছবিটা করেছিলাম। খুব আনন্দ করেছি।

সুমিত আমার কিন্তু মনে হয়েছে, ছবিটা যে গতিতে চলছিল, এক ধরনের চেপে রাখা। ওই গানের জায়গাটা আসার ফলে ডিস্টার্বড ব্যাপারটা গানের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এলো।

ইন্দ্রাশিস এই মিউজিকটা দরকার ছিল মনে হয়। অনেকে বলেছেন, গানটা এসে বাঁচিয়েছে। দমবন্ধ করা ছবি তো। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।

সুমিত আমার গানের জায়গাটা খুব ভালো লেগেছিল। একটা ডিস্টার্বড চরিত্র। মনে হল তার থেকে বেরিয়ে এলাম।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, খুবই ইমোশনাল জায়গা। আমার পছন্দের জায়গা।

সুমিত এবার জিজ্ঞেস করি, সিনেমাকে তো বলা হয় পরিচালকের মাধ্যম—‘ডিরেক্টর’স মিডিয়াম’। যদিও বাকি সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, যদি কোনও ভালো অভিনেতা বা সুরকার যদি বলেন যে, এই জায়গাটা এভাবে করলে ভালো হয়। তিনিও হয়তো অনেক অভিজ্ঞ ও দক্ষ। কিন্তু, আপনার মনে হচ্ছে অন্যভাবে করলে ভালো হয়। তখন কীভাবে ভাববেন? আমি কনফ্রন্টেশনের কথা বলছি না…।

ইন্দ্রাশিস কনফ্রন্টেশন আমার সঙ্গে কখনও কারও হয়নি। আমি ছবির আগে থেকেই সবাইকে ইনভলভ করি। আমরা খুবই মিশে গিয়ে কাজ করি। বারবার যখন স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমি ওপেন তো আদার’স ফিডব্যাক অ্যান্ড অ্যাডভাইস। আমার যেটা মনে হয় আমি নিই। যেটা মনে হয় না, সেটা নিয়ে যুক্তি দিয়ে তর্ক করি। যখন ফাইনাল স্টেজে যাই, তখন সবাই একটা জায়গায় থাকে। যেমন, মিউজিকে শুরু থেকেই আমি জয় সরকারের কাজ করি। জয় আমাকে অনেক মিউজিক পাঠায়। আমি রিজেক্ট করি, অ্যাকসেপ্ট করি। তারপর, একটা জায়গায় আসি যেখানে কোনও তর্ক থাকে না। 

সুমিত এবার কয়েকজন বিখ্যাত পরিচালকের নাম করে বলি, তাঁদের কোন গুণ আপনি নিজের কাজে নিতে চাইবেন। সত্যজিৎ রায়।

ইন্দ্রাশিস ডায়লগ।

সুমিত ডায়লগ রাইটিং? ঋত্বিক ঘটক।

ইন্দ্রাশিস বিস্তার। ইমোশন।

সুমিত মৃণাল সেন।

ইন্দ্রাশিস স্মার্টনেস। রিয়ালিজম।

সুমিত একটা যদি জিজ্ঞেস করি। উনি যেভাবে ন্যারেটিভ থেকে ভাঙছেন, ইউরোপীয় অনুপ্রেরণা থেকেই কিছুটা। সেটা কি আপনাকে প্রভাবিত করে?

ইন্দ্রাশিস ভীষণ, ভীষণ।

সুমিত তপন সিংহ।

ইন্দ্রাশিস ওঁর গল্প বলার ধরন। এত ভালো লাগে। যেন, দুপুরবেলা জানলার ধারে বর্ষার দিনে, গল্পের বই পড়ার মতো।

সুমিত তরুণ মজুমদার।

ইন্দ্রাশিস আমার ইমোশনাল ছবি খুবই ভালো লাগত একসময়। আমি নিজে যা-ই বানাই না কেন। ‘দাদার কীর্তি’ আমার খুবই প্রিয় ছবি। যেমন টেকনিক্যালি নাহলেও, ‘অপুর সংসার’ আমার খুব প্রিয় ছবি। মফস্‌সল আমি খুবই পছন্দ করি। আমার যদি ওরকমই বাড়ি হত, ছোট্ট ঘর হত, ওরকম জীবন হত। এগুলো কল্পনা করি, একটা কল্পনার জায়গায় আমাকে নিয়ে যায়। ‘দাদার কীর্তি’ও তাই। ওরকম যদি বন্ধুবান্ধব হত, সহজ-সরল জীবন, প্রেম। জানি না, কোনোদিন ওরকম সিনেমা বানাতে চেষ্টা করব কিনা। যেহেতু, বানানোর অপশন কম তাই নিজের দখলটাই বেশি করতে চাই।

সুমিত ‘দাদার কীর্তি’ কি মিউজিক্যাল ছবি বলবেন?

ইন্দ্রাশিস নাহ। নয়।

সুমিত আপনার ক্রিয়েটিভ প্রসেসে কি গান শুনে, কবিতা পড়ে, বা আঁকা ছবি দেখে— নাটক বা গল্প থেকে তো হতেই পারে— কোনোরকম অনুপ্রেরণা আসে?

ইন্দ্রাশিস আগে আসত। এখন আসে না কারণ আবার ছবি বানাতে পারব সেই কনফিডেন্স আমার মধ্যে গ্রো করে না।

সুমিত এটা কেন বলছেন? সম্ভবনা কম বলে?

ইন্দ্রাশিস মানে, আমার সম্ভবনা কমই লাগে। হলে হয়তো একটা হবে। তখন ভাবা যাবে। এরকম মনে হয়। আগে যেমন অনেক কিছু ভাবতাম বিষয়বস্তু নিয়ে। এখন সেটা চলে গেছে। কারণ পরিবেশ সেরকম নয়। অন্তত, ওয়েস্ট বেঙ্গলে।

সুমিত আপনার কাজ ইন্সটিঙ্কটিভ, যেমন বললেন। তাহলে চিত্রনাট্যে বদলও হয় তো নিশ্চয়। ফ্লোরে যাবার পর কিছু বদলাতেও হয়?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। নিজের সুবিধার জন্যই, দরকার মতো পাল্টাই। লোকেশন তো দেখতে পাই না। সে-হিসেবে কিছু চেঞ্জ হবেই। আমার কাছে লোকেশন খুব ইম্পরট্যান্ট। যেখানেই শ্যুট করি না কেন।

সুমিত এই প্রশ্নটা করতাম। আগে থেকে তো জানেন না, লোকেশন সম্পর্কে। তারপর লোকেশন দেখে কি নুতন করে লেখার ব্যাপার হয়?

ইন্দ্রাশিস নাহ, সেটাকেই আমি ইম্প্রোভাইজ করি। আমার লেখার স্ট্রাকচার, জিওমেট্রি ঠিক থাকে। কোথায় দোতলায় কী থাকবে, কোথায় উঠোন থাকবে, চারটে ঘর থাকবে। এবার চারটে ঘর থাকবে জানি না। কোথায় কীভাবে থাকবে জানি না। যেমন, ‘পিউপা’য় অত বড় বাড়িটার হাফ ব্যবহার করেছি। এভাবে তো হাফ ভেবে তো কেউ লেখে না। তখন একটু পাল্টালাম। কাকার ঘরটা একটা ডিসট্যান্সে করলাম, ঘরগুলো পাশাপাশি করলাম।

সুমিত আপনি তো ফিল্মে সংগীতের চমৎকার ব্যবহার করেছেন কিন্তু প্রিসাইজ। যেহেতু, মেলোড্রামা করতে চান না বা আবেগপ্রবণ করবেন না বলেই। এবার, আমাদের দেশের ফিল্মে তো ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তো বিরাট গুরুত্বপূর্ণ। সেভাবে দেখলে, ফিল্ম-সংগীত কীভাবে আসে আপনার কাছে?

ইন্দ্রাশিস আমার কাছে মনে হয়, সংগীত কখনও ফিল্মকে এগোবে না, হ্যাম্পার করবে না। মানে, কেউ কাঁদছে। তখন কান্নার মিউজিক দিয়ে কাঁদালে আর সিনেমার ক্রাফটের ওপর দখল কোথায়? আমার কাছে মিউজিক একটা লেয়ার হিসেবে কাজ করবে, একটা আলাদা প্লট তৈরি করবে। যার জন্য, পার্সেলের শেষ মিউজিক সিনেমা থেকে বেরিয়ে গিয়ে তৈরি করা। যেন একটা লাগামছাড়া ব্যাপার হল।

সুমিত যখন ছাদের ওপর খেলছিল…।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। তখন টেনশনের মিউজিক দিতে পারতাম। কিন্তু, অদ্ভুত একটা হাই-পিচ, হাই-রিদম একটা মিউজিক দিয়েছি যা আলাদা একটা লেয়ার তৈরি করবে। ভিজ্যুয়াল তো আছেই, অডিয়ো তো আছেই।

সুমিত মনে পড়ল, আমার মনে হয়েছিল, ওখান থেকে যেন একটা নতুন গল্প শুরু হচ্ছে সেই ধারণাও চলে এলো। এবার গল্পটা অন্য একজনের। যেন দ্বিতীয়ভাগ।

এবার জিজ্ঞেস করি, আপনি তিনটি ছবিই বানিয়েছেন নিজের গল্পে। একটা ছবির ঠিক ছিল, জানি না ঠিক, সম্ভবত, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে।

ইন্দ্রাশিস সেটা হয়নি। সেই চেষ্টা করছি।

সুমিত কিন্তু, স্ক্রিপ্ট তো আপনারই। যদি বলা হয়, স্ক্রিপ্ট তৈরি। আপনি শুধু পরিচালনা করবেন। তাহলে কি রাজি হবেন?

ইন্দ্রাশিস সেটা তখন ভেবে দেখব। যদি এই ছবিটা করার ফলে, পরের ছবিটা করতে পারি। ছবিটা করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য কিছু কম্প্রোমাইজ করতে হলেও করা যায়।

সুমিত হ্যাঁ, এটা একটা প্যাশন। অনেকে আসলে আটকে যান। সেই যেন আমার টার্মে না করলে, হবে না…।

ইন্দ্রাশিস আমি সেরকম নয়। আমার হাতে পড়লে লোকে বুঝবে আমার ছবি। আমার হিন্দি ছবি দেখলেও লোকে বলবে আমি অন্য একটা রেঞ্জে করেছি।

সুমিত এটা একটা দারুণ কথা। হিন্দি ছবিটার স্ক্রিপ্ট কার?

ইন্দ্রাশিস ওটা ট্রান্সলেট করে দিয়েছে।

সুমিত পরের পরিকল্পনাগুলো জানতে চাইব। একটা গ্রামের ওপর পলিটিক্যাল থ্রিলারের পরিকল্পনা ছিল।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ ওটা এখনও হয়নি।

সুমিত তাহলে আরও অন্য দিকও এক্সপ্লোর করার ইচ্ছে নিশ্চয় আছে।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। অনেক কিছুই করতে চাই। যখন একটা জায়গা তৈরি হবে, জানব, দু’বছরে দু’টো ছবি করতে পারব, একটা জায়গা তৈরি হবে, তখন নিজের মতো করে অনেক বেশি ভাবতে পারব। আরও ভালো ছবি করতে পারব। বিলু ছাড়া বাকি দু’টো স্ক্রিপ্ট করেছি ছবিটা হবে ঠিক তখনই। আমার আগের অনেক স্ক্রিপ্ট পড়ে আছে। অনেক ভেবে করা। দেখা যাক…।

সুমিত স্ক্রিপ্টের ক্ষেত্রে কি কিছুদিন রেখে দিয়ে দেখেন, ভালো লাগছে কিনা ইত্যাদি।

ইন্দ্রাশিস সেই লাক্সারি আমার নেই। যারা বছরে তিন-চারটে করে ছবি করে, তাদের আছে। আমাকে ছবি করতে হলে, এটাই করতে হবে ভেবে করে যাই। আমি আমার পছন্দমতো ছবির পিচ করে যাই। এবার যাদের পছন্দ হবে। 

সুমিত একটাই যদি ছবি বানাতে চাইতেন, সিনেমার ইতিহাস থেকে, সেটা কী?

ইন্দ্রাশিস শিন্ডলার্স লিস্ট। যদিও ঘটনা আমাদের নয়। কিন্তু, এটার নামই প্রথমে আসে। এত পছন্দের ছবি।

সুমিত কিন্তু, ওটা তো হলিউড। আপনি সম্পূর্ণ অন্যদিকে…

ইন্দ্রাশিস তাতে কী? আমি বলেছি, হলিউড আমার কোর্টে নয়। কিন্তু, যদি বর দেওয়া হয়, কী বানাতে চাই, আমি ওটাই বানাতে চাইব।

সুমিত আচ্ছা! হলিউড আপনার অপছন্দ সেটা নয়। সেটা সম্ভব নয় তাই…

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, আমি কোনোরকম কিছুই ওরকম ভাবি না। চোখ বন্ধ করে ওভাবে জিরো বা বাইনারিতে আমি কিছুই দেখি না। আমার চরিত্ররাও তাই।

সুমিত ঠিক ঠিক। এটা বড় ব্যাপার।

ইন্দ্রাশিস এই যে, সত্তর-আশির দশকের সব চরিত্রই ছিল হয় ভালো নয়, খারাপ। আমি সত্যজিৎ-মৃণাল বাদ দিয়েই বলছি। টু সাম এক্সটেন্ট… যেমন, সত্যজিতের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’তে সবথেকে গ্রে-ক্যারেক্টার ধরা পড়ে। আবার, অপুকে যদি দেখি, অপু বড় হচ্ছে, হচ্ছে। ওর মধ্যে খারাপ কিছু আমি দেখি না। অপু সবদিক থেকে ঠিকঠাক ছেলে। মায়ায় জড়ানোর মতো বানানো হয়েছে। এটা আমার দিক থেকে অ্যা-সিনেমাটিক আগে, আর কী! আবার বলব, আমি ওরকম ছবি বানাতে চাইব। লোকে হয়তো ভুল বুঝবে আমায়, এটা বললে।

সুমিত না, না। বুঝতে পারছি। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখা।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। মানুষ হিসেবে দেখা। আমার মধ্যে এটা ভীষণ কাজ করে। একজন দোর্দণ্ডপ্রতাপ মানুষ খুনি, ছেলে বাবাকে ইউজ করছে…।  

সুমিত আপনার তৈরি চরিত্রগুলো আপনার চেনা-জানা সব নাহলেও এক্সটেন্ডেড এক্সপেরিয়েন্স…।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, জীবনে দেখেছিও প্রচুর, সত্যি বলতে কী।

সুমিত এবার যদি বলা হয়, এমন ছবি বানানো যা কখনও দেখিনিও— ঠিক ফ্যান্টাসি বলছি না— অন্যরকম সেটাও ইচ্ছে করে করতে?

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ। আমার ইচ্ছে করে, একটা ছবি করতে, একটা মানুষ, আফ্রিকা থেকে ইউরোপ ঘুরে ভারতবর্ষে এসে নানানরকমের অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে, সোশিও-ইকোনমিক কম্প্যারেটিভ অ্যানালিসিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেই জীবন… ভীষণ ইন্টারেস্টিং। ভাবতেই পারি না।

সুমিত মানে, পরিকল্পনা করলেও যে বাস্তবায়িত হবে, সেটা নয়।

সুমিত আচ্ছা। এই যে সোশিও-ইকোনমিক-পলিটিক্যাল কথাটা উঠে এলো— আপনিও বলেছেন অনেক জায়গায়— রাজনীতি নয়, কিন্তু রাজনৈতিক সচেতনতা বলতে, কী বলবেন একজন শিল্পী বলতে?

ইন্দ্রাশিস আমাদের একটা সমস্যা আছে বলে মনে হয় যে, আমরা থ্রিলার ছবি দেখতে বসে থ্রিলটা খুঁজতে বসি। আমরা ছবি দেখতে বসেছি, থ্রিলার নাকি নয়। যেই জানতে পারলাম না কে পার্সেল পাঠাচ্ছে, আমি ক্ষেপে গেলাম। আমি আমার ছবির কথাই বলছি। তুমি দেখতে বসবে কেন, কে পার্সেল পাঠাচ্ছে তার জন্য। একইভাবে, রাজনীতি মানেই তিনটে পার্টি কেন আনব? ওরা তো রাজনৈতিক পার্টি। কিন্তু, রাজনীতি সবাই করছে। আমি ফ্যামিলিতে জানি, এই কাজটা করলে একটু প্রেফারেন্স পাব। এই কাজটা করে আমি নিজেকে জাহির করে ফেললাম। আরেকজনকে কোণঠাসা করলাম। এটা রাজনীতি নয়? আমার সব ছবিতেই আছে। এবার সেই রাজনীতি বৃহত্তর আকারে দেশীয় বা দলীয় রাজনীতি। আমি চাকরি পাচ্ছি না, বেঙ্গালুরু চলে গেলাম, এও রাজনীতি। কারণ আমাকে পর্যাপ্ত জায়গা দেয়নি। আমি অন্য জায়গা থেকে উপার্জন করতে হচ্ছে।

সুমিত আমার মনে হয়েছে, তিনটে ছবি দেখে, যেমন, ‘পিউপা’তে ছেলেটি আমেরিকায় চলে গেছে, কিংবা ‘পার্সেল’-এ স্বামী-স্ত্রী অনেক উচ্চবিত্ত, তাদের নিচের স্তর যারা মার খাচ্ছে, আবার মারছেও… এটার যে সূক্ষ্ম রাজনীতি…এটা কিন্তু সোশিও-পলিটিক্যাল জায়গাগুলোকেই ধরছে।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এই যে আছে-না, পুলিশ বলছে, এটা তো ‘বেলেবেল অফেন্স’, জেল থেকে বেরিয়ে আপনাকে (মুখ্য ডাক্তার চরিত্রটি) পেটাবে।

সুমিত একটা প্রশ্ন করলে, হয়তো সে তারাশঙ্করের জলসাঘরের প্রসঙ্গ মনে পড়বে, সেটা হল: নতুন-পুরনো দ্বন্দ্ব। যেটা ‘বিলু…’তে বিরাট আকারে ছিল। প্রত্যেকের অতীত যেন টানছে। সেটা ‘পার্সেল’ ও ‘পিউপা’তেও আছে। ‘বিলু’তে যেন সেই অতীত যেন স্বর্গীয়। সবাই ফিরে যেতে চাইছে। আর ‘পার্সেল’-এ ফিরে যেতে চাইছে না হয়তো। পরিজনদের কিছু দেওয়াকে দান হিসেবে দেখে। এই টানাপোড়েন নিয়ে যদি বলেন।

ইন্দ্রাশিস হ্যাঁ, এটা শহুরে মানুষ সম্পর্কে পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট বলতে পারো। তুমি ধরেছ একদম ঠিক। ভালোবাসি না কোথাও বলছে না, কিন্তু প্রায়োরিটি নেই। রিপোর্ট পাঠিয়েছে, দেখার সময় পর্যন্ত পায়নি। নিজের সমস্যা মিটে গেলে, রিলিভড বোধ হয়, বিবেক-বোধ জাগ্রত হয়। ভালো কাজ করি মনে হয়। নিজের সুপিওরিটি দেখানোর জায়গা। এতদিন যেটা দেখাতে পারিনি। এবার দেখাই। সেখান থেকেই তার হাসব্যান্ড বলছে, তুমি কিছু করতে যেও না। তোমার একটা হিস্ট্রি আছে, তুমি ফেঁসে যাবে। অর্থাৎ ও মরুক। তুমি ঠিক থাকে।

সুমিত এটা থেকেই মনে হয়েছে, ওপরের স্তরে চলে গেলে, বিলুর ক্ষেত্রে সেটা নয় যদিও। বিলু হয়তো ওপরে চলে গেলে এভাবে তাকে নস্টালজিয়া আক্রান্ত করত না। কিন্তু, পার্সেলের স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে নস্টালজিয়া ছেঁটে ফেলাই ভালো।

শেষ প্রশ্ন করি, আপনার ছবিকে যদি সংজ্ঞায়িত করতে হয়, জানি এভাবে বলা যায় না, সেটা কী বলব?

ইন্দ্রাশিস সেটা তোমরা বলবে। আমি বলব না।

সুমিত মানে, আপনি নিজেকে দেখতে চাইবেন চিত্রনির্মাতা হিসেবে?

ইন্দ্রাশিস আমি অনেক কিছু বানাতে চাই। বাচ্চাদের ছবি, কমেডি ছবি। কিন্তু, ওই লাক্সারি নেই যা বললাম। আমি একটা ছবির পর আরেকটা ছবি নিয়ে ভাবি না এখন। একটা-দু’টো কনসেপ্ট রেডি আছে, কেউ যদি বলে, করবেন, তখন ডেভেলভ করব। আমি তো করতে চাইই। কিন্তু, সিচুয়েশন এরকমই। এখানে ছবি করার ইকুয়েশন অন্য। ছবি করার জন্য অনেক লোক ব্যস্ত মনে হয় না।

সুমিত অনেক ধন্যবাদ। এতটা সময় দেবার জন্য। খুবই ভালো লাগল। আশা করি, পাঠকদেরও ভালো লাগবে।         

টাটকা খবর বাংলায় পড়তে লগইন করুন www.mysepik.com-এ। পড়ুন, আপডেটেড খবর। প্রতিমুহূর্তে খবরের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন। https://www.facebook.com/mysepik

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *