বাবা নয়, মায়ের জন্যই বুদ্ধি বাড়ে সন্তানের, সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

প্রায়ই আমাদের মধ্যে দেখা যায় সন্তান কোনও ভুল করলে তখন বাবা-মা একে অপরকে দোষারোপ করতে শুরু করেন। প্রায়ই তাদের বলতে শোনা যায়, তোমার জন্য এমন হয়েছে বা তোমার সন্তান এমন করেছে। অথচ সেই সন্তান যখন কোনও ভাল কাজ করে কিংবা সেই সন্তান যখন খুব বুদ্ধিমান হয়, তখন অবশ্য সেই দৃশ্যটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। বাবা-মা প্রত্যেককেই বলতে শোনা যায় কার সন্তান দেখতে হবে তো। অর্থাৎ প্রত্যেকেই সন্তানের ভাল কিছুর জন্য নিজেদেরকেই বাহবা দিতে চায়। সন্তানের বেড়ে ওঠার সময়গুলোতে দেখতে কেমন, তার স্বভাব কেমন, এই সব কিছুতেই মা বাবার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। সন্তানের বেড়ে ওঠায় বাবা-মায়ের প্রায় সমান অবদান থাকলেও তার বুদ্ধি বিবেচনাবোধ কিন্তু মায়ের দিক থেকে আসে। এটা অবশ্য কথার কথা নয়, সমীক্ষা বলছে এই কথা।

আরও পড়ুন: মেকআপ ছাড়াই সুন্দর হয়ে ওঠার টিপস

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সন্তানের মাথায় যে বুদ্ধি তৈরি হয়, তা আসে মায়ের থেকে, বাবার থেকে নয়। চাঞ্চল্যকর এই রিপোর্টে সন্তানের পিতারা আপত্তি জানালেও এটাই সত্যি কথা। সমীক্ষা অন্তত সেই কথাই বলছে। সম্প্রতি আমেরিকায় মোট ১২ হাজার জনের ওপর একটি সমীক্ষা করা হয়। সেই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সন্তানের বুদ্ধি কেমন হবে, সেটা নির্ভর করে মায়ের জিনের ওপরেই। সেখানে বাবার তেমন ভূমিকা নেই। আর এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, প্রায় প্রতিটি পরিবারে মায়ের সঙ্গে সন্তান বেশি সময় থাকে। এজন্য মায়ের আচরণ, ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধির প্রভাব সন্তানের ওপর বেশি। অর্থাৎ সহজ কথায়, বাচ্চারা তাদের মায়ের কাছ থেকেই বুদ্ধিমত্তার গুণ গ্রহণ করে থাকে, বাবার কাছ থেকে নয়।

আরও পড়ুন: প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রোযায় যেভাবে সুস্থ থাকবেন

সাইকোলজি স্পট নামক একটি জার্নালে একটি সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছ। ১৯৯৪ সালে ১ থেকে ২২ বছর বয়সি ১২,৬৮৬ জনের ওপর একটি স্যাম্পেল সার্ভে করা হয়েছিল। জাতি, শিক্ষার স্তর, আর্থ-সামাজিক স্ট্যাটাস সম্পর্কে শিশুদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আবার ওই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল মায়েদেরও। রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে বুদ্ধিমত্তার জিনটি X ক্রোমোজোমের সঙ্গে জড়িত। এটি আবার প্রধান ফিমেল ক্রোমোজোম। সাধারণত মহিলাদের মধ্যে X ক্রোমোজোমের সংখ্যা দ্বিগুণ। সেক্ষেত্রে সন্তানের মধ্যে সেই বুদ্ধিমত্তার জিন সরবরাহ করে দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। অন্যদিকে বাবার জিনগুলি সন্তানের বুদ্ধিমত্তায় খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে বা একেবারেই ফেলে না।

Facebook Twitter Email Whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *